ডাঃ জয়দীপ ভৌমিক (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ)

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম(পিসিওএস) হরমোনের সমস্যা। প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে আট থেকে ১০ জনের এই রোগ থাকতে পারে। এ সমস্যার ঠিক কোনো কারণ জানা যায় না। তবে বংশে এ রোগ থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে,  যেসব মেয়েদের শিশুকাল থেকেই ওজন বেশি, যারা ফাস্টফুডে আসক্ত,  তাদের পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি হয়।

পিসিওএস এর ফল

পিসিওএসের প্রভাবে শরীরে মারাত্মক কোনো সমস্যা হয় না, তবে এটি শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে। এর ফলে প্রতি মাসে ডিম্বানু তৈরি হয় কিন্তু ওভারি থেকে নির্গত হতে পারে না। এই ডিম্বানুগুলো ওভারিতে সিস্ট তৈরি করে জমা থাকে। এ সমস্যায় আক্রান্ত নারীদের মাসিক সময়মতো হয় না। কখনও কখনও মাসিক বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ঠিকমতো ওভুলেশন না হওয়ায় গর্ভধারণ করতে সমস্যা হয়। ব্রন, কালো দাগ, শরীরের ওজন বৃদ্ধি,  চুল পড়া ও শরীরে অবাঞ্ছিত লোম দেখা যায়।

বুঝবেন কী করে

পিসিওএস শনাক্তকরণের জন্য কোনো নির্দিষ্ট টেস্ট নেই। সাধারণত উপসর্গ দেখে রোগটি সম্পর্কে ধারণা করা যায়। আলট্রাসনোগ্রাম করে ওভারিতে সিস্ট আছে কি না দেখা হয়। সাধারণত ওভারিতে ১০ থেকে ১২ বা এর অধিক সিস্ট থাকলে ওই ওভারিকে পলিসিস্টিক ওভারি বলে।

জটিল হলে

কিছু ক্ষেত্রে পিসিওএস জটিল রূপ ধারণ করে। যেমন, আক্রান্তদের শরীরে ইনসুলিন ঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। এর ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায় ও ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ছাড়া কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায় এবং জরায়ু ক্যান্সারের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

কী করবেন

জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও যথাযথ খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে জটিলতা এড়ানো যায়। বিশেষ করে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে পারলে পিসিওএসজনিত জটিলতা কম হয়। এ জন্যে আক্রান্তদের নিয়মিত শরীরচর্চা ও খাবার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আদর্শ ওজন বজায় রাখতে হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন