আহমেদাবাদ: গত বছর বিশ্বের ২৩টি দেশে আক্রমণ হেনেছিল জিকা ভাইরাস। তবে তার মধ্যে ছিল না ভারত। তবে সেই তথ্য ঠিক ছিল না। জানিয়ে দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(হু)। হু পরীক্ষা করে দেখেছে আহমেদাবাদের ২ মহিলা সহ তিনজন জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে। শুক্রবার তা মেনে নিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে জিকা সংক্রমণের তিনটি ঘটনাই ঘটেছে একই এলাকায়, আহমেদাবাদের বপুনগরে।

হু যে তিনটি সংক্রমণকে জিকা সংক্রমণ বলে চিহ্নিত করেছে তার প্রথমটি হল, ২০১৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারির। এক জন ৬৪ বছরের ব্যক্তি ভয়ানক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ডেঙ্গুর পরীক্ষায় নেগেটিভ এলেও জিকা-র পরীক্ষায় ফল হয় পজেটিভ। পরের ঘটনাটি ৩৪ বছরের এক জন গর্ভবতী মহিলার। ২০১৬ সালেরই ১৬ নভেম্বর, রক্ত পরীক্ষা করে জিকা পজেটিভ বেরোয়। পরের ঘটনাটি ২০১৭ সালের ১২ জানুয়ারির। ২২ বছরের আর এক জন গর্ভবতী মহিলার। রক্ত পরীক্ষায় তিনিও জিকা সংক্রমিত বলে ধরা পড়ে। সব ক’টি পরীক্ষাই করা হয়েছিল বি জে এম সি, আহমেদাবাদে। তাতে জানা গেছে, সবকটিই অডিস ইজিপটি মশার দ্বারা হওয়া সংক্রমণ।

মন্ত্রক জানিয়েছে, নিয়মিতভাবে ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করার পর ভাইরাসটির উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেছে। এ ক্ষেত্রে আর টি-পি সি আর টেস্ট করা হয়েছে। এই বিশেষ পরীক্ষাটি করা হয়েছে গুজরাতের আহমেদাবাদের বি জে মেডিক্যাল কলেজেই। এর পর এটি পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছে, পুনের ন্যাশনাল ভাইরালজি ইনস্টিটিউট (এনআইভি)-এ, ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে।

আহমেদাবাদের চিকিৎসক ডাক্তার কোহলি বলেন, এর প্রকোপ সাংঘাতিক। গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে যে সমস্যাটি হয়, তা হল অস্বাভাবিক  শিশুর জন্ম। এদের মাথা অন্যান্য শিশুর তুলনায় ছোটো হয়। এই মশা নির্মূলের ব্যাপারে সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী বলা যায়, এই ধরনের মশা জিকা-র পাশাপাশি ম্যালেরিয়া আর চিকেনগুনিয়াও ছড়ায়। ২০২২ সালের মধ্যে রাজ্য থেকে ম্যালেরিয়া নির্মূল করার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here