ডাঃ দেবাশিস বসু, ডায়াবেটোলজিস্ট

অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হল ডায়াবেটিস বা মধুমেহ। ডায়াবেটিস একটি বিপাকজনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারণে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময় তা প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ

ক. ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া

খ. খুব বেশি তেষ্টা পাওয়া

গ. বেশি ক্ষুধা পাওয়া

ঘ. যথেষ্ট খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া

ঙ. ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা

চ. ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়া

ছ. খোস-পাঁচড়া, ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া

জ. চোখে কম দেখা।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে কী ধরণের জটিলতা হতে পারে?

পক্ষাঘাত, স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা, হৃদরোগ, পায়ে পচনশীল ক্ষত, চক্ষুরোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া ও পরবর্তীতে কিডনির কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া। পাতলা পায়খানা, যক্ষ্মা, মাড়ির প্রদাহ, চুলকানি, ফোঁড়া, পাঁচড়া ইত্যাদি। তাছাড়া রোগের কারণে যৌনক্ষমতা কমে যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশি ওজনের শিশু জন্ম, মৃত শিশুর জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পরেই শিশুর মৃত্যু এবং নানা ধরনের জন্মগত ত্রুটি দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা ও স্বাস্থ্য ভালো রাখা।

কী খাবেন

ক. শরীরের ওজন বেশি থাকলে কমানো বা কম থাকলে বাড়িয়ে স্বাভাবিক করা এবং স্বাভাবিক থাকলে সেটা বজায় রাখা।

খ. চিনি, মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দেওয়া।

গ. শর্করাবহুল খাবার কিছুটা হিসাব করে খাওয়া।

ঘ. আঁশবহুল খাবার বেশি খাওয়া।

ঙ. সম্পৃক্ত ফ্যাট কম খাওয়া এবং অসম্পৃক্ত ফ্যাট খাওয়ার অভ্যাস করা।

চ. ক্যালোরিবহুল খাবার নির্দেশিত পরিমাণে খাওয়া।

ছ. নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া।

জ. কোনো বেলার খাবার খাওয়া বাদ না দেওয়া।

ঝ. আজ কম, কাল বেশি এভাবে না খাওয়া।

সাধ্যমতো কায়িক পরিশ্রম ও ব্যায়াম

রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যায়াম বা শরীরচর্চার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম মাংসপেশির জড়তা দূর করে এবং রক্ত চলাচলে সাহায্য করে। শরীর সুস্থ থাকে। ফলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বেড়ে যায়। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট এবং সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন হাঁটলে শরীর যথেষ্ট সুস্থ থাকবে।

ওষুধ

সব ডায়াবেটিস রোগীকেই খাদ্য ব্যবস্থা, ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে যথাযথভাবে পালন করতে পারলে রোগ নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। কিন্তু টাইপ-১ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ইনসুলিন ইনজেকশনের প্রয়োজন হয়। টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন ব্যবহার করতে হয়।

খবর অনলাইনে শরীরস্বাস্থ্য সংক্রান্ত আরও নানা লেখা পডুন www.khaboronline.com/category/health/

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন