ডাক্তারের চেম্বার থেকে: স্তন ক্যানসারে ভয় পাবেন না

0
ডাঃ জয়দীপ বিশ্বাস, অঙ্কোলজিস্ট

প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে রোগটা নাকি সেরে যায়। তবুও ভয়টা কেমন যেন চেপে বসেছে মিসেস আগরওয়ালের। চিরদিন ফিগার কনসাস। ছেলেকে একমাসের মধ্যে কৌটোর দুধ ধরিয়েছিলেন যেন শেপ নষ্ট না হয়ে যায়। তবুও গত মাসে ডাক্তারবাবু বলে দিলেন ডান স্তনের টিউমারটি, যেটিকে আপাতত নিরীহ মনে হয়েছিল আসলে ক্যানসার ফর্ম করে গেছে। স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা বেড়েছে ঠিকই। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে রোগটি। বছরে প্রায় দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার মহিলা শুধু মাত্র এই দেশেই স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন।

কোন বয়সে বেশি হয়

বিদেশে পঞ্চাশোর্ধ এবং এ দেশে চল্লিশোর্ধ মহিলাদের এই রোগে আক্রান্ত হতে বেশি দেখা যায়। কম বয়সি মেয়েদের ক্ষেত্রে এই রোগ হলে তা বেশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বয়স বেশি হলে ক্যানসারের গ্রোথ কম হয়। তাই ক্ষতির সম্ভাবনা তুলনায় কম।

কারণ

এই রোগের কারণ এখনও ঠিক ভাবে নির্ণয় করা যায়নি। জেনেটিক কারণে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা আছে, কিন্তু আমাদের দেশে তা শতাংশের নিরিখে মাত্র নয় থেকে এগার শতাংশ। আবার ওয়েস্টার্ন লাইফস্টাইলকেও এই রোগের জন্য সেভাবে দায়ী করা যায় না। অনেকেই ভেবে থাকেন বেশি বয়সে সন্তান ধারণ, ব্রেস্ট ফিডিং না করান খুব তাড়াতাড়ি পিরিয়ড বা দেরিতে মেনোপজ ক্যানসারের জন্য দায়ী। তা কিন্তু নয়। আমাদের দেশের মহিলারা সাধারণত ট্র্যাডিশনাল। সবকিছু ঠিক সময়ে হওয়া সত্ত্বেও স্তন ক্যানসারের প্রবণতা বেড়ে চলেছে।

কিম কর্তমেব

বয়স কুড়ি পেরোলেই  বছরে একবার ক্লিনিক্যালি চেক আপ করানোটা জরুরি। চল্লিশের ওপরে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ম্যামোগ্রাম করা দরকার। পরিবারের কারও এই রোগ থাকলে সতর্ক থাকতে হবে। নিজেই নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখতে শিখুন।

কীভাবে

আয়নার সামনে নিজের স্তন ভালো করে দেখুন আকারে বা আকৃতিতে কোনও পরিবর্তন লক্ষ্য করছেন কিনা। নিপল কুঁচকে গেছে কিনা, টোল পড়েছে কিনা, চামড়া পুরু হয়ে গেছে কিনা অথবা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এমন কোন স্ফীতি আছে কিনা। শুয়েও পরীক্ষা করা যায়। চিৎ হয়ে শুয়ে একটি হাতের তালু দিয়ে স্তন দৃঢ় ভাবে চাপ দিয়ে দেখুন কোনও রকম স্ফীতি অনুভূত হচ্ছে কিনা। স্ফীতি অনুভব করলে তা সব সময়ে ভয়ের মোটেই নয়। কারণ দেখা গেছে স্তনের টিউমার ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রেই বিনাইন, অর্থাৎ ক্যানসার নয়। তবে লাম্প অনুভব করলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ঠিক চিকিৎসা না হলে?

সেভাবে কিছু বলা যায় না কারণ বিনাইন টিউমার থেকে ক্যানসার প্রায় হয় না বললেই চলে। তবে বিনাইন আর ক্যানসারের মাঝে অনেক সময়ে প্রি ক্যানসার স্টেজ থাকে। সেই সময়ে হোমিওপ্যাথি, আয়ুর্বেদ, বাবা, তাবিজ, কবজ , টোটকা চালালে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

চিকিৎসায় কাজ হয়?

ব্রেস্ট ক্যানসার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। যদিও তা নির্ভর করে রোগী কোন স্টেজে রয়েছেন। প্রাথমিক পর্যায়ে এলে স্তন কেটে বাদ দেওয়ারও প্রয়োজন হয় না। চিকিৎসার খরচ কমে।

কী ধরনের চিকিৎসা হয়?

চিকিৎসা বলতে সাধারণত যা করা হয় তা হল- সার্জারি, রেডিয়েশন, কেমো, হরমোন থেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি।

পুরুষদের স্তন ক্যানসার হয়?

খুব কম। সাধারণত এক শতাংশেরও কম পুরুষ এই রোগে আক্রান্ত হন। পুরুষদের ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয় অনেক সহজ। এক্ষেত্রেও কারণ ঠিক ভাবে জানা যায়নি। পুরুষদের ক্ষেত্রেও চিকিৎসা অনেকটা মহিলাদের মতই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here