সঠিক খাবার খান, ফুসফুস ভালো রাখুন

0

খবরঅনলাইন ডেস্ক: অতিমারির কবলে পড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এই ফুসফুস। তবে শুধু কোভিডই নয়, বায়ুদূষণ ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের জেরেও দেখা দিচ্ছে নানা জটিল রোগ, যার ফলে ক্ষতি হচ্ছে আমাদের ফুসফুসের। শুধুমাত্র করোনা থেকে বাঁচতেই নয়, নিজেকে সুস্থ রাখতে সারা বছরই খেয়াল রাখতে হবে ফুসফুসের।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বায়ুদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকাতে নিয়মিত কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। শাকসবজি, ফল ও মাছ এবং বিশেষ করে টকজাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। লেবু, কমলা, মাল্টা, বাতাবিলেবু, আমড়া, কুলের মতো টক ফল ফুসফুসের জন্য উপকারী। ভিটামিন সি–সমৃদ্ধ ফল নিয়মিত খেতে হবে। এ সব ফল ফুসফুস ভালো রাখে। এর মধ্যে অন্যতম টমেটো। এতে থাকা লাইকোপেন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শ্বাসযন্ত্রে সুরক্ষা–স্তর হিসেবে কাজ করতে পারে। ধূমপান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ত্যাগ করা উচিত। ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি নয়, শরীরের অন্যান্য অঙ্গেরও ক্ষতি করে। ধূমপান ত্যাগ করলে পুরো শরীরের মঙ্গল। 

বর্তমানে আমরা সবাই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। এই অবস্থায় নিজেকে ও কাছের মানুষদের স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ যত্নশীল হতে হবে। সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন-সহ যাবতীয় পুষ্টি শরীরের জন্য প্রয়োজন। যে কোনো একটা ভিটামিনের অভাবের বড়ো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সেই নিরিখে, সুস্থ ও সবল শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন কে। চিকিৎসকরা জানান, করোনাভাইরাস মোকাবিলার জন্যও প্রয়োজন ভিটামিন কে। এটি আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। একই সঙ্গে, কোভিড সংক্রমণের আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। ভিটামিন কে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের ইলাস্টিক ফাইবারের সংকোচন রোধ করে।

ফুসফুস ভালো রাখতে কী খাবেন

আমলকী

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত আমলকী খেলে যকৃতের সব ক্ষতি ঠেকানো যায়। আমলকীতে থাকা ভিটামিন ‘সি’ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, সর্দি-কাশি ঠেকাতে পারে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও আমলকীর রসের গুণ বর্ণনা করে বলা হয়েছে, শরীরের সব ধরনের ক্রিয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে।

কালোজিরে

ফুসফুস ভালো রাখতে কালোজিরে অনেক ভালো কাজ করে। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শ্বাসনালির প্রদাহ রোধ করতে সাহায্য করে। প্রতি দিন আধা চা চামচ কালোজিরের গুঁড়া এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খেলে ফুসফুস ভালো থাকবে। 

আপেল

কথায় আছে ‘অ্যান অ্যাপল এ ডে, কিপ দ্য ডক্টর অ্যাওয়ে’ অর্থাৎ দিনে একটি আপেল খান আর চিকিৎসককে দূরে রাখুন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, সপ্তাহে পাঁচটির বেশি আপেল খেলে মানুষের ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ে। এতে শ্বাসগ্রহণের সময়ে বুকে শনশন শব্দের প্রবণতা হ্রাস পায়। হাঁপানির মতো বেশ কিছু রোগ থেকেও আপনি নিরাপদ থাকতে পারেন।

টমেটো

শরীরকে রোগ প্রতিরোধক্ষম করে তোলে টমেটো। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় টমেটোর এ সব কার্যক্ষমতার কথা বলা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, টমেটোতে আছে দারুণ অ্যান্টিঅক্সিডেটিভ প্রভাব, যা কোষকে বুড়ো হতে দেয় না। এ ছাড়া নানা রকম ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে টমেটো। টমেটোর লাইকোপেন শ্বাসযন্ত্রে সুরক্ষা–স্তর হিসেবে কাজ করে। বাতাসে থাকা ক্ষতিকর ধূলিকণার বিরুদ্ধে লড়াই করে এই লাইকোপেন।

হলুদ

হলুদ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে পরিচিত। দূষিত কণার প্রভাব থেকে ফুসফুসকে সুরক্ষা দিতে কাজ করে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কফ ও হাঁপানির সমস্যা সমাধানে হলুদ ও ঘিয়ের মিশ্রণ কাজে লাগে। এ ছাড়া হলুদ, গুড় ও মাখনের মিশ্রণ হাঁপানি দূর করতে পারে।

তুলসী

বায়ুদূষণের বিরুদ্ধে ফুসফুসকে রক্ষা করতে পারে তুলসীপাতা। এ ছাড়া বাতাসে থাকা ধূলিকণা শোষণ করতে পারে তুলসীগাছ। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি দিন অল্প করে তুলসীপাতার রস খেলে শরীরের শ্বাসযন্ত্রের দূষিত পদার্থ দূর হয়। তুলসীপাতায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আর এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফুসফুস সুরক্ষায় খুবই কার্যকর। বাতাসে থাকা ধূলিকণা শোষণ করতে পারে তুলসী। তাই শ্বাসযন্ত্রের দূষিত পদার্থ দূর করতে তুলসীপাতার রস কিংবা এই পাতা জলে ফুটিয়ে পান করুন। ফুসফুস ভালো থাকবে।

ওরিগানো  

ওরিগানোতে পাওয়া যায় রোজমারিনিক অ্যাসিড নামে একটি যৌগ, যা ফুসফুসের জন্য খুব ভালো। এটি দেহে প্রদাহ সৃষ্টি করার জন্য দায়ী হিস্টামিন হ্রাস করতে সহায়তা করে। এতে উপস্থিত কারাক্রোল ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধা রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে। ওরিগানোতে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা সংক্রমণ এবং রোগজনিত ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস বা অন্যান্য অণুজীবকে দূরে রাখতে সহায়তা করে।

লেবুজাতীয় ফল

কমলা ও লেবুতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে। লেবুজাতীয় ফল নিয়মিত খেলে ফুসফুসে বায়ুর ক্ষতিকর উপাদানগুলোর প্রভাব পড়তে পারে না।

গ্রিন টি

প্রতি দিন দুই কাপ করে গ্রিন টি খেতে পারেন। শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

ভিটামিন ই

কাজু, আখরোট, পেস্তা, চিনাবাদাম-সহ মিষ্টিকুমড়ার বীজ ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন ‘ই’ রয়েছে। সেই সঙ্গে খনিজ লবণ ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে। এ সব খাবার ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ এবং প্রদাহজনিত সমস্যা রোধ করতে সাহায্য করে।

ভিটামিন কে

ফুসফুসের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন কে। নরম টিস্যুতে ক্যালসিয়াম উৎপাদনের পাশাপাশি ইলাস্টিক ফাইবার ক্ষয়রোধে সাহায্য করে ভিটামিন কে। এর ফলে, ফুসফুস ও ধমনি নমনীয় থাকে। ফুসফুসের বড় ক্ষতি রোধ করতে পারে। করোনাভাইরাসে এই দুই অঙ্গের ওপর সব চেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে। তাই ভিটামিন কে আপনার স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ভিটামিন কে। বিভিন্ন ধরনের প্রদাহজনিত রোগের বিরুদ্ধে রক্ষা করে ভিটামিন কে। স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এমন খাবার খেতে হবে যার মাধ্যমে প্রত্যেকটি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেল শরীরে পৌঁছয়। যেমন দুগ্ধজাত পণ্য তথা দুধ, দই ও চিজ নিয়মিত খেলে ভিটামিন কে-র সঠিক মাত্রা বজায় রাখা সম্ভব।

আরও পড়ুন: কোভিডের টিকা নিয়েছেন? এ বার তা হলে খাওয়াদাওয়ায় কিছু নিয়ম মেনে চলুন

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন