ওয়েবডেস্ক: পাড়াপড়শির সঙ্গে তেমন মেশেন না বিশ্বাসবাবু। গিন্নি গত হয়েছেন বছর দুয়েক। ছেলে মেয়ে দু’জনেই থাকে বিদেশে। বাইরে বেরোনো বলতে সপ্তাহে এক-আধ দিন বাজার যাওয়া। খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম তো তেমন হয় না। তবু সুগারটা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে ষাট ছুঁইছুঁই সমীর বিশ্বাসের। ডাক্তার বলেছেন, পাঁচ জন লোকের সঙ্গে সকাল-বিকেল একটু গল্পগাছা করতে। সুগারের সঙ্গে সামাজিকতার সম্পর্কটা কিছুতেই মানতে নারাজ বিশ্বাসবাবু। তিনি কিন্তু একা নন, ডাক্তারের এই পরামর্শ মনঃপুত হচ্ছে না অনেকেরই। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।

সামাজিক ক্রিয়াকলাপে অংশ গ্রহণ করেন না, এমন মহিলাদের ক্ষেত্রে সাধারণ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা ৬০ শতাংশ বেশি। টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা এই সব মহিলার ক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় ১১২ শতাংশ বেশি। একা থাকা পুরুষদের এই ঝুঁকি ৯৪ শতাংশ বেশি।

নেদারল্যান্ডের মাসস্ট্রিক্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারের উদ্যোগে ২০৮১ জন মহিলা এবং পুরুষকে নিয়ে গবেষণাটি করা হয়েছিল। এঁদের প্রত্যেকের বয়স ৪০ থেকে ৭৫-এর মধ্যে।’বিএমসি পাবলিক হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত হওয়া গবেষণাপত্রে উল্লেখ রয়েছে, ডায়াবেটিসের প্রথম লক্ষণস্বরূপ অল্পেতেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, দুর্বল লাগা, এ সব ঘটে। স্বভাবতই রোগী বাইরে বেরোতে, মেলামেশা করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েন। ক্রমশ শরীরে গ্লুকোজ বিপাকের হার কমতে থাকে।

গবেষণাপত্রের লেখক মিরান্ডা স্ক্র্যাম এই প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সামাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকার প্রবণতা কমলে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here