ডাঃ কল্যাণব্রত দাস, জেনারেল মেডিসিন

গরমে ঠান্ডা লাগার প্রবণতা নিতান্ত কম থাকে না। হঠাৎ হঠাৎ সর্দি কাশি সঙ্গে জ্বর। মুসকিল হয় শিশুদের নিয়ে বেশি। কী করবেন এরকম সমস্যায় পড়লে? প্রথমেই জানা দরকার, এ সময়ে ঠান্ডা লাগার অন্যতম কারণ ইনফেকশন ভাইরাস।

রোগের লক্ষণ:

• হঠাৎ করে নাকে ও গলায় সুড়সুড়ি লাগে, জ্বালা করে।
• হাঁচি হয়, নাক দিয়ে অনবরত জল ঝরে, নাক বন্ধ হয়ে যায়।
• গা ম্যাজ ম্যাজ ও ব্যথা করে, গলা ব্যথা করে, সামান্য জ্বর থাকতে পারে।
• ব্যাকটেরিয়াজনিত ইনফেকশন হলে জ্বর, সর্দি, মাথাব্যথা, সাইনাসের ব্যথা, কানব্যথা, ফুসফুসের প্রদাহ হতে পারে।
• কিছু জটিলতা যেমন- সাইনোসাইটিস, মধ্যকর্ণের প্রদাহ, ফুসফুসের প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

প্রাথমিক চিকিৎসা:

• রোগীকে বিশ্রামে থাকতে হবে। ঠান্ডা জাতীয় সব কিছু এড়িয়ে চলতে হবে। গরম খাবার ও পানীয় বেশি বেশি খেতে হবে।
• পুষ্টিকর খাবার ও প্রচুর পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
• ভিটামিন-সি জাতীয় খাবার যেমন লেবু, আনারস, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।
• এই রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় রোগীর সাথে অন্যান্য সুস্থ মানুষের মেলামেশা সাবধানে করতে হবে। রোগীর ব্যবহৃত তোয়ালে, গামছা, রুমাল ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবেনা।
• রোগী হাঁচি দেওয়ার সময় মুখে রুমাল দিতে হবে এবং যেখানে সেখানে কফ, থুতু বা নাকের ময়লা ফেলা যাবে না।
• প্রয়োজনে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শুধুমাত্র ঠান্ডা লাগলে করণীয়:

এমনিতে এই রোগের জন্যে বাড়তি কোনো ওষুধ খাবার প্রয়োজন হয় না। এমনিতেই মানুষের শারীরিক প্রতিবিধান অনুযায়ী এই রোগ সেরে যেতে পারে। দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী এই রোগের জন্যে করণীয় হিসেবে বাড়ির বাইরে বেশি বের না হওয়া ভাল। কারণ তাহলে এক রোগ থেকে অন্য রোগে মোড় নিতে পারে। তাছাড়া অন্যদের দেহেও এই রোগ সংক্রামিত হতে পারে। তবে খুব বেশি মাত্রায় ঠান্ডা লাগলে মেডিসিন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here