আপনি কী মানসিক অবসাদগ্রস্ত?

ওয়েবডেস্ক: ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদের কথা আজকাল প্রায়ই লোকের মুখে শোনা যায়। অনেকেই হয়তো কম-বেশি মানসিক অবসাদে ভুগেছেন অথবা ভুগছেন। কিন্তু তার জন্য দায়ী কী শুধুই আশপাশের মানুষগুলো? নাকি পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিও সমান ভাবে দায়ী?

সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে যেন অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। সেই সঙ্গে বেড়েছে জীবনের গতি। কে কাকে পিছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাবে। কিন্তু মানুষের এই ইঁদুর দৌঁড়ে পিছিয়ে পড়ছে জীবন। বাঁচার আনন্দটুকুও যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে!

নানা কারণেই মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে। যেমন- কেউ ধরুন কোনো কাজ বার বার করেও সফল হচ্ছে না, কোনো সময়ে ভালোবাসার মানুষের কাছ থেকে আঘাত পেলে অথবা কোনো হরমোন জনিত কারণ কিংবা সন্তান প্রসবের সময়ে সন্তান মারা গেলে ইত্যাদি বিভিন্ন কারণেই মানসিক অবসাদ দেখা দিতে পারে।

তখনই মনে হয় নিজেকে একটু একটু করে লোক সমাজ থেকে গুটিয়ে নিতে, সব সময় খিটখিটে মেজাজ বা নিজেকে শেষ করে ফেলার চিন্তা-ভাবনা অনেক কিছুই মাথায় ঘুরতে থাকে।

আরও পড়ুন: মানসিক অবসাদে ভুগছেন? মন থেকে ভ্রান্ত ধারণাগুলি সরিয়ে জেনে নিন সঠিক কারণ 

কী করে বুঝবেন আপনি অবসাদগ্রস্ত-

অবসাদের প্রধান লক্ষণ তিনটি। কোনো ব্যক্তির ‘অবসাদ’ বা ‘ডিপ্রেশন’ নির্ণয় করতে হলে এই প্রধান তিনটি লক্ষণের মধ্যে অন্তত দু’টি অবশ্যই থাকা প্রয়োজন এবং লক্ষণগুলি অন্তত ২ সপ্তাহ স্থায়ী হতে হবে।

১। বিষাদগ্রস্ত মনোভাব, যা সেই ব্যক্তির পারিপার্শ্বিক অবস্থার বিচারে অস্বাভাবিক, দিনের বেশিরভাগ সময় ও প্রায় প্রত্যেকদিনই যা দেখা যায় এবং যার স্থায়িত্ব ২ সপ্তাহের বেশি।

২। আনন্দদায়ক কাজকর্মের প্রতি আকর্ষণ বা আনন্দ হারিয়ে ফেলা।

৩। কাজকর্মে শক্তির অভাব বোধ করা ও সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়া।

এ ছাড়াও অবসাদের আরও কিছু লক্ষণ আছে যাদের মধ্যে একাধিক লক্ষণ অবসাদগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। যেমন-

১। আত্মবিশ্বাসের অভাব।

২। মনোযোগের অভাব।

৩। মনে রাখতে না পারা।

৪। আত্মগ্লানি বা অকারণে নিজেকে কোনো বিষয়ে দোষী ভাবা।

৫। বার বার মৃত্যু বা আত্মহত্যার কথা ভাবা বা আত্মহত্যার চেষ্টা করা।

৬। দ্রুত নড়াচড়া বা চিন্তা করতে না পারা।

৭। ক্ষুধার পরিবর্তন (সাধারণত হ্রাস, কখনো কখনো বৃদ্ধি হতেও দেখা যায়।)

৮। ঘুম কমে যাওয়া (অথবা কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়ে যাওয়া।

৯। যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া।

১০। নিজেকে অসহায় ভাবা ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিরাশ বোধ করা।

১১। দিনের অন্য সময়ের তুলনায় সকালে বেশি বিষণ্ণ বোধ করা।

সূত্র: মানব সংবেদ 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here