Homeশরীরস্বাস্থ্যশীতে মাথা ঢেকে ঘুমোচ্ছেন? বাড়ছে শ্বাসকষ্ট-ঝুঁকি, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

শীতে মাথা ঢেকে ঘুমোচ্ছেন? বাড়ছে শ্বাসকষ্ট-ঝুঁকি, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

প্রকাশিত

শীতে জবুথবু গোটা বাংলা। সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পারদ প্রতিদিন নিম্নগামী হচ্ছে। ঠান্ডার প্রকোপ যত বাড়ছে ততই মানুষ মোটা লেপ-কম্বল ও চাদরে ঢেকে ফেলছে। বিশেষ করে শীতে অনেকেরই অভ্যাস থাকে আপাদমস্তক লেপ বা কম্বলে ঢাকা দিয়ে শোওয়ার। এই পদ্ধতিতে হয়ত ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচা যায় কিন্তু শারীরিক বিপদের আশঙ্কা বাড়ে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আপাদমস্তক লেপ বা কম্বলে মাথা ঢেকে শুলে বিশেষ করে মুখ ঢেকে শুলে শ্বাসপ্রশ্বাসে কষ্ট হয়। হাওয়া চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। ঘুমের সমস্যা হয়। ফুসফুসের সমস্যা আগে থেকেই থাকলে শ্বাসকষ্টর সমস্যা আরও বেশি পরিমাণে বাড়ে। মুখ ঢেকে ঘুমোলে মুখের চারপাশে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ে কমে যায় অক্সিজেনের মাত্রা। তাপ আটকে যায়। শ্বাসকষ্টর সমস্যা হয়। ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

শীতকালে আবহাওয়া রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যায়। ইদানীং বায়ুদূষণের মাত্রাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাতে ঘরের সব জানলা, দরজা বন্ধ করে রাখে, তাই ঘরের ভেতরের হাওয়া চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে সে সময় আপাদমস্তক লেপ বা কম্বল মুড়ি দিয়ে শুলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ে। মুখ ঢেকে শুলে যে কার্বন ডাই-অক্সাইডকে আমরা বের করে দিচ্ছি তা মুখ আর নাকের চারপাশে আটকে যায়। ফ্রেশ অক্সিজেনের চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। তাপ আটকে গেলে মাথার চারপাশের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা বেড়ে যায়। এতে ঘুমের সমস্যা দেখা যায়। রাতে ঘাম হয় অনেকের। ভালো ঘুমের জন্য কত ঘণ্টা নির্বিঘ্নে ঘুমোনো হচ্ছে তার পাশাপাশি ভালো হাওয়া চলাচল করা, স্বাভাবিক শ্বাস নেওয়ার পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতাও সমান ভাবে জরুরি।

ব্রিদিং ম্যানেকুইনের ওপর গবেষণা চালানো হয়। মাথা ঢেকে ব্রিদিং ম্যানেকুইন বা পুতুলকে রাখা হয়। তাতে দেখা যায় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস যা বের করে দেওয়া হয়েছে তা বেশি পরিমাণে আবার শরীরে ঢুকছে। অক্সিজেনের মাত্রা কমে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বাড়লে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।

কাদের পক্ষে ক্ষতিকর আপাদমস্তক মাথা ঢেকে ঘুমোনো

অ্যাজমা, সিওপিডির মতো ফুসফুসের রোগ থাকলে মাথা ঢেকে ঘুমোনো বিপজ্জনক। হাওয়া চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে শ্বাসকষ্টর সমস্যা দেখা যায়। শিশুদের জন্যও বিপজ্জনক। ঘুমের সময় অনেক মানুষের নিঃশ্বাস আচমকা বন্ধ হয়ে যায়। স্লিপ অ্যাপনিয়ার সমস্যা থাকলে বদ্ধ জায়গায় আপাদমস্তক মাথা ঢেকে ঘুমোনোর বিপজ্জনক। শীতে বেশি ঠান্ডা লাগলে হালকা গরমের পোশাক পরে শোবেন। দেহ ঢেকে রাখুন, মাথা ঢেকে ঘুমোবেন না। নাক ও মুখ ঢেকে ঘুমোলে অক্সিজেন চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয়। শীতে ঘরের ভেতরের হাওয়া চলাচল ঠিক আছে কিনা দেখবেন। ভারী লেপ বা কম্বলে মাথা ঢেকে শোবেন না।

আরও পড়ুন: হাই ফ্যাট চিজ খেলে কমতে পারে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি! নয়া গবেষণার দাবি

আপনার প্রশ্ন, আমাদের উত্তর

সাম্প্রতিকতম

ভোটের আগে বাংলায় রেলের বরাদ্দ ১৩ হাজার কোটি, অমৃতভারত প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মানের হবে এনজেপি

ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে রেলের জন্য প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। অমৃতভারত প্রকল্পে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনকে আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলার কাজ চলছে।

মোজা পরেও পা বরফের মতো ঠান্ডা? কারণ জানলে সমাধান সহজ

শীতে মোজা পরেও পা হিমশীতল কেন থাকে? রক্ত সঞ্চালন থেকে শুরু করে মোজার ধরন—কারণ ও প্রতিকার জানুন সহজ ভাষায়।

গৌরী লঙ্কেশ হত্যা মামলার অভিযুক্ত শ্রীকান্ত পাঙ্গারকর জালনা পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত

সাংবাদিক-অ্যাক্টিভিস্ট গৌরী লঙ্কেশ হত্যা মামলার অভিযুক্ত শ্রীকান্ত পাঙ্গারকর মহারাষ্ট্রের জালনা পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজেপি প্রার্থীকে হারালেন তিনি।

কলকাতায় ফের অগ্নিকাণ্ড, তপসিয়ার সোফা কারখানায় আগুন; ১১টি ইঞ্জিনে লড়াই দমকলের

কলকাতার তপসিয়ায় একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের অন্তত ১১টি ইঞ্জিন। এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর নেই।

আরও পড়ুন

মোজা পরেও পা বরফের মতো ঠান্ডা? কারণ জানলে সমাধান সহজ

শীতে মোজা পরেও পা হিমশীতল কেন থাকে? রক্ত সঞ্চালন থেকে শুরু করে মোজার ধরন—কারণ ও প্রতিকার জানুন সহজ ভাষায়।

টাইপ টু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সূর্যের আলোই হতে পারে গোপন অস্ত্র, বলছে নতুন গবেষণা

নতুন গবেষণায় দাবি, প্রতিদিন কিছু সময় সূর্যের আলোয় থাকলে টাইপ টু ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য উপকার মিলতে পারে। কী বলছেন গবেষকরা?

বায়ুদূষণ ও স্মার্টফোনে বাড়ছে শিশুদের অ্যাংজাইটি ঝুঁকি

শীত বাড়তেই বায়ুদূষণের প্রভাব পড়ছে মানসিক স্বাস্থ্যে। নয়াদিল্লির এইমস ও সিঙ্গাপুরের গবেষণায় উঠে এসেছে, দূষিত বাতাস ও ছোট বয়সে স্মার্টফোন ব্যবহারে শিশুদের অ্যাংজাইটি ও প্যানিক অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে।