নিউমোনিয়ায় প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে একজন করে শিশুর প্রাণ গিয়েছে: স্বাস্থ্য সংস্থা

0
child
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: ভারত, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, ইথিওপিয়াতে গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে নিউমোনিয়ায় মারা যাওয়া শিশুর সংখ্যা এই রোগে মারা যাওয়া মোট সংখ্যার অর্ধেকের বেশি। এদের বয়স দুই বছরের মধ্যে।

প্রতিরোধযোগ্য ও নিরাময়যোগ্য ব্যধি হওয়া সত্বেও নিউমোনিয়ায় গত বছর আট লক্ষেরও বেশি শিশু মারা গিয়েছে। অথবা বলা যেতে পারে, প্রতি ৩৯ সেকেন্ডে একটি শিশু মারা গিয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি রিপোর্টে সে কথা জানিয়েছে।

ওই রিপোর্টে এই নিউমোনিয়াকে ‘ফরগটেন এপিডেমিক’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। এই রোগের চিকিৎসার উন্নতিতে ও তার জন্য উপযুক্ত ভ্যাকসিন অর্থাৎ প্রতিষেধক ও ওষুধ তৈরি করতে যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ বরাদ্দ করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে ইউনিসেফ ও বিশ্বের আরও পাঁচটি স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই বিষয়ে গ্যাভি ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের চিফ এক্সিকিউটিভ শেঠ বার্কলে বলেন, নিউমোনিয়া একটি সহজে ধরা পড়ে যাওয়া রোগ, এটি নিরাময় যোগ্য, প্রতিরোধযোগ্যও বটে। তা সত্বেও এই এত পরিচিত একটি রোগই শিশুদের জন্য ভয়ানক মহামারী হিসাবে বিশ্বে রয়েছে। এটি খুবই আতঙ্কের এবং দুঃখেরও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন দূষিত বাতাস শিশুদের নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার একটি বড়ো কারণ। তাই ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ মুক্ত করতে হলে পড়ুন – ঘরের ভেতরের দূষণ ক্ষতি করে বেশি, বিশুদ্ধ বাতাসের জন্য ৫টি সহজ উপায়

উল্লেখ্য, নিউমোনিয়া হল একটি ফুসফুস সংক্রান্ত রোগ। এটি সাধারণত হয়, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ও ভাইরাসের আক্রমণের কারণে। এই সবে আক্রান্ত রোগীর ফুসফুস পুঁজ, সর্দি ও তরল পদার্থে পূর্ণ হয়ে যায়। তার ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস চালিয়ে যাওয়ার জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হয় রোগীকে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের দ্বারা এর প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে বাড়াবাড়ি ক্ষেত্রে অনেক সময়ই অক্সিজেন দিতে হয়। কিন্তু পরিসংখ্যান অনুযায়ী গরিব দেশগুলিতে এগুলি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।  

সেভ দ্য চিলড্রেন সংস্থার চিফ এক্সিকিউটিভ কেভিন ওয়াটকিন্স বলেন, অক্সিজেন, ভ্যাকসিন, সস্তার অ্যান্টিবায়োটিক, ওষুধ ইত্যাদির অভাবে লক্ষ লক্ষ শিশু মারা যাচ্ছে। এটি একটি ‘ফরগটেন গ্লোবাল এপিডেমিক’। এই ব্যাপারে সত্বর আন্তর্জাতিক স্তরে সাড়া জাগানো দরকার।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মৃতদের মধ্যে ১৫%-ই পাঁচবছরের কম বয়সি শিশু। কিন্তু সেই তুলনায় গবেষণার কাজে খুব সামান্যই ব্যয় করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.