হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখুন, জেনে নিন ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

0
688

নয়াদিল্লি : দেশে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বার্ষিক ২০ লক্ষ। প্রতি ৩৩ সেকেন্ডে ১ জন মানুষ এই রোগে প্রাণ হারান। এই রোগ নিয়ে বিশ্ব জুড়ে চলছে নানা গবেষণা। সেই সব গবেষণায় হৃদরোগের কারণ হিসেবে অনেকগুলো দিক উঠে এসেছে। আবার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কী ভাবে কমানো যায় তার উপায়ও বাতলানো হয়েছে। কোলাহলকে যেমন ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে তেমনই ব্যায়াম আর স্তন্যপান করানোর মতো কিছু বিষয়কে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে বেশির ভাগটাই জীবনযাত্রার স্টাইলের সঙ্গে ভীষণ ভাবে জড়িয়ে।

১) কোলাহল হৃদস্পন্দনকে প্রভাবিত করে

যুক্তরাজ্যের নটিংহাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা হৃদরোগ নিয়ে গবেষণা করে জানিয়েছেন, সমানে কোলাহলের মাত্রার পরিবর্তন হওয়াটা হৃদয়ের ওপর কুপ্রভাব ফেলে। এমনকি তা যদি খুব সামান্য পরিমাণেও হয়, তা হলেও তা তৎক্ষণাৎ আর ভয়ংকর প্রভাব ফেলে। তাতে সঙ্গে সঙ্গে হৃদয়ের স্বাভাবিক স্পন্দনমাত্রার পরিবর্তন হয়ে যায়।

২) সপ্তাহান্তের বেশি ঘুমও হৃদরোগের কারণ হতে পারে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, সপ্তাহের মাঝে না, সপ্তাহের শেষে ঘুম থেকে বেশি দেরি করে ওঠার অভ্যাস মানুষকে হৃদরোগের দিকে ঠেলে দেয়। এতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা ১১% বেড়ে যায়। অতএব, নিয়মিত ঘুম এবং ঘুমের সময়কাল দু’টোই স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

৩) ওজন তোলার অভ্যাস হৃদরোগ থেকে অনেকটাই মুক্তি দিতে পারে

নেদারল্যান্ডের রাডবাউড ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষকদের গবেষণা থেকে দেখা গেছে, যাঁরা সপ্তাহে এক ঘণ্টা মতো সময় ধরে ব্যায়াম অথবা ওজন তোলার অভ্যাস করেন, তাঁদের মেটাবলিক সিনড্রোম হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

৪) রক্তের গ্রুপের ওপরও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া নির্ভর করে

কোলে অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক স্তরে একটা গবেষণা করা হয়। তাতে বলা হয়েছে, মানুষের রক্তের গ্রুপও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী। গবেষণা থেকে মনে করা হচ্ছে ‘এ’, ‘বি’, ‘এবি’ গ্রুপের রক্ত যাঁদের শরীরে বইছে তাঁদের যে কোনো রকম হৃদরোগের আশঙ্কা খুবই বেশি। বিশেষ করে ‘হার্ট অ্যাটাক’ হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এ ছাড়াও এঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, উচ্চ কোলেস্টেরল, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো রোগগুলোতেও ভোগার আশঙ্কা বেশি থাকে। তবে এই রক্তের অনেকেই আছেন যাঁদের এই সমস্যার কোনোটিই নেই। তুলনায় ‘ও’ গ্রুপের মানুষের এই আশঙ্কা অনেক কম।

৫) স্তন্যপান করানো মহিলাদের হৃদরোগের আশঙ্কা তুলনায় কম

আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের একটা পত্রিকায় একটা গবেষণা পত্র প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিশুদের বুকের দুধ পান করালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক কমে যায়। এমনকি ভবিষ্যতে স্ট্রোকের সম্ভাবনাও ১০ ভাগ কমে যায়।

৬) এক প্রজাতির মানুষের জিনেই রয়েছে হৃদয়ের রক্ষাকবচ

যুক্তরাজ্যের ওয়েলকাম ট্রাস্ট স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউট-এর গবেষকরা এমন একটা জিন আবিষ্কার করেছেন যা হৃদযন্ত্রের রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করে। এই জিন আবিষ্কৃত হয়েছে গ্রিসের প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষদের মধ্যে। প্রাণীজ প্রোটিন ফ্যাট ইত্যাদি খুব বেশি মাত্রায় খাওয়ার পরও এঁদের হৃদরোগ হয় না, এই জিনের কারণে।

৭) হৃদযন্ত্র নিজে নিজে হৃদকোষের জন্ম দিতে পারে না, ফলে ক্ষতিপূরণ করতে পারে না

বেলোর কলেজ অব মেডিসিনের রিজেনারেটিভ মেডিসিন বিভাগের গবেষকরা লক্ষ করেন হৃদয়ের কোষগুলো দেহের অন্যান্য অংশের কোষের তুলনায় কম পুনর্নবীকৃত কোষ দ্বারা গঠিত। অর্থাৎ হৃদকোষগুলো এক বার খারাপ হলে আবার জন্মানোর সম্ভাবনা কম। এই গবেষণাটি ‘নেচার’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।

৮) মানসিক চাপ হৃদরোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে

জার্মানির মিউনিখের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা গবেষণা বলছে, অবিরাম, দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, অবসাদ হৃদরোগে মৃত্যুর আশঙ্কা চার গুণ বাড়িয়ে দেয়।

৯) অলিভ অয়েল খেলে কোলেস্টেরল কমতে পারে, কমতে পারে হৃদরোগের আশঙ্কা

বোস্টনের হার্ভার্ড টি এইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথের একটা গবেষণার কথায় আসি। এই গবেষণা বলছে, সুস্থ হৃদয়ের জন্য অলিভ অয়েলের মতো স্বাস্থ্যকর স্নেহ পদার্থ খাওয়া যেতে পারে। অলিভ অয়েল খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমে।

১০) ঋতুর পূর্ব লক্ষণগুলিও হৃদরোগের পূর্ব লক্ষণ হতে পারে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পিটাসবার্গ বিশ্ববদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, যে সব মহিলার ঋতুর পূর্বে রাতে ঘাম হয়, গরম লাগে তাঁদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here