ডাঃ অঞ্জন ভট্টাচার্য, শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ

তপন আর নন্দার ছেলের বয়স তিন ছুঁই ছুঁই। আদর করে নাম দিয়েছে ঋত্বিক। ডাক নাম বুবুন। বাবা-মা সুন্দর তাই ছেলেকেও বেশ দেখতে। কিন্তু যত দিন যাচ্ছে একটা দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ঘিরে ধরছে ওদের দুজনকে। বুবুন কথা বলে না। শুধু তাই নয় বুবুন যেন আর পাঁচটা বাচ্চার থেকেও একটু আলাদা। ডাকলে সাড়া দেয় না। মুখ দিয়ে শব্দ বের করে কিন্ত বাবা মা কাউকেই যেন ঠিক চেনে  না। সকলের কথা মত নিয়ে গেল ডাক্তারবাবুর কাছে। সেদিনই তপন আর নন্দা একটি নতুন মেডিক্যাল টার্ম শুনল। অটিজম।
অটিজম কোনো বংশগত  বা মানসিক রোগ নয়, এটা স্নায়ুগত বা মানসিক  সমস্যা। এ সমস্যাকে ইংরেজিতে নিউরো ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বলে। অটিজমে আক্রান্তরা সামাজিক আচরণে দুর্বল হয়, পারস্পরিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কম সক্ষম হয়। মানসিক সীমাবদ্ধতা ও একই কাজ বারবার করার প্রবণতা দেখা যায়।

অটিজমের লক্ষণ
অটিজমের লক্ষণগুলো অনেক সময় ১৮ থেকে ২৪ মাসের মধ্যে পরিলক্ষিত নাও হতে পারে। অনেক সময় ২৪ মাস থেকে ৬ বছরের মধ্যে পরিলক্ষিত হতে পারে। অটিজমের লক্ষণগুলি সাধারণত এইরকম:

১. শিশুর বয়স ১২ মাস পেরিয়ে গেলেও যদি কোনো শব্দ না করে।

২. বয়স ১২ মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো কিছু পাওয়ার জন্য হাত বা দৃষ্টি দিয়ে দেখিয়ে না দেওয়া বা কোনো কিছু আঁকড়ে না ধরা।
৩. ১৬ মাস বয়সের মধ্যে কোনো একটি শব্দ না বলা।
৪. ২৪ মাস বয়সের মধ্যে দুটি শব্দ না বলা।
৫. আগে রপ্ত করা কোনো দক্ষতা যে কোনো সময় যে কোনো বয়সে কমে যাওয়া।

অটিস্টিক শিশুর স্বাস্থ্য ও আইকিউ
বেশির ভাগ অটিস্টিক শিশুর স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে। শতকরা ৭০ ভাগ অটিস্টিক শিশুর আই কিউ ৭০-এর নিচে থাকে। অটিস্টিক শিশু জন্ম নিলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। শিশু যে অটিস্টিক, তা বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে দেখিয়ে চিকিৎসা করালে শিশুর মানসিক বিকাশ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

অটিজমের চিকিৎসা
সাধারণ মেডিকেল চিকিৎসা আর ওষুধ খেয়ে অটিজম থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব নয়। অটিজম চিকিৎসায় ওষুধের কোনো ভূমিকা নেই৷ এর জন্য প্রয়োজন শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ৷ অটিজম একটি মানসিক সমস্যা, তাই অভিভাবকদের প্রয়োজন অটিস্টিক শিশুকে একজন শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞের  কাছে নিয়ে যাওয়া। ঠিক পদ্ধতিতে চিকিৎসা পেলে অটিস্টিক শিশু সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অটিজম নিয়ে ভুল ধারণা
অনেকেই মনে করেন, অটিজম বংশগত রোগ। কিন্তু, সম্পূর্ণভাবে সুস্থ-স্বাভাবিক বাবা-মায়ের ঘরেও অটিস্টিক শিশু জন্মগ্রহণ করে থাকে। পরিবারের বা বংশের কেউ এই সমস্যায় আক্রান্ত না হলেও একটি শিশু অটিস্টিক হতে পারে। বাবা-মায়ের সঠিক পরিচর্যার অভাবে শিশু অটিস্টিক হয় এমন একটি প্রচলিত বিশ্বাস অনেকের মাঝেই রয়েছে। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, একান্নবর্তী পরিবার অথবা একমাত্র সন্তান হওয়ার পরও অটিস্টিক শিশু হয়ে থাকে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন