Connect with us

শরীরস্বাস্থ্য

শরীর সুস্থ রাখার সহজ ৭টি উপায়, অবশ্যই করে দেখুন সুফল পাবেনই

Health

ওয়েবডেস্ক: আজকাল বয়স নয়, সুগার, প্রেশার, দেহের নানান জায়গায় ব্যথা এই সমস্ত রোগগুলি শরীরে বাসা বাঁধে অনেক ক্ষেত্রেই জীবনযাপনের ধরনের কারণে। তাই কম বয়স থেকে বেশি বয়স সকলের মধ্যেই এই সব রোগ নিয়ে খুবই সমস্যা থেকে যায়। এই সমস্ত রোগ এমনই বালাই, যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিয়মের মধ্যে থাকলে নিয়ন্ত্রণে থাকে। নিয়ম ভাঙলেই মাথা চাগাড় দিয়ে ওঠে।

তবে শুধু এই রোগ নয়। যে কোনো রকম রোগই যাতে প্রাথমিক ভাবে ঠেকানো যায়, শরীরস্বাস্থ্য ভালো থাকে তার জন্য জীবনযাত্রার মানকে উন্নত করা যেতে পারে। তার জন্য রয়েছে কয়েকটি স্বাস্থ্য সম্মত টিপস, তাতে করে সুস্থ জীবন যেমন লাভ করা যায়, তেমনই মনও থাকে সতেজ ও ফুরফুরে।

১। নানান রকম ফল-সবজি খেতে হবে –

লন্ডন কিংস কলেজের গবেষক ডাঃ মেগান রসির মতে, কেবলমাত্র বেশি বেশি করে সবজি ও ফল ইত্যাদি খেলেই হবে না। তার মধ্যে আনতে হবে রকমফের। অর্থাৎ বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি, ফলমূল খেতে হবে। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে সব ধরন মিলিয়ে যদি কম করে ৩০ রকমের সবজি ও ফল খাওয়া যায় তবে তা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ভালো।

২। উপযুক্ত পরিমাণ জল খাওয়া –

সারা দিন উপযুক্ত ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া যেমন দরকার, তেমনই দরকার পরিমাণ মতো বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করাও। কারণ পানীয় জল শুধু যে তেষ্টা মেটায় তাই নয়, শরীরের আর্দ্রতা ধরে রাখে, শরীরের অন্তরীণ জলের চাহিদা পূরণ করে সঙ্গে আরও একাধিক কাজ করে গোটা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে জল। ফলে জল পরিমাণ মতো জল খাওয়াটা খুবই দরকার।

৩। পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম

বর্তমান পরিস্থিতিতে সময়ের বড়ো অভাব। ফলে ঘুমের সময় কাটছাঁট কম বেশি সকলেরই হয়। তবে একটা কথা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বেমালুম আমরা ভুলে যাই যে, শরীর একটি যন্ত্রের মতো। তাই তাকে যেমন কাজ করানো যায়, তেমনই দরকার তার বিশ্রামও। তার থেকেও বেশি ঘুম শুধু শরীরকে বিশ্রাম দেয় না। বিশ্রাম দেয় মাথাকেও। ফলে এই বিশ্রাম শরীরের জন্য অপরিহার্য একটি বিষয়। তাই প্রত্যেক মানুষের প্রতিদিন রাতে কম পক্ষে আট থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমানো আবশ্যক। কারণ তা না হলে ঘুমের ঘাটতি দেখা যায়। শরীরকে দুর্বল করে। তাই পরিমাণ মতো ঘুমলে শরীর সার্বিক ভাবে বিশ্রাম পায়, নতুন উদ্যম গড়ে ওঠে, ক্লান্তি বোধ দূর হয়। পাশাপাশি সব ঠিক থাকলে শরীরে অসুখের উপদ্রবও কম হয়।

এক্সেটার ইউনিভার্সিটির স্পোর্ট অ্যান্ড হেলথ সায়েন্স বিভাগের শিক্ষক ডা. গেভিন বাকিংহামের মতে, ঘুম কম হলে মানুষের কগনিটিভ ফাংশন বা নতুন জিনিস শেখার ক্ষমতা কমে যায়। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও কমে যায়, মনে দ্বিধা দ্বন্দ্ব তৈরি হতে পারে।

৪। নিজের মনের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেওয়া

খাবার, জল, ঘুমের পর যে বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হয় তা হল, নিজের ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেওয়া। অনেকেই আছেন পারিপার্শ্বিকের চাপে নিজের মনের ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখে। ভালো লাগা, খারাপ লাগাকে দাবিয়ে রেখে ভেতরে ভেতরে গুমরে থাকে। তবে একটি জরুরি কথা কী মনের মধ্যে নিজের সাধ, ইচ্ছে ইত্যাদিকে চেপে রেখে আর যাই হোক শারীরিক আর মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা যায় না। তাই নিজেকে, নিজের ইচ্ছেকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে।

শরীর সুস্থ রাখতে – কোলেস্টেরল সম্পর্কে সচেতন হন, দূরে রাখুন এই রোগগুলি

ব্রিটেনের এক্সেটার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস ও এক্সারসাইজ বিষয়ক শিক্ষক ডাঃ নেডাইন স্যামির মতে, নিজেদের মনের ওপরে বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার। আত্ম সচেতনতা বাড়িয়ে মনের ওপরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো সম্ভব। এই আত্ম সচেতনতা এমন এক বিষয় যা মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ইচ্ছে, অনিচ্ছা ইত্যাদিকে অনেক ভালো ভাবে চিনতে সাহায্য করে। এই চেনার মাধ্যমে নিজের অনুভূতিকে চেনা যায়। মনের দুর্বলতাকে কাটিয়ে ওঠা যায়। যা পরোক্ষও প্রত্যক্ষ ভাবে স্বাস্থ্যর উন্নতিতে প্রভাব ফেলে।   

৫। ব্যায়াম করা

শরীর সুস্থ রাখতে অবশ্যই নিয়ম করে হাঁটা বা ব্যায়াম করা যেতে পারে। যদি সম্ভব হয় জিমও করা যেতে পারে। এ ছাড়া নিয়ম করে মর্নিংওয়াক বা ইভিনিং ওয়াক তো আছেই। এই কাজগুলি শরীরকে সচল করে। এতে করে বাড়তি মেদ জমে শরীরকে অসুস্থ হওয়ার থেকে রক্ষা করা যায়। তাই কম করে ৪০ থেকে ৪৫ মিনিট এই কাজ করতে পারলে খুবই ভালো।  

৬। পোষ্য রাখা যেতে পারে

আবেরিস্টওয়াইথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষক ডা. রিস থেচারের মতে, জিম যাওয়া সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বাড়িতে যদি পোষ্য কুকুর থাকে তা হলে খুবই উপকার হয়। কারণ হিসাবে তিনি বলছেন, কুকুরকে যদি দিনে দু’বার অন্তত ৩০ মিনিট করে হাঁটাতে হয় তা হলে বাধ্য হয়েই নিজেকেও হাঁটতে হবে ওই সময়টা। ফলে নিজের জন্য আলাদা করে সময় বের করতে না পারা বা কোনো কোনো দিন হাঁটা বন্ধ যাওয়ার আর ভয় থাকে না। এ ভাবেই রোজকার হাঁটার কাজটা হয়ে যায়।

৭। মন খুলে বেশি করে হাসা

হাসি একটি খুব ভালো ব্যায়াম বা ওষুধ বলা যেতে পারে শরীর ও মনের সুস্বাস্থ্যের জন্য। লোক মুখে ফেরে মন খুলে জোড়ে জোড়ে হাসলে হৃদয় ভালো থাকে।

ডাঃ জেমস গিল বলছেন, মানুষের উচিত খুশি থাকার চেষ্টা করা। তা হলেই সুস্থ থাকবে শরীরও। তার জন্য তিনি বেশি বেশি করে হাসার পরামর্শ দিয়েছেন।

সূত্র – বিবিসি বাংলা

দেখুন – হৃদরোগের আশঙ্কা কমিয়ে দিতে পারে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস, বলছে গবেষণা

শরীরস্বাস্থ্য

যষ্টিমধু কেন খাবেন? জেনে নিন উপকারিতা

খবরঅনলাইন ডেস্ক : যষ্টিমধু কমবেশি অনেকেই ছোটোবেলায় মা ঠাকুরমার কাছ থেকে খেয়েছেন। গলা খুসখুস করলে তার ঘরোয়া তাৎক্ষণিক উপশমের জন্য এইটি প্রত্যেক ঘরেই রাখা থাকত। এখনও হয়তো অনেক ঘরেই এটি আছে। আবার নেইও। তবে আজকাল ভেষজ ওষধির চাহিদা বেশ বেড়েছে। সর্দিকাশি, ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা – এই সবের হাত থেকে রক্ষা পেতে। তাই ঘরে ঘরে এখন কাঢ়া বানিয়ে খাওয়ার চল হয়েছে। তাতে অনেকেই দারচিনি, লবঙ্গ, এলাচের সঙ্গে যষ্টিমধুও দিচ্ছেন। যাঁরা দিচ্ছেন না বা যাঁরা কাঢ়াই খাচ্ছেন না তাঁদের জন্য বলে রাখা ভালো এই সমস্ত কিছুর গুণাগুণ কিন্তু অনেক।

যষ্টিমধু হল গাছের শিকড়। এতে অনেক বায়োঅ্যাক্টিভ কম্পাউন্ড রয়েছে। এটি আয়ুর্বেদিক ওষুধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। এটি টুকরো করে চিবিয়ে খাওয়া যায়, পাউডার হিসাবে খাওয়া যায়, চা হিসাবেও খাওয়া যায়। যে ভাবেই হোক এটি খেলে যে সমস্যা থেকে উপশম পাওয়া যায় তার মধ্যে রয়েছে –

১। স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ

পরিস্থিতিটাই এমন যে প্রায় সময়ই আমরা স্ট্রেস বা মানসিক চাপে আচ্ছন্ন হয়ে থাকছি। এতে যষ্টিমধু সাহায্য করতে পারে। মলিকিউলার অ্যান্ড সেলুলার এন্ডোক্রিনোলজি নামক মেডিক্যাল জার্নালের প্রতিবেদনে আছে, এটি ভীষণ ভাবে স্ট্রেস হরমোন করটিসল নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।

২। শ্বাসতন্ত্রের উন্নতি

কাশি বা কফ, গলা ব্যথা, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি হল শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা ও তার কারণ। এই সবের  চিকিৎসায় যষ্টিমধু ব্যবহার করা যেতে পারে, এ কথা বলেছেন রিমেডিস ফর মি ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার রেবেকা পার্ক। আসলে ব্যাকটেরিয়া সৃষ্ট শ্বাসতন্ত্রের ইনফেকশন প্রশমিত করতে পারে ষষ্ঠিমুধ। এটি ফুসফুস থেকে শ্লেষ্মাও দূর করে। ব্রঙ্কিয়াল স্প্যাজম বা ব্রঙ্কিয়াল টিউবের মাংসপেশির সংকোচনকে শিথিল করতে পারে।

 ৩। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। ফুড কেমিস্ট্রি নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যষ্টিমধু শরীর থেকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকেল দূর করে। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও উন্নত করে।

যষ্টিমধু পাউডার খেতে চাইলে কিনতে পারেন এখানে ক্লিক করে

৪। পেটের সমস্যায়

বুকজ্বালা, পাকস্থলীর আলসার, কোলাইটিস, গ্যাস্ট্রাইটিস, পাকস্থলীর ভেতরে প্রদাহ ও পরিপাকতন্ত্রের ওপরে প্রদাহজনিত সমস্যায় যষ্টিমধু ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা ডায়েটিশিয়ান জুলি আপটন এ কথা বলেছেন। এটি আলসারেটিভ কোলাইটিস বা আন্ত্রিক প্রদাহ থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এভিডেন্স-বেসড কমপ্লিমেন্টারি অ্যান্ড আলসারেটিভ মেডিসিনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে, ডিগ্লাইসিরাইজিনেটেড যষ্টিমধু পাকস্থলীর আলসার নিরাময়ে কার্যকর। অর্থাৎ এটি প্রশান্তিদায়ক ও প্রদাহরোধী।

৫। ত্বকের জন্য

যষ্টিমধু যে ভাবেই ব্যবহার করা হোক না কেন এটি ত্বকের উপকার করে। ডাঃ পার্ক বলেন, ষষ্ঠিমধু ত্বকের একজিমা, সোরিয়াসিস,  প্রদাহ, সানবার্ন, পায়ের ছত্রাক জনিত সমস্যা নিরাময় করে। ত্বকের ফোলা ও চুলকানি থেকে মুক্তি পেতে যষ্টিমধুর নির্যাস থেকে প্রস্তুত ওষুধ কাজে লাগে।

৬। দাঁতের স্বাস্থ্য

যষ্টিমধু একটি মাল্টিপারপোজ হার্ব। এটি দাঁত ও মাড়িকেও সুস্থ রাখে। জার্নাল অব ন্যাচারাল প্রোডাক্টসে প্রকাশিত গবেষণা অনুসারে, যষ্টিমধুর দু’টি কার্যকর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঠেকাতে পারে।

তবে হ্যাঁ অতিরিক্ত কিছু যেমন ভালো না তেমন অতিরিক্ত যষ্টিমধু সেবনেরও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। ডাঃ আপটন বলেন, অত্যধিক যষ্টিমধু খেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা হ্রাস পায়। তা বিপজ্জনক। হার্টের সমস্যা ও পেশি দুর্বলতার কারণ হতে পারে। যাদের কিডনির রোগ, হার্টের রোগ ও উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের যষ্টিমধু খাওয়া উচিত নয়। একটানা এটি কারোরই খাওয়া উচিত নয়।

অবশ্যই দেখুন – এলাচ কেন খাবেন? জেনে নিন ১৮টি কারণ

Continue Reading

শরীরস্বাস্থ্য

৬টি ভিন্ন পথে কোভিড-১৯ সংক্রমণ, দেখে নিন কোন পর্যায়ে কী

সচরাচর ছ’টি পথেই কোনো ব্যক্তিকে কোভিড-১৯ কাবু করতে পারে।

প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: কোভিড-১৯ ভিন্ন ধরনের ছ’টি পথে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে। একাধিক গবেষণায়, করোনাভাইরাস (Coronavirus) সংক্রমণের উপসর্গ হিসাবে অসংখ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে আসা হলেও একটি গবেষণা বলছে, সচরাচর ছ’টি পথেই কোনো ব্যক্তিকে কোভিড-১৯ (Covid-19) কাবু করতে পারে।

সংক্রমিত হওয়ার এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে বিশেষত ছ’ ধরনের পর্যায়ে আক্রান্তদের ভাগ করেছে একটি সমীক্ষা। এই পর্যায়গুলি প্রকৃত রোগীর হাসপাতালে ভরতি হওয়ার সম্ভাবনা নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

এক নজরে ৬টি পথ

১. ফ্লু-এর মতো সংক্রমণ, কিন্তু জ্বর নেই

সংক্রমণের সব থেকে মৃদু অবস্থা। এই ধরনের সংক্রমণের ক্ষেত্রে ঠান্ডা লাগা, গলা ব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে থাকা, বুকে ব্যথা, পেশির ব্যথা, গন্ধহীনতা এবং মাথাব্যথার মতো লক্ষণগুলি ধরা পড়ে। পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, এই পর্যায়ের সংক্রমণে আক্রান্তদের জ্বর ছিল না।

২. ফ্লু-এর মতো সংক্রমণ, কিন্তু জ্বর-সহ

প্রথম পর্যায়ের থেকে সামান্য জটিল। এই বিভাগের রোগীর মধ্যে একটি হালকা ফ্লু জাতীয় সংক্রমণের লক্ষণ এবং ক্রমবর্ধমান জ্বরের উপস্থিতি দেখা যায়। খিদে কমে যাওয়ার ঘটনাও দেখা দেয়। গলার স্বর ভাঙা অথবা শুকনো কাশিও উল্লেখযোগ্য।

৩. গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল সংক্রমণ

এই ক্লাস্টারের অন্তর্ভুক্ত রোগীরা এমন উপসর্গগুলি ভোগ করেছেন, যা তাঁদের হজম এবং গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল কার্যকলাপকে প্রভাবিত করে। যদিও এই পর্যায়ে কাশি একটি প্রধান লক্ষণ ছিল না, বমি বমি ভাব, খিদে কমে যাওয়া, ডায়রিয়া অনেক বেশি দেখা যায়। মাথাব্যথা এবং বুকের ব্যথাও লক্ষ্য করা গিয়েছে।

৪. ক্লান্তি-সহ গুরুতর স্তর-১

সরাসরি অনাক্রম্যতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এই পর্যায় গুরুতর। ক্লান্তি গভীর ভাবে ঘিরে ধরে। গুরুতর কোভিড-১৯ রোগীর জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা হিসাবে বিবেচিত হয়। এই বিভাগের রোগীদের ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গন্ধ এবং স্বাদহীনতা, গলা ব্যথা, জ্বর এবং বুকে ব্যথার মতো লক্ষণগুলি পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

৫. একাধিক জটিলতা-সহ গুরুতর স্তর-২

স্তর-১-এর থেকে মারাত্মক। এই পর্যায়ের লক্ষণগুলির ফলে নার্ভাস সিস্টেমের ক্রিয়াকলাপ প্রভাবিত হয় এবং সম্ভবত মস্তিষ্কেও এর প্রভাব পড়ে বলে মনে করা হয়। মাথাব্যথা, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া, খিদে কমে যাওয়া, কাশি, জ্বর, প্রকোপ, বিভ্রান্তি, গলা ব্যথা, বুকে ব্যথা, ক্লান্তি, পেশি ব্যথা ইত্যাদি অসংখ্য সমস্যার সৃষ্টি হয়।

৬. পেটে এবং শ্বাসকষ্টের সঙ্গে গুরুতর স্তর-৩

এটি সব থেকে উদ্বেগজনক এবং গুরুতর ধরনের লক্ষণ। এগুলি সচরাসচর প্রথম সপ্তাহে দেখা যায় বলে জানাচ্ছে গবেষণা। গলা ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, খিদে কমে যাওয়া, মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, পেশি এবং পেটের ব্যথা ইত্যাদি। এই পর্যায়ের আক্রান্তের হাসপাতালে ভরতি হওয়ার সম্ভাবনা সব থেকে বেশি ।

Continue Reading

খাওয়াদাওয়া

এলাচ কেন খাবেন? জেনে নিন ১৮টি কারণ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : মশলার রানি এলাচ। যেমন গন্ধ তেমনই স্বাদ। শুধু তাই নয়, তেমনই এর খাদ্য ও পুষ্টিগুণ।  

এলাচের খাদ্য ও পুষ্টিগুণ –

এতে আছে প্রোটিন, কার্বোহাড্রেট, কোলেস্টেরল, ক্যালোরি, ফ্যাট, ফাইবার, নিয়াসিন, রাইবোফ্ল্যাভিন, পাইরিডক্সিন, থিয়ামিন, ইলেকট্রোলাইট, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, কপার, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, জিঙ্ক, ভিটামিন এ, সি ইত্যাদি।

এলাচের উপকারিতা –  

১. হৃদযন্ত্রের জন্য

এলাচের মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান হার্টের জন্যে ভালো। কোলেস্টেরল কম করতে সাহায্য করে। উচ্চ রক্তচাপেও দারুণ একটি ওষুধ এলাচ।

২. শ্বাসকষ্টে

এলাচ বিভিন্ন রকমের সমস্যা যেমন সর্দি, কাশি, ফুসফুসের সমস্যা ও রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা ইত্যাদি থেকে মুক্তি দেয়। ব্রঙ্কাইটিস বা শ্বাসপ্রশ্বাসের কোনো রকম সমস্যা থাকলে এলাচ খাওয়া ভালো।

৩. রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে

উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় এলাচ খুব উপকারী। ওষুধের কাজ করে এটি। স্যুপ বা স্টু-এর মধ্যে এলাচ মিশিয়ে খেলে খুব সহজেই কিছু দিনের মধ্যে রক্তচাপ নীচে নামতে শুরু করে।

৪. ডিপ্রেশনে

ডিপ্রেশনের মতো মানসিক সমস্যার হাত থেকে বাঁচতে এলাচ দারুণ সাহায্য করে। প্রতি দিন চায়ের মধ্যে কয়েক দানা এলাচ ফেলে ফুটিয়ে পান করা ভালো।

৫. হজমের কাজে

এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি উপাদান যা বিপাকের ব্যাধি থেকে শরীরকে মুক্তি দেয়। যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়ের উন্নতি ঘটায়। ফলে হজম ভালো হয় ফলে বুকে জ্বালা বা পেট খারাপ এবং অম্বলের মত সমস্যা থেকেও অনায়াসে রেহাই পাওয়া যায়।

৬. ডিটক্সিফিকেশন

শরীরে যত বেশি পরিমাণ ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রবেশ করে, ভেতর থেকে তত বেশি পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। এলাচ শরীরে বাইরে থেকে আসা যে কোনো বিষক্রিয়া থেকে মুক্তি দেয় ও ডিটক্সিফাই করে।

৭. হেঁচকির হাত থেকে রেহাই

শরীরের যে কোনো মাংসপেশিকে শান্ত করতে এলাচের উপকারিতা অনেক। তাই কোনো কারণে যদি হেঁচকির সমস্যায় পড়েন, তাহলে এক কাপ গরম জলে এক চা চামচ এলাচ মিশিয়ে ১৫ মিনিট রেখে সেটি আসতে আসতে পান করলে উপকার হয়।

৮. ক্ষুধা বৃদ্ধিতে

এলাচ খিদে বাড়াতে সাহায্য করে। এলাচের তেল ব্যবহার করলে খাওয়ার প্রতি ইচ্ছে বাড়ে ও খিদেও বাড়ে।

৯. দাঁত ও মুখের জন্যে

এলাচের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান মুখের ভেতরের অংশের অর্থাৎ মাড়ি ও দাঁতের খুব উপকার করে। এলাচের ঝাঁঝালো স্বাদ নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে ও তরতাজা ভাব আনে।

১০. ক্যানসারে

এলাচের খাদ্যগুণের কারণে অনেক ধরনের ক্যানসারের টিউমার বা কোষগুলি বাড়তে পারে না। কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ক্ষেত্রে এলাচের গুনাগুণ বিশেষ ভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অনলাইনে ছোটো এলাচ কিনতে হলে ক্লিক করুন

১১. স্মৃতিশক্তি প্রখর করে

এলাচে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মস্তিষ্ককে শান্ত করে ও স্মৃতিশক্তি প্রখর করে তুলতে সাহায্য করে। প্রতি দিন দুধের সঙ্গে দু’টি এলাচ ফুটিয়ে সেটি পান করুন। ফল অবশ্যই পাবেন।

১২. যৌন স্বাস্থ্য

এলাচের মধ্যে নানান খাদ্য উপাদানের কারণে এটি স্নায়ুকে শান্ত করে ও যৌনইচ্ছাকে বাড়িয়ে তোলে। এ ছাড়া, বন্ধ্যাত্ব থেকে মুক্তি পেতেও এলাচ সাহায্য করে।

১৩. উজ্জ্বল ত্বকে

ত্বকের ফর্সাভাব ও ঔজ্জ্বল্যের জন্যে এলাচ দারুণ কাজ করে। ত্বকে ব্রণ ও কালচে ভাব দূর করে। মধু ও এলাচের প্যাক বানিয়ে মুখে লাগিয়ে ফল পেতে পারেন।

১৪. ত্বকের এলার্জি

এলাচে অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল উপাদান ভরপুর। এটি খুব ভালো অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি। ফলে ত্বককে মোলায়েম করে, ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। তাই এলাচ ত্বকের জন্যে একটি ওষুধও। মধু এবং কালো এলাচের মিশ্রণ এলার্জি হওয়া অংশে লাগালে খুব তাড়াতাড়ি ফল পাবেন।

১৫. রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে

এলাচে রয়েছে ভিটামিন সি, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, এগুলি ত্বকে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে ও ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো করে।

১৬. ঠোঁটের জন্যে

এলাচ দিয়ে ঠোঁটের নানা রকমের বাম, গ্লস বা তেল তৈরি হয় যা ঠোঁটের কোমলভাব ফুটিয়ে তোলে। গোলাপি ভাব বজায় রাখে। ঘরেও প্যাক তৈরি করে সারা রাত ঠোঁটে লাগিয়ে রাখা যায়। এই প্যাক করতে লাগে এলাচের গুঁড়ো, অলিভ অথবা আমন্ড অয়েল এবং একটুখানি অ্যালোভেরা জেল। প্রতি দিন এটি ঠোঁটে লাগিয়ে রেখে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

১৭. চুলের যত্নে

মাথার ত্বক পরিষ্কার থাকলে চুলের গোড়া মজবুত হয় ও চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এলাচের মধ্যে থাকা পুষ্টিকর উপাদান চুলের গোড়া মজবুত করে চুলকে ঝলমলে ও লম্বা করতে সাহায্য করে।

১৮. মাথার ত্বকের জন্যে

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকার ফলে মাথার ত্বক ভালো রাখে। এলাচ চুলের ফলিকলগুলিকে মজবুত করে। এলাচ ভেজানো জল দিয়ে চুল ধুলে বা এলাচের গুঁড়ো চুলে লাগানোর পর শ্যাম্পু করলে সব থেকে ভালো ফল পাওয়া যায়। এলাচের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান মাথার ত্বকের ইনফেকশনকে দ্রুত সারিয়ে তোলে।

জেনে রাখুন – করোনার এই সংকটকালে লবঙ্গ কেন খাবেন? জেনে নিন ২২টি উপকারিতা

Continue Reading
Advertisement

বিশেষ প্রতিবেদন

Advertisement
manyata dutt
বিনোদন1 hour ago

আমরা জানি, আমরাই জয়ী হব, যেমন সবসময় হয়েছি! বললেন সঞ্জয় দত্তের স্ত্রী মান্যতা

অনুষ্ঠান2 hours ago

‘এএস ইভেন্ট ‘-এর আয়োজন ট্যালেন্ট হান্ট ‘লকডাউন সুপার কিডস ২০২০’, দেখা যাবে অনলাইনে

রাজ্য2 hours ago

রাজ্যে নতুন কোভিড-আক্রান্তের সংখ্যায় বজায় রইল স্থিতিশীলতা, আরও বাড়ল সুস্থতার হার

দেশ2 hours ago

কেন্দ্রীয় আয়ুষমন্ত্রী করোনা পজিটিভ

শিক্ষা ও কেরিয়ার3 hours ago

উচ্চ মাধ্যমিকের পরে : গ্রাফিক ডিজাইনের অনলাইন ফ্রি কোর্স, পর্ব ১

দঃ ২৪ পরগনা3 hours ago

রাতের অন্ধকারে সারমেয়কে কোপ ধারালো অস্ত্রের, অভিযোগ জয়নগর থানায়

শিল্প-বাণিজ্য4 hours ago

আধার লিঙ্ক থাকলে এ বার পোস্ট অফিসের সেভিংস অ্যাকাউন্টেও ঢুকবে সরকারি ভরতুকি

দেশ4 hours ago

কাশ্মীর প্রশ্নে বিরোধ, ঋণ আর তেল, পাকিস্তানকে দু’টোই দেওয়া বন্ধ করল সৌদি

কেনাকাটা

কেনাকাটা6 days ago

ঘর ও রান্নাঘরের সরঞ্জাম কিনতে চান? অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ৫০% পর্যন্ত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্ক : অ্যামাজন প্রাইম ডিলে রয়েছে ঘর আর রান্না ঘরের একাধিক সামগ্রিতে প্রচুর ছাড়। এই সেলে পাওয়া যাচ্ছে ওয়াটার...

কেনাকাটা6 days ago

এই ১০টির মধ্যে আপনার প্রয়োজনীয় প্রোডাক্টটি প্রাইম ডে সেলে কিনতে পারেন

খবরঅনলাইন ডেস্ক : চলছে অ্যামাজনের প্রাইমডে সেল। প্রচুর সামগ্রীর ওপর রয়েছে অনেক ছাড়। ৬ ও ৭  তারিখ চলবে এই সেল।...

কেনাকাটা7 days ago

শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল, জেনে নিন কোন জিনিসে কত ছাড়

খবরঅনলাইন ডেস্: শুরু হল অ্যামাজন প্রাইম ডে সেল। চলবে ২ দিন। চলতি মাসের ৬ ও ৭ তারিখ থাকছে এই অফার।...

things things
কেনাকাটা2 weeks ago

করোনা আতঙ্ক? ঘরে বাইরে এই ১০টি জিনিস আপনাকে সুবিধে দেবেই দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতিতে ঘরে এবং বাইরে নানাবিধ সাবধানতা অবলম্বন করতেই হচ্ছে। আগামী বেশ কয়েক মাস এই নিয়মই অব্যাহত...

কেনাকাটা2 weeks ago

মশার জ্বালায় জেরবার? এই ১৪টি যন্ত্র রুখে দিতে পারে মশাকে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: একে করোনা তায় আবার ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়েছে। এই সময় প্রতি বারই মশার উৎপাত খুবই বাড়ে। এই বারেও...

rakhi rakhi
কেনাকাটা3 weeks ago

লকডাউন! রাখির দারুণ এই উপহারগুলি কিন্তু বাড়ি বসেই কিনতে পারেন

সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে মনের মতো উপহার কেনা একটা বড়ো ঝক্কি। কিন্তু সেই সমস্যা সমাধান করতে পারে অ্যামাজন। অ্যামাজনের...

কেনাকাটা3 weeks ago

অনলাইনে পড়াশুনা চলছে? ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ৪০ হাজার টাকার নীচে ৬টি ল্যাপটপ

ইনটেল প্রসেসর সহ কোন ল্যাপটপ আপনার অনলাইন পড়াশুনার কাজে লাগবে জেনে নিন।

কেনাকাটা3 weeks ago

করোনা-কালে ঘরে রাখতে পারেন ডিজিটাল অক্সিমিটার, এই ১০টির মধ্যে থেকে একটি বেছে নিতে পারেন

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা বুঝতে সাহায্য করে এই অক্সিমিটার।

কেনাকাটা4 weeks ago

লকডাউনে সামনেই রাখি, কোথা থেকে কিনবেন? অ্যামাজন দিচ্ছে দারুণ গিফট কম্বো অফার

খবরঅনলাইন ডেস্ক : সামনেই রাখি। কিন্তু লকডাউনের মধ্যে দোকানে গিয়ে রাখি, উপহার কেনা খুবই সমস্যার কথা। কিন্তু তা হলে উপায়...

laptop laptop
কেনাকাটা4 weeks ago

ল্যাপটপ কিনবেন? দেখে নিন ২৫ হাজার টাকার মধ্যে এই ৫টি ল্যাপটপ

খবরঅনলাইন ডেস্ক : কোভিভ ১৯ অতিমারির প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে চলছে লকডাউন ও ওয়ার্ক ফ্রম হোম। অনেকেই অফিস থেকে ল্যাপটপ পেয়েছেন।...

নজরে

Click To Expand