‘জিকা’ সংক্রমণের আশঙ্কায় অলিম্পিক স্থগিত বা সরানোর দাবি তুললেন বিজ্ঞানীরা

0

খবর অনলাইন: ‘জিকা’র প্রাদুর্ভাবের জন্য রিও থেকে অলিম্পিক সরিয়ে নেওয়া বা রিও অলিম্পিক স্থগিত রাখার জন্য আবেদন জানালেন বিশ্বের প্রথম সারির শ’দেড়েক বিজ্ঞানী। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (হু) লেখা এক খোলা চিঠিতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘জিকা’ ভাইরাস সম্পর্কে যে সব নতুন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রিও-তে অলিম্পিকের আসর বসানো ‘অনৈতিক’ কাজ হবে। বিজ্ঞানীদের দাবি, ‘জিকা’ সংক্রমণের জন্য শিশুরা জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মাচ্ছে। তাই ‘জিকা’ সংক্রান্ত নীতি দ্রুত সংশোধন করার জন্য হু-কে অনুরোধ করেছেন বিজ্ঞানীরা। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) অবশ্য মে মাসেই জানিয়ে দিয়েছে, ‘জিকা’র জন্য অলিম্পিক স্থগিত রাখা বা রিও থেকে তা সরিয়ে দেওয়ার কোনও কারণ নেই। উল্লেখ্য, আগামী ৫ আগস্ট থেকে ব্রাজিলের রিও শহরে অলিম্পিক আসর বসছে।

মশাবাহিত এই রোগটি এক বছর আগে ব্রাজিলে দেখা দেয় এবং খুব তাড়াতাড়ি এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। এখন বিশ্বের ৬০টি দেশে এই রোগের প্রকোপ দেখা যাচ্ছে। ‘জিকা’র উপসর্গ ‘মৃদু’। কিন্তু হু-কে লেখা চিঠিতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘জিকা’র সংক্রমণে নবজাতকরা অস্বাভাবিক ছোট মাথা নিয়ে জন্মাচ্ছে এবং কখনও কখনও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এক ধরনের বিরল স্নায়ুতন্ত্রীয় উপসর্গ দেখা যাচ্ছে যা মাঝেমাঝে প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

অক্সফোর্ড, হার্ভার্ড, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিশ্বের বহু নামজাদা প্রতিষ্ঠানের শ’দেড়েক বিজ্ঞানী, চিকিৎসক এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নীতিবিশারদরা ওই চিঠিতে সই করেছেন। তাঁরা চিঠিতে ব্রাজিলের ‘দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা’ এবং মশা দূরীকরণ কর্মসূচির ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে ‘জনস্বাস্থ্যের খাতিরে’ অলিম্পিক স্থগিত করা বা সরানোর দাবি তুলেছেন। তাঁরা বলেছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ বিদেশি পর্যটক অলিম্পিক গেমস্‌ দেখতে আসবেন। অকারণে একটা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকবে তাঁদের। তাঁরা যদি ‘জিকা’ ভাইরাস নিয়ে দেশে ফেরেন তা হলে সেই দেশেও এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিপদ আরও বাড়তে পারে যদি ‘জিকা’র প্রকোপ দেখা দেয়নি এমন কোনও দরিদ্র দেশের অ্যাথলিট এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে ফেরেন।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন