anti suicidal

ওয়েবডেস্ক: মানুষের আত্মহত্যা করার ধরন যেমন বিভিন্ন রকম তেমনই কারণও থাকে একাধিক। মনস্তত্ববিদরা বলে থাকেন, জীবনযুদ্ধে নিজেকে অসহায় বোধ করা মানুষ হেরে যাওয়ার পরে বা ভয়ে আত্ম হননের পথ বেছে নিয়ে থাকেন। তবে আত্মহত্যা মহাপাপ কি না, সে বিষয়ে পরীক্ষালব্ধ প্রমাণ না মিললেও আত্মহত্যা যে বেআইনি, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবুও স্বাভাবিক জ্ঞানবুদ্ধি বা বিবেচনা শক্তি লোপ পেলে ভরসাহীন মানুষ আত্মহত্যার দিকে ঝুঁকে পড়েন। ভিতরকার ভীরুতার বহিপ্রকাশ ঘটে যায় নিজেকে নিজে খুন করার সাহসীয়ানায়। যা কোনো মতেই কাম্য নয়। তবে এবার সমস্যা জর্জরিত কোনো ব্যক্তিকে সহজেই মরতে দেবে না আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান।

সম্প্রতি কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল সেন্টার দীর্ঘ গবেষণা চালিয়ে দেখেছে, হতাশা আর অবসাদের চুড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়া কোনো ব্যক্তির উপর কেটামিনের পর্যাপ্ত ডোজ প্রয়োগ করে সুফল পাওয়া গিয়েছে। এবং সব থেকে চমকপ্রদ বিষয়, কেটামিন প্রয়োগ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার কাজ শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির মাথা থেকে আত্মহত্যার ভুত পালাতে শুরু করে।

সেন্টারের চিকিৎসক মাইকেল গ্রুনবাম জানিয়েছেন, বাজারে বেশ কিছু ওযুধ ইতিমধ্যেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কিন্তু তার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া বা কাজ করার লম্বা সময়, রোগীকে ক্লান্ত করে তোলে। কিন্তু কেটামিনের প্রয়োগে দেখা গিয়েছে, কোনো মানুষের আত্মবিশ্বাস তলানিতে এসে ঠেকলেও তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ব্যক্তিকে স্বাভাবিক বোধ জ্ঞান ফিরিয়ে দিতে সফল হয়েছে। যে বোধ তাকে নিজের ক্ষতি থেকে বিরত করতে সাহায্য করছে। আত্মহত্যা করলে তার কী ক্ষতি হতে পারে, তেমন একটা চিন্তাই তখন ওই ব্যক্তির কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে।

সেন্টার মোট ৮০জন আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির উপর কেটামিনের পর্যাপ্ত ডোজ প্রয়োগ করে হাতেনাতে ফল পেয়েছে। ২৪ ঘণ্টাতেই কিছুটা পরিবর্তন দেখা দেওয়ার পর টানা ছ’সপ্তাহের কোর্স সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রত্যেকেই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে গিয়েছে।গ্রুনবাম জানিয়েছেন, আত্মহত্যা প্রবণতা এক দিনে কমানো কোনো মতেই সম্ভব নয়। এই ওযুধের প্রয়োগে তাৎক্ষণিক ভাবে রক্ত চাপে পরিবর্তন দেখা যায়। তাই নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা এবং মানসিক পরামৰ্শদানের প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, কেটামিন সাধারণত অস্ত্রোপচারের কাজে ব্যবহৃত হয়। স্বাভাবিক ভাবেই আত্মহত্যা প্রবণ ব্যক্তির উপর এর প্রয়োগের নির্দিষ্ট মাপকাঠি রয়েছে। তা না জেনে ভুল পদক্ষেপ নিলে পস্তাতে হবে। বিষয়টি গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। জানা গিয়েছে, পরবর্তী কালে এর থেকে তৈরি ট্যাবলেট আনা হতে পারে বাজারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here