Connect with us

শরীরস্বাস্থ্য

স্বাস্থ্য সাবধান: হঠাৎ ক্ষণস্থায়ী শ্বাসকষ্ট? শরীর অবশ? প্যানিক আট্যাক

panic attack

দীপঙ্কর ঘোষ

তখন ভরা ভর্তি দুপুর। খটখটে সূর্য আকাশ জুড়ে চমকাচ্ছে। আমাদের দীর্ঘনাসা ইন্দ্রলুপ্তযুক্ত আধবুড়ো ডাক্তার ছাতপাখার তলায় টেবিলে মাথা রেখে ঝিমুচ্ছেন। ওঁর সুন্দরী পিসিমা কানে যন্ত্র গুঁজে গানে মগ্না। এমন সময়ে পাংশুমুখে হতদরিদ্র একটি পরিবারের তিন জন এসে দুয়ারে উপস্থিত। এঁদের মধ্যে একজন মধ‍্যবর্তী যিনি কৃশদেহী, তিনি ঘর্মাক্ত কলেবর, চোখ শিবনেত্র হয়ে আছে। বাকি দু’জন কোনোক্রমে রোগীকে নিয়ে হাতুড়ে ডাক্তারের ঘরে শুইয়ে দিলেন।

“ভয়ানক শ্বাসকষ্ট, বুকে ব‍্যথা, শরীল অসাড় হৈয়ে যাচ্ছে ছার…।”

কপাল ও ঘাড়ের ঘাম নোংরা গামছায় মুছতে মুছতে বাকি দু’জনের বেশি বয়স্ক জন যিনি তিনি বললেন – “পেরায় দিন‌ই – দিনে রেতে ঝ‍্যাখন ত‍্যাখন এরম হয় – চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায় – কত ডাক্তার, কত বদ‍্যি, ওঝা-গুনিন – সব কৈরেছি, শ‍্যাষে হুই দশতলা হাসপাতালে ভর্তি রেখেছিনু, দু’ বিঘাখানেক জমি আছিল, বিক্রি করে হাসপাতালের ত্থেকি ছাড়িয়ে এনেছি…।”

কমবয়স জন মাথা নিচু করে বলে, “সব রকম পরীক্ষানীরিক্ষা করায়ে নিছে ছার, শ‍্যাষে বলল হার্টের ভিত্রে তার ঢুকায়ে কী য‍্যান করবে, তাই স‌ই দিয়ে নিয়ে আইছি, এ বার আপ্নেই ভরসা।”

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সাবধান: স্তন ক্যানসার, কিছু প্রশ্ন, কিছু উত্তর

ডাক্তারের মনে হল ছেলেটা বলল, এখন এলাহি (আল্লাই) ভরসা। বুড়ো হাতুড়ে বড়ো সংকুচিত হলেন। কতটুকুই বা ওঁর ক্ষমতা? ওঁর নিজের মা-বাবা তো ওঁর অধীনে ভর্তি থেকেই মারা গিয়েছেন। ওঁর ক্ষমতায় কুলোলে তো মরতেই দিতেন না।

একটুক্ষণ দু’ চোখ বন্ধ করে তার পর আবার দরিদ্র পরিবারটির দিকে তাকালেন। রোগী দেখার বিছানায় শায়িত রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসের হার মিনিটে চোদ্দো। কপালভর্তি বিন্দু বিন্দু ঘাম। মুখে অসম্ভব ভয়ের ভাব। হাতুড়ে ডাক্তার ওঁর হাতটা আলতো করে ধরলেন। নাড়ি চুয়াত্তর। হাতুড়ে নিজের রংচটা পায়াভাঙা চেয়ারে আসীন হলেন। যখন উনি স্বাধীন ভাবে চিকিৎসাব‍্যবসা আরম্ভ করেন তখন ওঁর দক্ষিণা ছিলো দশ টাকা – আজ বহু বছর পর বহু গুণ বেড়েছে – তার কিছু তো প্রতিদান ওঁকে দিতেই হবে।

উনি রোগীর দিকে তাকালেন। বহু বদ‍্যি ঘুরে ঘুরে চিকিৎসায় বিশ্বাস তলানিতে। এখন প্রয়োজন র‍্যাপিড ফায়ার রাউন্ড। হাতুড়েকে রোগীর অসুবিধাগুলো বলে দিতে হবে – যাতে বেচারা বোঝেন যে এই বুড়ো ওঁর রোগটা ধরতে পেরেছেন।

হাতুড়ে অর্ধ-নীমিলিত নয়নে বলেন, “আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব। হ‍্যাঁ আর  না’-এ উত্তর দেবেন, ঠিক আছে?” রোগী চোখে চোখে সম্মতিসূচক উত্তর দিলেন।

“আপনার যখন কষ্ট আরম্ভ হয় তখন বুক ধড়ফড় করে?”

“হাত পা অসাড় হয়ে আসে?”

“গোটা শরীর ঘেমে যায়?”

“মনে হয় এক্ষুনি মরে যাবেন?”

“ঘরের ভেতরে থাকতে ভয় হয়?”

“তখন দম আটকে আসে?”

“হঠাৎ করে কখনও ঘুমের মধ‍্যেও এ রকম হয়?”

রোগীর বাড়ির লোক হড়বড়িয়ে ওঠে, “ও ডাক্তারবাবু, এরমটা তো বহু দিন হৈছে গো – মাঝরেতে সে কী ক‍্যাঁচাল – অক্সিজেন দ্দেয়েও কমে না… সেই সালাডা রাত সেই ট্ঠায় হাসপাতালের গাছতলায় – বাড়ির মানুষটার বড় কষ্ট গো – দ‍্যাহো না যদি একটু সারায়ে দিতি পারো… যা চাও তাই দেবোই গো।”

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সাবধান: প্রস্টেট ক্যানসার – কাঁধে ব্যথা এবং এক ভয়বিহ্বল রোগী

হাতুড়ে খসখস করে একটা পাতায় কী যেন লেখেন – “যান, এটা একপাতা নিয়ে এসে একটা জিভের তলায় দিয়ে দিন – আমি আধঘণ্টাটাক পরে দেখব” – বলে গটগটিয়ে ওঁর পরম বন্ধু হাবুল সাহার পানের দোকানে গিয়ে মনোজকে দু’টো চা বলেন। সেই মাত্র তখন হাবুলবাবুকে শীতল পানীয়ের কোম্পানি থেকে একটা মস্ত ফ্রিজ দিয়ে গিয়েছে। হাবুলবাবুর ছোট্ট দোকানে সেটা বসাতে গিয়ে বেচারার টাকে ঘাম জমেছে। দু’জনে এক কাপ করে চা পান করে হাতুড়ে উদ্‌গার তুলতে তুলতে খুপরিতে ফেরেন। শীর্ণকায় ছিন্নপোশাক বয়স্ক রোগী তখন অন্তত সত্তর ভাগ সুস্থ।

হাতুড়ে একটা মজারু হাসি হাসেন – “কী মশয়, কেমন বোধ করছেন?”

রোগীর ঠোঁট-চিবুক বেয়ে হাসি গড়িয়ে পড়তে থাকে, “হ‍্যাঁ অনেকটা ভালো… কিন্তু বড্ড মাথায় যন্তন্না – ঠিক ব‍্যথা নয় যন্তন্না।”

হাতুড়ে রোগীর প্লাস্টিকের প‍্যাকেট থেকে একটা সাদা কৌটো (সর্বিট্রেট জাতীয় ওষুধের) বার করে বলেন, “এটা খেয়েছেন তো? এই ওষুধে কখনও কখনও মাথাব্যথা হয় – তাতে কোনো ক্ষেতি নেই – সেরে গেলে কমে যাবে।”

হাতুড়ের ব‍্যবস্থাপত্র নিয়ে যাওয়ার সময় রোগীপার্টির বাচ্চা ছেলেটা প্রশ্ন করে, “আচ্ছা এই রোগটা কী ডাক্তারবাবু?”

হাতুড়ে চমৎকার গাম্ভীর্য নিয়ে বলেন, “লেখা আছে… তবু বলি এটার নাম প‍্যানিক অ্যাটাক – দুশ্চিন্তা, হতাশা থেকে এই রোগটা হয় – এই রকম হয়তো আর হবে না – তবে হলে ওই পাতা থেকে একটা বড়ি জিভের তলায় দিয়ে দেবেন, তার পর ভালো নার্ভের ডাক্তার মানে নিউরোসাইকিয়াট্রিস্ট দেখিয়ে নেবেন।”

রোগীপার্টির বয়স্কজন জিজ্ঞেস করেন, “হ‍্যাঁ ডাক্তারবাবু, এই পিকনিক অ্যাটাক এটা …মানে ওই বড়ো হাসপাতালের ডাক্তাররা জানেন না?”

হাতুড়ে অন‍্যমনস্ক ভাবে সুন্দরী রিসেপশনিস্টকে হাঁক পাড়েন, “অ পিসিমা আয় রে, এ বার ঝাঁপ বন্ধ করি।”

(লেখক চিকিৎসক)

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

শরীরস্বাস্থ্য

কোমরের পেছনের মেদ কমান এই ব্যায়ামগুলির সাহায্যে

fat

খবর অনলাইন ডেস্ক : পেটের দুই পাশে ও কোমরের পিছনের দিকে মেদ জমেছে? কীভাবে কমাবেন ভেবে পাচ্ছেন না? চিন্তা করবেন না। শরীরের এই অংশের মেদ কমানোর জন্যও রয়েছে বেশ কয়েকটি সহজ ব্যায়াম। সেগুলি নিয়মিত করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন

প্রথমে জেনে নেওয়া যাক শরীরের এই অংশে কেন মেদ জন্মায় –

১। হাইপো থাইরয়েডের কারণে মেটাবলিজম রেট কমে যাওয়ার ফলে

২। শারীরিক পরিশ্রম কম করলে বা না করলে

৩। ফ্যাট, সুগার ও ক্যালোরি সম্পন্ন খাবার বেশি খাওয়ার কারণে

৪। অতিরিক্ত মাত্রায় কর্টিজল হরমোনের কারণে

৫।  অনিয়মিত ঘুমের কারণে।

এই সমস্যাগুলির কারণে তৈরি মেদ কমানো যায় এই ব্যায়ামগুলির সাহায্যে –

রাশিয়ান টুইস্ট –

এই ক্ষেত্রে টুইস্ট করতে হয় তবে বসে। প্রথমে মাটিতে বসতে হবে। তার পর ৪৫ ডিগ্রি হেলে যেতে হবে তার পর দুই পা ভাঁজ করতে হবে। এই অবস্থায় মাটি থেকে পা তুলে রাখতে হবে। এ বার কোমরের উপরের অংশ টুইস্ট করতে হবে হাত দু’টি এক সঙ্গে। অর্থাৎ এক বার বাঁ দিক তার পর ডান দিক ঘুরতে হবে। পা তুলে করতে না পারলে প্রথম প্রথম পা মাটিতে ভাঁজ করা অবস্থায় রেখেও করা যাবে। এটি ২০ বার করতে হবে।

বাই সাইকেল ক্রাঞ্চেস –

প্রথমে মাটিতে শুতে হবে। এর পর দুই পা ভাঁজ করতে হবে। এ বার মাথা পিঠসমেত মাটি থেকে তুলতে হবে। এর পর মাথার পেছনে দুই হাত রেখে শরীর ডান বাঁয়ে ঘোরাতে হবে। সঙ্গে পা সাইকেল চালানোর মতো চালনা করতে হবে। মনে রাখতে হবে ডান দিকে বেঁকলে বাঁ পা লম্বা হবে, বাঁ দিকে বেঁকলে ডান পা লম্বা হবে। এই ভাবে ২০ বার করতে হবে।

উড চপার্স –

দুই পা অল্প ফাঁক করে দাঁড়িয়ে হাঁটু সামান্য ভেঙে এই ব্যায়াম করতে হয়। এর জন্য দুই হাত এক সঙ্গে করে ডান দিকের কান বরাবর ওপর থেকে বাঁ দিকের নীচে কোমরের পাশ পর্যন্ত ঘুরিয়ে আনতে হবে। নীচে আনার সময় ডান পায়ের হাঁটু ঘুরিয়ে সামান্য ভাঁজ হবে। ঠিক যেন কুড়ুল দিয়ে কাঠ কাটার ভঙ্গি। এই ভাবে ২০ বার টানা করার পর উলটো দিকে একই ভাবে ২০ বার করতে হবে।   

আরও পড়ুন – মেদহীন দেহ পেতে সহজ ৩টি ব্যায়াম

Continue Reading

শরীরস্বাস্থ্য

ব্রকলি খাবেন কেন? তার ২২টি কারণ জেনে নিন

ব্রকলি

খবরঅনলাইন ডেস্ক: কপি জাতীয় সবজির মধ্যে অন্যতম হল ব্রকলি। বিদেশি সবজি হলেও আজকাল এ দেশেও উৎপাদন হচ্ছে। বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবুজ রঙের সবজিটি। আগে কন্টিনেন্টাল জাতীয় খাবারেই এর ব্যবহার ছিল। এখন নিজের পছন্দের মশলায় আর সবজির মেলবন্ধনে অনেক রান্নাঘরেই নতুন নতুন স্বাদের সৃষ্টি করে এই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারটি।

রান্নার পদ্ধতি যা-ই হোক, খাবারটির পুষ্টিগুণ খাদ্যগুণই হল আসল। সে দিক থেকে ব্রকলির দর কিছু কম নয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, নানান ধরনের ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। সঙ্গে ক্যালোরির পরিমাণও খুবই কম। ফলে এটি নিয়মিত খেলে এর উপকারিতা শরীর ও স্বাস্থ্যকে সমৃদ্ধ করে।

এখন বরং দেখে নেওয়া যাক ব্রকলি নিয়মিত খেলে কী কী উপকার হয় –

১। ক্যানসার প্রতিরোধে –

ব্রকলির গুনাগুণ ক্যানসার রোধ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইমিউন পাওয়ার অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ব্রকলি শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাতে সহজে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে না। ব্রকলি জরায়ু এবং স্তন ক্যানসার, মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর।

দেখুন – ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ এক যুগান্তকারী আবিষ্কার

২। কোলেস্টেরল কমাতে –

শরীর থেকে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ব্রকলি। কারণ, এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা দ্রবণীয় অবস্থায় থাকে অর্থাৎ এই ফাইবার জলে দ্রাব্য। এই ধরনের ফাইবার শরীর থেকে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল বের করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রকলি শরীর থেকে ৬% হারে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে পারে।

৩। মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় –

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা, স্মৃতিশক্তিও রক্ষা করাতেও সক্ষম ব্রকলি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্রকলিতে সালফোর‍্যাফেইন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, তাই প্রতি দিন খেলে তা বয়স বাড়ার ফলে স্মৃতিভ্রম রোধ করতে পারে। এর বায়োঅ্যাক্টিভ কম্পাউন্ড মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।

৪। অ্যালার্জি কমায়

মানবদেহে বিভিন্ন কারণে অ্যালার্জি হয়। অ্যালার্জি এবং প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে পারে ব্রকলি। কারণ, ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি অ্যাসিড রয়েছে, এটি প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে।

৫। বাতের ব্যথায় –

বাতের সমস্যায় খুব ভালো কাজ দেয়  ব্রকলি। কারণ এতে সালফোরাফেইন উপাদান থাকে। এই উপাদানটি হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার রোধ করে।

৬। রক্তশূন্যতা দূর করে –

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক কাপ বা ১৫৬ গ্রাম রান্না করা ব্রকলিতে আছে ১ মিলিগ্রাম আয়রন। এই পরিমাণ আয়রন প্রতি দিনের প্রয়োজনের ৬% আয়রনের চাহিদা পূরণ করে। আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করতে খুব প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া ব্রকলিতে আছে প্রচুর ভাইটামিন । এই ভিটামিন সি আয়রন শুষে নিতে শরীরকে সাহায্য করে।

৭। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুফল –

থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  শরীরকে নানা দিক থেকে সুস্থ রাখে। ব্রকলির মধ্যে থাকা ভিটামিন সি, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়াও, ব্রকলির মধ্যে থাকে ফ্ল্যাবোনয়েড। এটি ভিটামিন সি-এর বিপাকে সাহায্য করে। এ ছাড়াও আছে ক্যারোটেনয়েড লুটেইন, জিয়াকজ্যান্থিন, বিটাক্যারোটিন এবং অন্যান্য অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট।

পড়তে পারেন – দ্রুত ছড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে! কী এই করোনা ভাইরাস?

৮। হাড়ের জন্য –

ব্রকলির মধ্যে থাকে ভিটামিন কে এবং ক্যালসিয়াম। এই দুই উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অস্টিওপোরোসিস হওয়ার আশঙ্কা কমায়। ব্রকলির মধ্যে ক্যালসিয়াম ছাড়াও থাকে ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক এবং ফসফরাস। উল্লেখ্য ব্রকলির মধ্যেকার এই সব পৌষ্টিক উপাদান শিশুদের জন্য এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য খুবই উপকারি।

উল্লেখ্য অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ যা সাধারণত ক্যালসিয়াম এবং  ভিটামিনের অভাবে হয়। এতে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।  এর সালফোর‍্যাফেইন অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোধ করতে পারে।

৯। গর্ভবতী মহিলা ও ভ্রূণের জন্য –

ব্রকলিতে আছে প্রচুর ভিটামিন বি। বিশেষ করে ভিটামিন বি৯ অর্থাৎ ফোলেট। ভ্রূণের মস্তিষ্ক গঠনের জন্য ফোলেট খুব দরকারি। গর্ভাবস্থায় প্রতি দিন ফোলেট যুক্ত খাদ্য খাওয়া ভালো। তাতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এ ছাড়া যে সকল মা শিশুকে স্তন্যপান করায়, তাদের জন্যও খুবই উপকারী।

১০। হার্ট ভাল রাখতে –

এর খাদ্যগুণ রক্তনালিকে নানান সমস্যায় পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি অর্থাৎ, ব্লাড সুগারের সমস্যা রয়েছে তাদের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। কিন্তু ব্রকলি এই জাতীয় সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে। ব্রকলির মধ্যে ফাইবার, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং নানান ধরনের ভিটামিন থাকে। এর ফলে, রক্তচাপের সঠিক মাত্রা বজায় থাকে। তা ছাড়া ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল রোধ করতে পারে। এই সবই হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে থাকে ভিটামিন বি৬। এই উপাদানটি অথেরোস্ক্লেরোসিস, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকেরও ঝুঁকি কমায়।

 ১১। ওজন কমাতে –

ওজন কমাতেও সাহায্য করে ব্রকলি। এর মধ্যের প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এই ক্ষেত্রে উপকারী। ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা দেহে প্রোটিনের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে।

পড়ুন – পেটের মেদ কমাতে ৫টি খুব সহজ ব্যায়াম

১২। ক্ষত নিরাময়ে –

এক কাপ ব্রকলিতে যে পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম। সঙ্গে শরীরের কাটা অংশ এবং ক্ষত নিরাময়েও কার্যকর ভূমিকা নেয়। ইনডোল-৩-কার্বিনোল নামে একটি অতি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে ব্রকলিতে। এটি সার্ভিকল ক্যানসার ও অগ্র গ্রন্থির ক্যানসারের ক্ষেত্রে উপকারী। লিভার ফাংশনের উন্নতি করতেও সাহায্য করে।  

১৩। দূষিত পদার্থ দূর করে –

ব্রকলির একাধিক উপকারি উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সাহায্য করে।

১৪। কোষ্ঠকাঠিন্য –  

এর মধ্যেকার ফাইবার পরিপাকে ক্রিয়া ভালো করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। তা ছাড়া রক্তচাপের সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। ব্রকলি হল একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স, যা পেট এবং পাচনতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। এতে প্রচুর ফাইবার ও অ্যন্টি অক্সডেন্ট থাকে বলে তা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। মলত্যাগের সমস্যা দূর হয়।

১৫। ত্বকের যত্নে –

ব্রকলি শুধু ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে নয়, ত্বকের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, তার জন্য প্রতিরোধক্ষমতাও গড়ে তোলে। ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পৌষ্টিক উপাদান ভিটামিন সি, খনিজ উপাদান যেমন জিঙ্ক এবং কপার, ভিটামিন কে, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ফোলেট ইত্যাদি ত্বকের উপকার করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

১৬। চোখের যত্নে –

ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে। এ ছাড়াও থাকে ভিটামিন এ, ফসফরাস এবং অন্যান্য ভিটামিন যেমন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি এবং ই। এই সব উপাদান চোখের ক্ষেত্রে দারুণ ভাবে উপকার করে। এ ছাড়াও, চোখের নানা রকম রোগ এবং সমস্যা দূর করে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১৭। দাঁত ও মুখের রোগে –

এতে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম দাঁতের রোগের ঝুঁকি কমায়। ব্রকলির ক্যামফেরল নামক ফ্ল্যাভনয়েড পেরিওডেন্টাইটিস রোধ করে। ব্রকলির সালফোর‍্যাফেইন মুখের ক্যানসারেরও আশঙ্কা কমায়।

১৮। বয়স ধরে রাখতে –

ব্রকলির মধ্যে যে সকল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, তা শরীরকে বাইরে থেকে শুধু নয় ভিতর থেকেও সুস্থ রাখে। ভিটামিন সি বয়স ধরে রাখে, বিভিন্ন ফ্রি র‍্যাডিকাল প্রতিরোধ করে। এ ছাড়াও ব্রকলি খেলে ত্বকে বলিরেখা, মেচেতা, ব্রণ ইত্যাদি দূর হয়। ব্রকলিতে থাকা গ্লুকোরাফানিন ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের টিসু মেরামত করে। তারুণ্য ধরে রাখে। বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ বয়স বৃদ্ধির প্রধান কারণ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মেটাবলিক ফাংশান কমে যাওয়া। এর বায়ো অ্যক্টিভ কম্পাউন্ড সালফোর‍্যাফেইন বয়সের বৃদ্ধির গতি কমাতে পারে।

১৯। স্নায়ু ও পেশির জন্য –

ব্রকলিতে রয়েছে অনেক পটাশিয়াম। এই পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করে, সুস্থ এবং রোগমুক্ত রাখে। তা ছাড়া পেশির বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। অপটিমাল ব্রেন ফাংশন রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকাও অপরিসীম।

২০। রক্তচাপ –

 এতে ম্যাগনেশিয়াম আর ক্যালশিয়ামও রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

২১। মধুমেহ –

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্রকলি উপকারী। এটি চিনির প্রভাব রোধ করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা কম করে।

২২। মানসিক চাপ  –

নিয়মিত ব্রকলি খেলে তার খাদ্য ও পুষ্টিগুণে মানসিক চাপ কম হয়।

আরও পড়ুন – যৌবন ধরে রাখতে চান? এই ৯টি খাবার অবশ্যই খান

Continue Reading

খাওয়াদাওয়া

প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে রোজের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন এই খাবারগুলি

food

খবরঅনলাইন ডেস্ক :  করোনাকালে সব থেকে বেশি দরকার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো। তা হলে এই ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দরকার উপযুক্ত খাবারেরও। কয়েকটি খাবার নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বেই বাড়বে।

১। রসুন –

এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ধমনীতে দূষিত পদার্থ জমতে দেয় না। রক্ত সংবহনতন্ত্র সংকীর্ণকারী উৎসেচক নির্গত হওয়া কমায়।

২। চকোলেট –

শুনলে অবাক হবেন না, চকোলেটও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুব সাহায্য করে। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের আশঙ্কা কমায়। হাভার্ডের একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিয়মিত বিশুদ্ধ কোকো খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ও হাইপারটেনশন হয় না।

৩। আমন্ড –

এটি কগনেটিভ ফাংশনকে ভালো করে, হৃদরোগ হতে দেয় না। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

৪। বেদানা –

রক্তনালি সাফ রাখতে সাহায্য করে বেদানা। প্রচুর অ্যান্টিওক্সিডেন্টে ভরপুর তাই অক্সিডেন্ট জমতে দেয় না। প্রস্টেট ক্যানসার, মধুমেহ, স্ট্রোক ইত্যাদির আশঙ্কা কমায়।

৫। বিট –

যদিও শীতকাল ছাড়া পাওয়া একটু সমস্যা। তবুও বিট স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ রয়েছে এতে।

৬। হলুদ –

হলুদের তুলনা হয় না। হৃদযন্ত্র বড়ো হয়ে যাওয়া আটকায় হলুদ। উচ্চ রক্তচাপ কমায়, মোটা হয়ে যাওয়া আটকায়। খাদ্যগুণ অসীম।

৭। আপেল –

এতে আছে প্রচুর পরিমাণ মিনারেল, অ্যান্টিওক্সিডেন্ট, ভিটামিন। হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

৮। বেগুন –

নাম বেগুন হলেও গুণ অপরিসীম। ফ্ল্যাবোনয়েড, খনিজ, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর। হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়।

৯। ব্রকলি –

রক্তনালির ক্ষমতা বাড়ায়, খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমটারি উপাদান। ব্ল্যাড সুগার সংক্রান্ত সব রকম সমস্যা কমায়।

১০। গাজর –

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে অন্যতম খাদ্য গাজর। প্রচুর খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে। ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। হাড় ও হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ায়।  

পড়ুন – করোনা কালে হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এই ১০টি খাবার অবশ্যই খান

Continue Reading
Advertisement
বিনোদন6 hours ago

‘সড়ক ২’ পোস্টার: ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে মহেশ ভাট, আলিয়া ভাটের বিরুদ্ধে মামলা

রাজ্য7 hours ago

রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার দিন আক্রান্তের সংখ্যাতেও নতুন রেকর্ড, রাজ্যে বাড়ল সুস্থতার হারও

দেশ7 hours ago

নতুন নিয়মে খুলছে তাজমহল!

wfh
ঘরদোর8 hours ago

ওয়ার্ক ফ্রম হোম করছেন? কাজের গুণমান বাড়াতে এই পরামর্শ মেনে চলুন

দেশ8 hours ago

আতঙ্ক বাড়িয়ে ফের কাঁপল দিল্লি

শিল্প-বাণিজ্য8 hours ago

কোভিড-১৯ মহামারি ভারতীয়দের সঞ্চয়ের অভ্যেস বদলে দিয়েছে: সমীক্ষা

fat
শরীরস্বাস্থ্য9 hours ago

কোমরের পেছনের মেদ কমান এই ব্যায়ামগুলির সাহায্যে

বিদেশ9 hours ago

নরেন্দ্র মোদীর ‘বিস্তারবাদী’ মন্তব্যের পর চিনের কড়া প্রতিক্রিয়া

নজরে