হাতিশুঁড় 2
biswajit-parhak
বিশ্বজিৎ পাঠক

প্রথমেই বলে রাখা ভালো এই গাছে রয়েছে বিষাক্ত পাইরোলিজিডিন অ্যালকোলয়েড। এই বিষের প্রভাবে মানব শরীরে টিউমারের সৃষ্টি হতে পারে। ফলে ব্যবহারের সময় সতর্কতা অবলম্বন একান্ত জরুরি। তাই বলে এখানেই শেষ না করে জেনে নিন এর অসীম ক্ষমতার কথা। কারণ, পাতার মধ্যে থাকা ভেষজ গুণ থেকে বঞ্চিত হলে দেদার খরচ করতে হবে ওষুধের পিছনে। তারও তো একটা সাইড এফেক্ট থাকেই!

রাস্তার ধারে, ঝোপে-ঝাড়ে একটু নজর ফেললেই দেখতে পাওয়া যায় এই হাতিশুঁড়। বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন নামে পরিচিত এই গাছ। হাতিশুঁড়, হস্তিশূঁড়, হস্তিশূণ্ডি বা মহাশূণ্ডি নামে ডাকা হয় এই ভেষজ উদ্ভিদটিকে। শুধু ভেষজ বললে ভুল হয়, এর জৈব রাসায়নিক উপাদান বর্তমানে ওযুধ প্রস্তুতিতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ বার আসা যাক কাজে। হাতিশুঁড়ের সব থেকে বেশি কার্যকরী দিকটি বর্তমানে গুরুত্ব হারাচ্ছে নির্দিষ্ট রোগের প্রকোপ কমায়। চোখ ওঠা বা জয়বাংলা অথবা কনজাংটিভাইটিস নামের রোগটি একসময় জাঁকিয়ে বসলেও এখন আর ততটা শক্তিশালী নয়। এই রোগে অব্যর্থ কাজ করে হাতিশুঁড় পাতার রস। তবে দৈনন্দিন জীবনে শরীরের যে কোনো জায়গায় চোট লাগার ব্যাপারে পরখ করে দেখা যেতে পারে এই পাতাটি। কুঁচকির ব্যথা হোক বা কোনো জায়গায় অনবধানতা বশত লেগে গিয়ে ব্যথা, ফুলে ওঠা-সবতেই কার্যকরী হাতিশুঁড়ের পাতার নির্যাস।

হাতিশুঁড়

শুধু কি তাই, সন্ধিস্থলের বাত বা গেঁটেবাতের কিংবা রেহমাতিক যন্ত্রণার উপশমে সমান ভাবে প্রযোজ্য হাতিশুঁড়। তবে এ ক্ষেত্রে রেড়ির তেলের সঙ্গে পাতার রস গরম করে নিয়মিত লাগাতে হবে।

আরও পড়ুন: পাতা চিবোন, ১০০ টাকা কেজি দরের ফলের থেকেও কাজ দেবে বেশি

ব্যথার কথা বললেই চলে আসে গলার কথা। প্রায়শই গলা ব্যথার শিকার হতে হয় আমাদের। পাশাপাশি জ্বালা ভাব অনুভব করা, ঠান্ডা কিছু খাওয়া বা পানের পরে গলায় অস্বস্তি অনুভব হওয়া সবেতেই হাতিশুঁড়ের পাতার রস ব্যবহার করা যায়। এ ক্ষেত্রে পাতার তিন-চার ফোঁটা রস হালকা গরম জলে মিশিয়ে গার্গেল করতে হবে। তবে হ্যাঁ, ভূমিকায় উল্লেখিত সতর্কতা বার্তা নিয়ে এ ক্ষেত্রে চিন্তার কিছু নেই। এ ভাবে নিয়মিত ব্যবহারে সহজেই উপশম পাওয়া যেতে পারে ফ্যারিনজাইটিস  বা ল্যারিঞ্জাইটিসের মতো বহু ব্যয়েও নিরাময় না হওয়া ব্যাধি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here