মনোরোগের এক চতুর্থাংশই কর্মক্ষেত্রজনিত অবসাদ, বলছেন গবেষকরা

0

মেলবোর্ন: ‘মন ভালো নেই…মন ভালো নেই’, এটুকু বুঝেই কাজ শেষ। মনের স্বাস্থ্য খারাপ হলে আমরা গুরুত্ব দিই না প্রথম দিকে। কিন্তু এ তো হেলাফেলা করার মতো অসুখ নয়। সদ্য পার করে এলাম বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এ বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূল ভাবনাই ছিল – ‘ডিপ্রেশন, লেটস্‌ টক’। বিশেষজ্ঞদের গবেষণা বলছে ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের ২৫ শতাংশই পেশা অথবা কর্মক্ষেত্রজনিত অবসাদ।

দীর্ঘ কর্ম-সময়, ডেডলাইনের চাপ, বাড়ি থেকে কর্মক্ষেত্রে যাওয়ার পথে যানজট মানুষের মনে একটু একটু করে জন্ম দিচ্ছে নানা মনের রোগের। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক চি এনজি বলছেন, “কর্মক্ষেত্রে তৈরি হওয়া মানসিক অবসাদ যে শুধুই কর্মীর কর্মক্ষমতা নষ্ট করছে তা-ই নয়, নিয়োগকারী সংস্থার আর্থিক ক্ষতিও হচ্ছে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী ভারতে প্রায় ৫ কোটি মানুষ অবসাদে ভুগছেন। 

আরও পড়ুন;  ‘বাজে বস’ বা ‘অপর্যাপ্ত বেতন’-এর কারণে চাকরি ছাড়তে চাইছেন অনেকে

সম্প্রতি জিন্দাল গ্রুপের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সেমিনারে জিন্দাল ইনস্টিটিউট অব বিহেভিয়ারাল সায়েন্সেস-এর মুখ্য ডিরেক্টর সঞ্জীব সাহনি বলেছেন, “ভারতে এই মুহূর্তে ৮৯৮জন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট রয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ১৩ লক্ষ মনোরোগীর জন্য এক জন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছে ৩৮০০ জন। সংখ্যাটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। দেশের প্রতিটি জেলায় মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করা দরকার। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে মনোরোগের কিছু ওষুধ যাতে পাওয়া যায়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।

সেমিনারে উপস্থিত থাকা বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই বক্তব্য ছিল, মানুষকে বুঝতে হবে, অবসাদ শরীরর দুর্বলতা থেকে আসে না। মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে জন্ম নেয় অবসাদ। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের মত, “বিশ্বায়নের প্রভাব শুধুমাত্র ব্যক্তির আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেই পরিবর্তন আনেনি, তাঁর ভালো থাকা বা না থাকাকেও নির্ধারণ করেছে”।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here