লাল ড্রাগন ও সাদা ড্রাগন।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: এক ধরনের ক্যাক্‌টাস প্রজাতির ফল ড্রাগন ফল। এই ফলের উৎস মেক্সিকো হলেও এখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফলের আর এক নাম পিটায়া ফ্রুট। শীতকালীন ফল গাজর, কমালেবুর থেকেও এর উপকারিতা বেশি। ড্রাগনের মধ্যে রয়েছে অনেক স্বাস্থ্যকর উপাদান। একটি ড্রাগন ফলে ৬০ ক্যালোরি শক্তি এবং প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি, ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ থাকে। এই ফলে বিটাক্যারোটিন ও লাইকোপিনের মতো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টও রয়েছে। বিটাক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে ত্বক, চোখ ও ইমিউন সিস্টেমের উন্নতি করে।

উপকারিতা

হার্টের উপকার করে, জয়েন্টের ব্যথা কমায়

Loading videos...

ড্রাগন ফলের বীজে হার্টের জন্য উপকারী ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৯ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। ড্রাগন ফলের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডে প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। এ কারণে এই ফল খেলে হার্টের রোগের ঝুঁকি ও জয়েন্টের ব্যথা কমে যায়। ড্রাগন ফল খেলে বিষণ্নতাও কমতে পারে।

হাড়ের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে

অধিকাংশ ফলের চেয়ে ড্রাগন ফলে ম্যাগনেসিয়াম বেশি থাকে। এটা হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধি করে ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধ করে। অস্টিওপোরোসিসে হাড় এতই দুর্বল হয়ে যায় যে সহজেই ভেঙে পড়তে পারে। এক বাটি ড্রাগন ফলে দৈনিক সুপারিশকৃত ম্যাগনেসিয়ামের প্রায় ১৮ শতাংশ পাওয়া যায়। পটাশিয়ামের ভালো উৎস হল ড্রাগন ফল। এই ফলে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান থাকে। বিশেষ করে হাড়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়ামের খুব ভালো উৎস হল ড্রাগন ফল। গবেষণায় দেখা গেছে, মাসিক চক্র স্থায়ী ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এমন নারীর হাড়ের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ড্রাগন ফল বিশেষ সহায়ক হতে পারে।

সাদা ও হলুদ ড্রাগন।

ডায়াবেটিস ও ক্যানসার প্রতিরোধে

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যানসার থেকে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে খুবই কার্যকর এই ফল। ড্রাগন ফল ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে। এই ফলে ক্যারোটিন নামক উপাদান রয়েছে, যা শরীরে থাকা টিউমারকে ধ্বংস করে। গর্ভবতী মায়েরাও খেতে পারেন সুস্বাদু এই ড্রাগন ফল।

অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে

রোগ প্রতিরোধের সমস্ত ক্ষমতাই রয়েছে এই ড্রাগন ফলে। বিশেষত প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে এই ড্রাগন ফলে। এই ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক থাকে। নিয়মিত এই ফলটি খেলে আপনার শরীরস্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

রক্ত চলাচল বজায় রাখে

দেহে পুষ্টির ঘাটতি হল আয়রনের ঘাটতি। নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। মাংস, মাছ, বাদাম ও ডালজাতীয় খাবার থেকে আমরা অধিকাংশ আয়রন গ্রহণ করে থাকি। হাতে গোনা কয়েকটি ফলে বেশি পরিমাণে আয়রন পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি হল ড্রাগন ফল। ১০০ গ্রাম ড্রাগন ফলে ১.৯ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে, যা দৈনিক সুপারিশকৃত মাত্রার ১০ শতাংশেরও বেশি। হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য আয়রন প্রয়োজন, যা শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছোতে লোহিত রক্তকণিকাকে সাহায্য করে।

চুল পড়া আটকায়

আয়রন ঘাটতির কারণে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত ড্রাগন ফল খেলে চুল পড়া কমতে পারে। এই ফল আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার অন্যান্য উপসর্গও প্রশমিত করতে পারে, যেমন – অত্যধিক ক্লান্তি, ত্বকের বিবর্ণতা, মনোনিবেশে সমস্যা, মাথাব্যথা ও হাত-পায়ে ঠান্ডা অনুভূতি।

ড্রাগন ফলের চাষ

ক্যাকটাসের মতো গাছ ড্রাগন ফলের।

গাছ লাগানোর দু’ বছর পর থেকে ফল

এক দিকে যেমন এই ফলের স্বাস্থ্যগুণ অপরিসীম, তেমনই এই ফলের চাষ খুবই লাভজনক। পরীক্ষামূলক ভাবে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন জেলায় শুরু হয়েছে ড্রাগন চাষ। কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, বাঁকুড়ার জলবায়ু এই চাষের জন্য উপযোগী। এমনকি সঠিক ভাবে এই চাষ করা গেলে গাছ লাগানোর দু’ বছর পর থেকে বছরে কম করে ১০ লক্ষ টাকার বেশি আয় করা সম্ভব। এই গাছ প্রায় ৩০ বছর ফল দেবে। এমনকি বছরে প্রায় ছয় থেকে সাত মাস ফল পাবেন। আয়ের নিরিখে এই চাষে খরচ নেই বললেই হয়। কারণ এটি ক্যাকটাস জাতীয় গাছ।

তিন প্রজাতির ফল

ড্রাগনগাছ অনেকটা ক্যাকটাসের মতো। বালিমাটিতে এর বৃদ্ধি ভালো হয়। চারটি গাছের মাঝে একটি করে লোহার খুঁটি বসিয়ে তার মাথায় জিআই পাইপের লোহার রিং বা সাইকেলের চাকার রিং লাগানো হয়। গাছগুলি মাটি থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় লোহার খুঁটি দিয়ে উপরে উঠে রিংয়ের চার পাশে ফোয়ারার মতো ঝুলতে থাকে। গাছ বসানোর ১৮ মাসের মধ্যে ফুল ধরে। সেই ফুল থেকে এক মাসের মধ্যে ছোটো ছোটো ফল হয়। সাদা, লাল ও হলুদ তিন প্রজাতির ফুল ও ফল হয়। তবে লাল ফলের চাহিদা বেশি। ফল পাড়ার দশ-বারো দিন পরেও তাজা থাকে।

কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে, উষ্ণ এবং আর্দ্র আবহাওয়া ও রাঢ় অঞ্চলে এর চাষ ভালো হবে। তবে আর্দ্রতা বেশি থাকলে পোকার আক্রমণ হতে পারে। খুব অম্ল-ক্ষার মাটি ছাড়া সব জমিতেই চাষ করা যেতে পারে। দেখতে হবে মাটিতে যেন কোনো ভাবেই জল না দাঁড়ায়। অন্যান্য চাষের থেকে ড্রাগন ফল চাষ করা অনেক বেশি লাভজনক।

আরও পড়ুন: মিউজিক থেরাপির মধ্যে দিয়ে খুলুন মনের জানলা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.