ডাক্তারের চেম্বার থেকে: স্ট্রোক আধুনিক জীবনযাত্রার দান

0
1184

ডাঃ অমিতাভ চন্দ, নিউরোলজিস্ট

সমাজ যত এগোচ্ছে, তত স্ট্রোকের প্রকোপ বাড়ছে। মূলত প্রতিদিনের জীবনযাত্রার ধরনই স্ট্রোকের সম্ভাবনা নির্ধারণ করে। মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হলে মস্তিষ্কের কলাগুলো প্রয়োজন অনুসারে অক্সিজেন পায় না। একেই স্ট্রোক বলে। মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহে সমস্যা হলেই কোষ নষ্ট হতে থাকে। আর এই কোষগুলি শরীরের যে অংশ নিয়ন্ত্রণ করত সেই অংশ প্যারালাইজড হয়ে যেতে থাকে। স্ট্রোক সাধারণত দুই প্রকারের হয়। যেমন- ইসচেমিক স্ট্রোক এবং হেমোরেজিক স্ট্রোক।

স্ট্রোকের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ কিংবা আঞ্চলিকভাবে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া দুই অবস্থাতেই প্রায় একই ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা যায়। উপসর্গগুলি হল, মাথা ঝিমঝিম করা, প্রচণ্ড মাথা ব্যথার সঙ্গে ঘাড়, মুখ এবং দুই চোখের মাঝখান পর্যন্ত ব্যথা হওয়া, হাঁটতে কিংবা চলাফেরা করতে এবং শরীরের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সমস্যা হওয়া, কথাবার্তা জড়িয়ে যাওয়া এবং অস্পষ্ট শোনানো, শরীরের একপাশে দুর্বল, অসাড় কিংবা প্যারালাইজড হয়ে যাওয়া, চোখে অস্পষ্ট দেখা, অন্ধকার দেখা কিংবা একটি জিনিসকে দুটো দেখা, বমি বমি ভাব কিংবা বমি হওয়া ইত্যাদি।

স্ট্রোকের লক্ষণ দেখলে কী করবেন ?

স্ট্রোকের লক্ষণগুলি দেখার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়াও কিছু ব্যপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে, যেমন- শ্বাস নিতে সমস্যা হলে কিংবা শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে গেলে মুখে মুখ লাগিয়ে শ্বাস দিতে হবে, বমি হলে মাথা একদিকে কাত করে দিতে হবে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে কোনো খাবার বা জল খাওয়ানো যাবে না। এ রকম ক্ষেত্রে, অবশ্যই রোগীর সঙ্গে কমপক্ষে ২ জন হাসপাতালে যাবেন। এতে পরীক্ষা এবং চিকিৎসা সবকিছুই কিছুটা দ্রুত হয়।

কাদের স্ট্রোক হতে পারে ?

  • স্ট্রোক সাধারণত ৫৫ বছরের বেশি বয়স্ক পুরুষদের সবচেয়ে বেশি হয়।
  • উচ্চ রক্তচাপ, বহুমূত্র বা ডায়াবেটিস, হার্টের অসুখ,  শরীরের কাঠামোর তুলনায় অতিরিক্ত ওজন হলে।
  • পরিবারে কারও স্ট্রোক কিংবা হার্ট এ্যাটাক হওয়ার ইতিহাস থাকলে।
  • অতিরিক্ত ধূমপান বা অ্যালকোহলে আশক্তি থাকলে।
  • জন্মনিয়ন্ত্রক ওষুধ খেলে।
  • পূর্বে এক বা একাধিকবার স্ট্রোক অথবা টিআইএ হয়ে থাকলে।

স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়

  • নিয়মিত ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করতে হবে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা এবং সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার খাওয়া যাবে না এবং কোলেস্টরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • ঠিক নিয়মে সময়মত এবং ঠিক পরিমাণে খাবার খেতে হবে।
  • প্রতিদিন কিছু শারীরিক পরিশ্রম অথবা সময় করে হাঁটা বা হালকা দৌড়তে হবে।
  • দেহের ওজন নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
  • খাদ্যতালিকায় শাকসব্জী, ছোট মাছ, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, ভূষি সমৃদ্ধ খাবার ইত্যাদি রাখতে হবে।
  • অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করা যাবে না।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অ্যালকোহল বা নেশাজাতীয় কোন দ্রব্য সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here