chicken eggs

ওয়েবডেস্ক : কোনো ভনিতায় না গিয়ে সরাসরি বলা যাক।  বিশ্বের মধ্যে ভারতেই মুরগির খামার সব থেকে বেশি। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভারত বিশ্বের সর্বাধিক ডিম সরবরাহকারী দেশ হয়ে উঠতে পারছে না। প্রায়ই রফতানি করতে গিয়ে গুণমানের দিক থেকে নিম্নমানের প্রমাণিত হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করতে পারে না। তাতে রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি ধরা পড়ে, জানান ডাঃ সৌরভ অরোরা। ইনি হলেন ফুড সেফটি হেল্পলাইন আর ফুড সেফটি মোবাইল অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা।

সম্প্রতি খোলাবাজারের খুচরো বিক্রেতার দোকান আর পাইকারি দোকান থেকে কিছু ডিম নিয়ে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তাতে যা ধরা পড়েছে তা খুবই চিন্তার। গবেষণায় দেখা গেছে ডিম তার খাদ্যগুণ হারাচ্ছে। তা শরীরের প্রয়োজনীয় নানা রকম খাদ্য উপাদান সরবরাহ করার পরিবর্তে শরীরের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ডিমের খোলাগুলোতে একটা বিশেষ উপাদান প্রচুর পরিমাণে মিলেছে, যা শরীরের পক্ষে হানিকর। এই উপাদানের নাম সালমোনেলা। শুধু খোলাতে নয়, ডিমের ভেতরেও সবটাতে এই সালমোনেলা রয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, খারাপ প্রযুক্তি, পরিবহণ আর সংগ্রহ করার ভুল পদ্ধতির কারণে এই দূষিত পদার্থের পরিমাণ বেড়ে যায়।

বিভিন্ন খামারে গিয়ে গবেষকদের নজরে যা পড়ছে তা সত্যিই উদ্বেগের। দেখা গেছে সেখানে খাবার হিসেবে যা ব্যবহার করা হয় তা-ই ডিমকে দূষিত করছে। মূলত অপরিষ্কার পরিবেশ, দূষিত নোংরা খাবার ইত্যাদি তো আছেই। তা ছাড়াও পোলট্রি মালিক, উৎপাদক, বিক্রেতা আর ক্রেতার অজ্ঞতার কারণেও ডিম আরও বিষাক্ত হতে বসেছে।

ভারতের খাদ্য সুরক্ষা ও গুণমান যাচাই সংস্থা ডিমের গুণমান নির্ধারণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়মাবলি সংশোধনের আবেদন জানিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, খোলায় রক্তের দাগ থাকবে না, মাটি লেগে থাকবে না। ডিমের খোলা ভাঙা বা ফুটো থাকলে চলবে না।

তাতে জল, প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট কোনটা কত পরিমাণে থাকবে তাও নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি কত উষ্ণতা, কত সময়, কতটা পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে তাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতার মধ্যে রয়েছে সংরক্ষণ, ধোয়া, শোকানো, প্যাকিং-সহ সব কিছুই।

এতে রান্নার সময়ে কী কী সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে সে ব্যাপারেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যেমন করেই রান্না করা হোক না কেন ডিমের সাদা আর হলুদ অংশ ভালো মতো রান্না হওয়া দরকার। তা ছাড়াও ডিমে হাত দিয়ে বা ডিম ফাটিয়ে ভালো করে হাত পরিষ্কার করা জরুরি। সর্বোপরি বলা হয়েছে, অন্তত পক্ষে ১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইটে ডিম রান্না হওয়া উচিত। এই উষ্ণতাতেই সালমোনেলা যৌগটি ধ্বংস করা সম্ভব। এই যৌগটি মানবশরীরের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here