রেড মিট এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস ঝুঁকি বাড়াচ্ছে হৃদরোগের, বলেছে বিশ্বের বৃহত্তম গবেষণা

0
রেড মিট। ছবি: healthline.com থেকে

খবর অনলাইন ডেস্ক: রেড মিট এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস পরবর্তী জীবনে করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ১৪ লক্ষ মানুষের উপরে সমীক্ষা চালিয়ে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ক্রিটিক্যাল রিভিউ ইন ফুড সায়েন্স অ্যান্ড নিউট্রিশন পত্রিকায় বুধবার প্রকাশিত হয়েছে এই সমীক্ষা। বলা হয়েছে, এ ধরনের মাংস খাওয়ার অভ্যেস বেড়ে যাওয়ার কারণে করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি বেড়েছে।

কোন মাংসে কতটা ঝুঁকি?

করোনারি আর্টারি ডিজিজ বিশ্বব্যাপী মৃত্যু এবং অক্ষমতার প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। হৃদপিণ্ডে রক্ত সরবরাহ করে এমন ধমনীর দেওয়ালে ফলক তৈরি করে দেয় এই কোলেস্টেরলের চর্বিযুক্ত কণাগুলি। যে কারণে গবেষকরা বলেছেন, গরু, ভেড়া, শূকরের মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়া মোটেই সুস্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়।

আমেরিকান ক্যানসার সোসাইটির গবেষণাপত্রটিতে দাবি করা হয়েছে, প্রতি বার ১.৭৫ আউন্স (৫০ গ্রাম) গরু, ভেড়া এবং শূকরের মাংস খাওয়ার জন্য করোনারি হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। আবার এ ধরনের একই পরিমাণ প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার জন্য অসুখের ঝুঁকি বেড়েছিল দ্বিগুণ, বা ১৮ শতাংশ।

Shyamsundar

নেতিবাচক প্রভাবগুলি কী?

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংখ্যার স্বাস্থ্যের বিভাগের পুষ্টি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তথা এই সমীক্ষার সহ-গবেষক আনিকা ন্যাপ্পেল বলেছেন, “প্রক্রিয়াজাত মাংস করোনারি হার্ট ডিজিজের জন্য আরও খারাপ। এটা অন্ত্রের ক্যানসারের কারণ হিসেবেও উঠে এসেছে, যা রিড মিটের থেকে আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ”।

এমনিতে বিভিন্ন গবেষণায় জানা গিয়েছে, সাদা মাংসের তুলনায় লাল মাংস স্বাস্থ্যের উপর অনেক বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। রেড মিটের সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত থাকে। যাতে হজমে ব্যাঘাত ঘটার সঙ্গেই পাকস্থলিতে বাড়তি চাপ দেয়। যে কারণে এ ধরনের মাংস খাওয়ায় হার্টের রোগ, কোলোরক্টাল ক্যানসার এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে গবেষকরা দাবি করেন।

ঝুঁকি এড়ানোর উপায় কী?

গবেষকরা দাবি করেছেন, হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিনের খাওয়া-দাওয়ায় অবশ্যই শাক-সবজির উপর নির্ভরশীলতা বাড়াতে হবে।

তাঁরা আরও বলেছেন, প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় গোটা দানাজাতীয় শস্য, সবজি, দুগ্ধজাতীয় খাবার অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। এ ছাড়া বাদাম জাতীয় খাবারও অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে। এ ধরনের খাদ্যতালিকা ব্লাড প্রেসার কমাতে বা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়ক।

আরও পড়তে পারেন: খালি পেটে খান মৌরি-ভেজানো জল, এক সপ্তাহেই লক্ষ করুন পরিবর্তন

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন