চোখের যত্ন নিন, কোভিড লকডাউনে মায়োপিয়া বাড়ছে

    আরও পড়ুন

    খবর অনলাইন ডেস্ক: আপনি কি আগের মতোই দেখতে পাচ্ছেন? স্ক্রিনে কিছু দেখতে গিয়ে চোখে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো? নিজের দৃষ্টিশক্তি আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে না কি হ্রাস পেয়েছে, খতিয়ে দেখার কথা ভাবাচ্ছে কোভিড লকডাউন।

    চোখ এখন অনেক বেশি স্মার্টফোন, ল্যাপটপ অথবা ট্যাবলেটে। পড়াশোনার জন্য অনলাইন ক্লাস হোক বা কাজের জন্য ওয়ার্ক ফ্রম হোম, সবেতেই চোখ নিবন্ধ এই বৈদ্যুতিন সরঞ্জামগুলিতে। আবার লকডাউন অথবা করোনা রুখতে কড়া বিধিনিষেধের জেরে আগের তুলনায় বাইরে বেরনোর সময় এখনও অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফলে ঘরের ভিতরের কাছাকাছি বস্তুগুলিতেই এখন আটকে পড়ছে মন এবং চোখ। এ ভাবেই আমরা ক্রমশ দূরের জিনিস দেখার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে চলেছি।

    Loading videos...

    দরকার চোখের ব্যায়াম

    বিশেষত, শিশুদের ক্ষেত্রে চোখের ব্যায়ামের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের সময় নেদারল্যান্ড এবং চিনে নাটকীয় ভাবে বেড়ে গিয়েছে মায়োপিয়া। যাতে শিশুরা খুব বেশি করে ভুগছে। এই ঘটনাটিকে বলা হয়েছে “কোয়ারেন্টাইন মায়োপিয়া” (quarantine myopia)।

    - Advertisement -

    ১ লক্ষ ২০ হাজার শিশুর উপর সমীক্ষা চালানো একটি তথ্যে বলা হয়েছে, ৬-৮ বছর বয়সি এই শিশুদের মধ্যে ২০২০ সালে মায়োপিয়ার সম্ভাবনা আগের তুলনায় তিনগুণ বেড়ে গিয়েছে।

    গঠনমূলক কারণ

    শিশুদের মধ্যে দূরের বস্তু দেখতে না পাওয়ার এই মারাত্মক সমস্যাটি খুব কম বয়সেই দেখা যায়। এক বার যখন তারা দূরের জিনিস সহজেই দেখতে শুরু করে, তখন সে ভাবেই থাকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, প্রাইমারি স্কুলে পড়ার সময়েই তাদের দূরদৃষ্টি শুরু হয় এবং বড়ো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা আরও বাড়তে থাকে। যত তাড়াতাড়ি এটা শুরু হয়, বৃদ্ধিও ততই তীব্র হয়। কারণ, বৃদ্ধিপ্রাপ্ত চোখ তখন আর সংকুচিত হয় না।

    আবার নেত্রগোলক যদি ৬-১০ বছরের মধ্যে খুব বেশি বৃদ্ধি পায়, তা হলে দূরের বস্তু দেখার বিপরীতে শিশুকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। তীব্র দূরদৃষ্টির ফলেও রেটিনা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, চোখের ভিতরে উচ্চ চাপের কারণে ছানি ছড়িয়ে পড়ে বা এমনকী পরবর্তী জীবনে কেউ অন্ধ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে।

    দূরত্ব এবং দিনের আলো

    মায়োপিয়া হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করা যেতে পারে বিভিন্ন উপায়ে। ঘনিষ্ঠ পরিসরে কোনো বস্তুকে খুব বেশিক্ষণ না দেখা। তবে শুধু স্মার্টফোন বা কোনো বই নয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল দূরত্ব। কোনো বস্তুকে এমন ভাবে দেখা প্রয়োজন যাতে দৃষ্টি দূর থেকে ঘুরে বেড়াতে পারে।

    বাইরে কাটানোয় মায়োপিয়া হ্রাস পেতে পারে। কারণ, দিনের আলো নেত্রগোলককে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে। বন্ধ ঘরে আলোর তীব্রতা গড়ে ৩০০-৫০০ লাক্স (আলোক স্তরের পরিমাপ) হয়, তবে উজ্জ্বল গ্রীষ্মের দিনে এটি প্রায় ১ লক্ষ লাক্স ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ার একটি পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, সেখানকার অন্ধকার মরশুমে মায়োপিয়া বেড়ে যায়, তবে উজ্জ্বল দিনে তা স্থিমিত হয়।

    আর কী কী সমস্যা হতে পারে

    বৈদ্যুতিন সরঞ্জামে বেশিক্ষণ চোখ থাকার ফলে যে শুধু দূরদৃষ্টির ক্ষতি হয় তাই নয়। এর ফলে বাচ্চাদের চোখ জ্বালা করতে পারে, ক্লান্ত হয়ে যেতে পারে অথবা শুকিয়ে যেতে পারে। ক্রমাগত স্ক্রিনের দিকে তাকানো স্থান-সংক্রান্ত সচেতনতাকেও প্রভাবিত করে। রাতের বেলা স্মার্টফোনের অত্যধিক ব্যবহার ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটাতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, স্ক্রিনে গাঢ় নীল রং মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদনে প্রভাব ফেলে। যে কারণে সহজে ঘুম আসতে চায় না। তবে অনেক ডিভাইসে এখন নাইট মোড রয়েছে। তবে শোবার প্রায় দু’ঘণ্টা আগে এ ধরনের ডিভাইসের ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে।

    বিশ্রাম এবং উপযুক্ত আলো

    স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা ট্যাবের মতো ডিভাইস ব্যবহারের সময় বেঁধে দিতে হবে। চক্ষু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৪-৬ বছর বয়সি বাচ্চাদের জন্য এ ধরনের ডিভাইস দিনে ৩০ মিনিটের বেশি ব্যবহার উচিত নয়।

    অন্য দিকে প্রাথমিকে পড়া বাচ্চাদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা এবং ১০ বছরের বেশি বয়স হলে প্রতিদিন ২ ঘণ্টার বেশি নয়। তবে এ ধরনের পরামর্শ শুধু শিশু এবং কিশোরদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। বড়োদের চোখেরও বিশ্রাম দরকার। তাই প্রায়শই স্ক্রিন থেকে চোখ সরিয়ে তাদের ঘুরে বেড়াতে দিন এবং আরো বেশি করে বাইরের দিকে তাকান।

    আরও পড়তে পারেন: দৈনিক সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও কমল মৃত্যু, সংক্রমণের হার সাড়ে ৩ শতাংশের নীচেই

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

    - Advertisement -

    আপডেট খবর