ওয়েবডেস্ক: স্কুল ছাড়ার পর দেখা হয়নি বছর দশেক। ফেসবুক মারফত তাই দিনক্ষণ ঠিক করে আসর জমল সাত বন্ধুর। এ গল্প, সে গল্পের ফাঁকে ফাঁকে চলতে থাকল দেদার ছবি তোলা। আড্ডার মাঝেই চলল মুঠোফোনে ছবি বিনিময়। ‘ইস! এটায় আমায় বিচ্ছিরি লাগছে’, ‘চোখটা বুজে গেছে তোর, এটা আপলোড করিস না’, কিংবা ‘পাউটটা তুই এখনও পারিস না ঠিক মতো’, অনর্গল বকবকানিতে বারবারই ফিরে আসছে এই সব প্রসঙ্গ। ফিরতি পথে শ্রেয়ার  খেয়াল হল, কত কথা বলবে বলে এসেছিল, ছোটবেলার কথা, হঠাৎ অকারণে হেসে ওঠার দিনগুলোর কথা, আজ বলাই হল না কিছু। স্রেফ ছবি তুলে কাটিয়ে দিল তিনটে ঘণ্টা। বাড়ি ফিরে শ্রেয়া বন্ধুদেরকে জানিয়েছিল ওর আক্ষেপের কথা। পাত্তা দেয়নি কেউ। খান তিরিশেক ছবি আপলোড হয়েছিল সেদিন। শ’দেড়েক লাইক টাইক মিলিয়ে সে এক জমজমাট ব্যাপার। বাকি বন্ধুরা না বুঝলেও শ্রেয়া বুঝেছিল, কোথাও একটা গণ্ডগোল হচ্ছে। সম্প্রতি এই গণ্ডগোল নিয়েই মুখ খুলেছেন দুই মনস্তত্ত্ববিদ। তাঁরা বলছেন, কারোর কারোর সেল্‌ফি তোলার নেশা  নাকি একটা মানসিক রোগের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। রোগের পোশাকি নাম সেলফাইটিস।

সম্প্রতি সেল্‌ফি সংক্রান্ত এক সমীক্ষার আয়োজন করা হয়েছিল এই প্রজন্মের  ৪০০জন ভারতীয় ছেলে মেয়েকে নিয়ে। তাদের অধিকাংশের বয়স পনেরো-ষোল বছর।  সমীক্ষার স্থান হিসেবে ভারতকে বেছে নেওয়ার কারণ? এ দেশেই ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি যে! দ্বিতীয়ত সেল্‌ফি তুলতে গিয়ে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর তালিকাতেও এক নম্বরে রয়েছে ভারত। সমীক্ষার ফলাফল বলছে, রোগের তিনটি পর্যায় রয়েছে। দিনে তিনটি সেল্‌ফি তুলছেন কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করছে না, এমনটা হলে সেলফাইটিসের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন আপনি। সচেতন হওয়ার সময় এসেছে। একই পরিমাণ ছবি তুলে আপলোড না করা পর্যন্ত শান্তি হচ্ছে না যাদের, তাঁরা পৌঁছে গিয়েছে দ্বিতীয় পর্যায়ে। আর দিনভর সেল্‌ফি তুলে ফেসবুক, ইন্টাগ্রামে পোস্ট করাই যাদের একমাত্র লক্ষ্য, তাঁরা সেলফাইটিসে শুধু আক্রান্ত নন, নিজেদের অভ্যাস আর নিজেদেরই নিয়ন্ত্রণে নেই এদের। সমীক্ষা অনুসারে সেলফাইটিসের প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্তরে রয়েছে, যথাক্রমে ৪০.৫০%, ৩৪% এবং ২৫.৫০%।

মাদুরাই-এর জনার্থনন বালকৃষ্ণন এবং মার্ক ডি গ্রিফিথস তাঁদের যৌথ গবেষণাপত্রে উল্লেখ করেছেন, সেলফাইটিসে  কম বেশি আক্রান্ত তরুণ প্রজন্ম মনে করে পরিচিত মহল অথবা ভার্চুয়াল দুনিয়ায় নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে সেল্‌ফি অপরিহার্য। ‘মেন্টাল হেলথ অ্যাডিকশন’ জার্নালে প্রকাশিত হওয়া গবেষণায় উঠে এসছে বেশ আশ্চর্য কিছু তথ্য। যেমন, সমীক্ষা চলাকালীনও সেল্‌ফি তোলা থেকে বিরত থাকতে পারেনি বেশ কিছু ছেলে মেয়ে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here