suffering from sexual problems
dr. dipankar ghosh
দীপঙ্কর ঘোষ

একটা বয়স অবধি বাচ্চাদের নারী, পুরুষ খুব ভেদাভেদ থাকে না। তার পর যৌবন নিকুঞ্জের পাখি ডাক দিয়ে ওঠে। তখন থেকেই ছেলে আর মেয়ে এই ভেদটা যেমন তৈরি হয় তেমন দু’জনেরই দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়।
মেয়েদের মধ্যে সন্তানধারণ এবং সংসার কামনা জাগে। ছেলেদের বীজবপন আর সংসার রক্ষা করার বাসনা তৈরি হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে উভয়ের শরীরে এবং মনে যৌনতা জাগে।

যে হেতু টেস্টোস্টেরন হর্মোনটি ঈস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরনের থেকে বেশি সংবেদনশীল তাই পুরুষ‍রা বেশি আগ্রাসী বা একটু মারকুটে ধরনের হয়। পুরুষের কাঁধ চ‌ওড়া হয়, লোমশ শরীর হয় (অন্তত মেয়েদের থেকে লোমশতর), মাথার ডান ও বাম ভাগে চুল সামান্য কম থাকে (male pattern of baldness)। অন‍্য দিকে মেয়েদের কোমর বা পেলভিস চ‌ওড়া হয়, যাতে সন্তান প্রসবের সুবিধা হয়। গৌণ এবং প্রাথমিক যৌন লক্ষণসমূহ দেখা দেয়, গলার স্বর ছেলেদের থেকে সরু বা high pitched হয়। মেয়েরা সাধারণত ধীর-স্থির হয়।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান: কী হতে পারে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব‍্যবহারে

আমাদের প্রথমে জানতে হবে যৌনতার বাস কোথায়? যৌন অঙ্গে না মনের কোণে? মনের মধ্যে যদি ভীষণ কোনো দুশ্চিন্তা বা মানসিক অবসাদ থাকে, তা হলে কিন্তু নারী, পুরুষ নির্বিশেষে যৌন ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। তেমনই মানসিক রোগে অনেকেই অস্বাভাবিক যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হতে পারে। আমরা বহু দম্পতির দেখা পাই যাঁরা মানসিক অশান্তির জন্য যৌনসমস্যায় ভুগছেন।
কিন্তু বয়ঃসন্ধিকালের যৌনসমস্যার সঙ্গে এই বক্তব্যের যোগাযোগ কোথায় সে বিষয়ে আমরা সবার শেষে আলোচনা করব।

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পেশাগত ভাবে প্রচুর অল্পবয়সি রোগী পাই যারা নানা রকম যৌনতাঘটিত সমস্যা নিয়ে আসে।
অল্পবয়সি ছেলেদের প্রায়শই nocturnal ejaculations বা semen emission বা সাধারণ ভাষায় Nightfall হয়। বাংলায় একে স্বপ্নদোষ বলে বলা হয়েছে। এই নামকরণের মধ্যেই লুকিয়ে আছে পাপবোধ। না, এটা কোনো দোষ নয় অথচ বহু কমবয়সি ছেলে এই নিয়ে একটা ভয়ানক অপরাধবোধে ভোগে। ওই সময় নানান পদ্ধতির চিকিৎসার সাহায্য নেয় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক উত্তর পায় না। তার কারণ ভারতের সামাজিক প্রেক্ষিতে খোলামেলা যৌন আলোচনার খুব একটা জায়গা নেই। ইস্কুলে যৌনশিক্ষার নাম করা হলেই সব দলের লোকজন এমন হইচই জুড়ে দেয় যেন একটা মহাপাপ করা হচ্ছে। অথচ বারো থেকে চোদ্দো বছরের ছেলেমেয়েগুলো যে প্রতিনিয়ত নতুন একটি অভিজ্ঞতা অনুভব করছে – সেটা তাকে পীড়িত করছে – ভবিষ্যতে যৌন শীতলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, সেই ব‍্যাপারটা কেউ মাথায় রাখে না। প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে বীর্য তৈরি হয় এবং সেই বীর্য একটা ছোট্টো থলিতে জমা থাকে। যখনই সেই থলিটা ভর্তি হয়ে যায় তখন সাধারণত অচেতন অবস্থায় অর্থাৎ ঘুমের মধ্যে থলিটা সঙ্কুচিত হয়ে বাড়তি বীর্য বেরিয়ে যায়। এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনা। এবং আমরা সাধারণ অর্থে ধরে নিই যে এই শারীরবৃত্তীয় ঘটনার অনুপস্থিতি – অর্থাৎ কোনো হরমোনের অভাব থাকলেও থাকতে পারে।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান: কেটে গেছে? টিটেনাস ঠেকাতে কী করবেন?

দ্বিতীয়ত, আসে হস্তমৈথুন বা masturbation, এটা নারী, পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক। এর ফলে শারীরিক দুর্বলতা বা যৌন অক্ষমতা, কিছুই হয় না। তবে কোনো কিছুই অত‍্যধিক ভালো নয়। যদি দেখা যায় যে নারী বা পুরুষের সারা দিন ওই ব‍্যাপারটি নিয়েই কেটে যাচ্ছে তা হলে বুঝতে হবে তার শরীরে বিপরীত লিঙ্গের প্রয়োজন গুরুতর হয়ে উঠেছে।

আরও একটি অভ্যাস হল, নীল ছবি বা pornography দেখা। এটা নারী পুরুষ নির্বিশেষে একটা স্বাভাবিক ঔৎসুক‍্য। তবে জেনে রাখা উচিত ওই সব ছবিতে যে সব অভিনেতা-অভিনেত্রী অভিনয় করেন তাঁদের ওষুধ খাইয়ে ক্ষমতা বাড়ানো হয়। এবং বহু রকম কারিগরি দক্ষতার সাহায্যে সিনেমা চিত্রায়িত করা হয়। স্বাভাবিক জীবনে বা ব‍্যক্তিগত জীবনে এগুলো সম্ভব নয়।

এ ছাড়া এমন বহু গভীর ব‍্যক্তিগত প্রশ্ন এবং সমস্যা নিয়ে মানুষ আমাদের চৌখুপি ঘরে আসেন যার অধিকাংশ যৌন অজ্ঞতা থেকেই তৈরি হয়।

এখন প্রশ্ন হল, কিশোর-কিশোরীদের এই সমস্যা থেকে মুক্ত রাখার উপায় কী? কার্যত উপায় একটাই। স্কুল স্তরেই সঠিক যৌনশিক্ষা প্রদান। স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় ঘটনাগুলি সম্পর্কে তাদের অবহিত করা। এ ব্যাপারে বাবা-মায়েরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। যৌন সমস্যা নিয়ে তাদের প্রশ্নগুলি এড়িয়ে না গিয়ে, বা উলটোপালটা কথা না বলে, সঠিক উত্তর দিতে চেষ্টা করতে হবে তাঁদের। গোটা ব্যাপারটা সঠিক ভাবে জানতে তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শ তো নিতেই পারেন।

(লেখক একজন সাধারণ চিকিৎসক)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here