ওয়েবডেস্ক: না, বাঁ দিক ফিরে শুলে পুত্রসন্তানের জন্ম হবে, এটা কিন্তু সে ধরনের কুসংস্কার নয়। বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বলছে শীত অথবা বসন্তে সন্তানের জন্ম দেন যে মায়েরা, তাঁদের প্রসব-পরবর্তী অবসাদ অনেকটাই কম হয়। এর পেছনে বিজ্ঞানসম্মত কারণ রয়েছে। শীত এবং বসন্তের আবহাওয়া মনোরম থাকায় ঘরের ভেতরেই সন্তানের সঙ্গে মায়ের সময় কাটানোর নানা উপায় থাকে। ফলে, সদ্য মা হওয়া মহিলারা অবসাদগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ পান না।

২০১৭-র অ্যানেশস্থেশিওলজি-র বার্ষিক বৈঠকে পেশ হওয়া রিপোর্ট বলছে, প্রসবের সময় যাঁদের অ্যানাশস্থেশিয়া দেওয়া হয় না, প্রসবের পরে সেই সব মহিলার ক্ষেত্রেই অবসাদ বেশি হয়। কারণ অ্যানাশস্থেশিয়া প্রসবযন্ত্রণার অনুভূতি কমিয়ে দেয়। অন্য দিকে যাঁদের তা দেওয়া হয় না, প্রসবের অনেক দিন পর পর্যন্ত মায়েদের মনে সেই যন্ত্রণা বোধ থেকে যায়। যা থেকে জন্ম নেয় আতঙ্ক এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবসাদ। সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর শারীরিক ক্লান্তি এবং হরমোনঘটিত নানা পরিবর্তনের ফলে অবসাদ ঘিরে ফেলা অস্বাভাবিক নয়। ইংরেজিতে একে বলে পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশন। সমীক্ষা বলছে পৃথিবীর প্রায় ১০ শতাংশ মা এই অবসাদের শিকার।

বোস্টনের ‘ওম্যানজ হসপিটাল’-এর ডিরেক্টর জি জউ-এর কথায়, “প্রসব-পরবর্তী অবসাদকে প্রভাবিত করে কোন কোন বিষয়, তা আমরা অনেক দিন ধরেই বার করার চেষ্টা করছিলাম। তার সঙ্গে চেষ্টা চালাচ্ছিলাম কোনো ভাবে সদ্য মা হওয়া মহিলাদের মানসিক এবং শারীরিক স্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নতি ঘটানোর।” জুন ২০১৫ থেকে আগস্ট ২০১৭ পর্যন্ত ২০১৬৯ জন মহিলার ওপর সমীক্ষা চালিয়েছেন জি জউ এবং তাঁর দলের সদস্যরা। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, এঁদের মধ্যে ৮১৭ (৪.১ শতাংশ) জন মহিলা পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশনের শিকার। প্রসব-পরবর্তী অবসাদের কিছু সাধারণ লক্ষণ হল অহেতুক বিষণ্ণ থাকা, অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব, মনঃসংযোগ নষ্ট হওয়া ইত্যাদি।