নর্মাল ডেলিভারি করাতে চান? জেনে নিন এই ৬টি টিপস

0

ওয়েবডেস্ক : মা হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট সহ্য করেন তাঁরা। তবে কষ্ট হলেও বেশির ভাগ মহিলাই সিজারের থেকে নর্মাল ডেলিভারিকেই বেশি পছন্দ করেন। তবে লেবার রুমে সেই সময় কী হতে পারে সেটা তো নির্ভর করে শিশু আর মায়ের শারীরিক পরিস্থিতির উপর।

গাইনকোলজিস্ট ডাঃ রাগিনী আগরওয়াল বলেন, নর্মাল ডেলভারি খুবই ধৈর্য আর কষ্টের। এই ভাবে সন্তানের জন্ম দেওয়ার ব্যাপারটাও একটা লম্বা সময়ের শারীরিক আর মানসিক যুদ্ধের ব্যাপার। কারণ এতে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময়ও লেগে যেতে পারে। তবে এই গোটা পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে নিতে হবে। আর তার জন্য গর্ভাবস্থার পুরো নয়টি মাসই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময় নিজেকে খুশি রাখা যেমন জরুরি, তেমনই জরুরি নিয়ম মেনে ডায়েট আর ব্যায়াম। এই সময় এই প্রত্যেকটি বিষয়ই শিশুর ওপরও প্রভাব ফেলে। তা ছাড়া নর্মাল ডেলিভারি করতে গেলে উরু আর কোমরের পেশির ওপর চাপ পড়ে। ব্যায়াম করে সেই অংশগুলোকে এই কষ্ট সহ্য করার ক্ষেত্রে শক্তসমর্থ করে তোলা যায়। তবে সবটাই করতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।

নর্মাল ডেলিভারি করতে চাইলে এই টিপসগুলো মেনে চলতে পারেন। যথাসময়ে কাজে আসতে পারে –

১) ব্যায়াম – গর্ভাবস্থার একদম শুরু থেকেই শুরু করে দিন ব্যায়াম। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কোন কোন ব্যায়াম আপনার জন্য জরুরি তা জেনে নিন। কারণ এই সময় কোমর আর উরুর পেশির ওপর চাপ পড়ে বেশি। তাই এই সব পেশির ক্ষমতা বাড়ানো দরকার। তা সম্ভব ব্যায়ামের মাধ্যমে।

২) দুশ্চিন্তা মুক্ত – নয় দশ মাসের এই টানা সময়টা শিশু আর মা উভয়ের জন্যই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মায়ের মানসিক পরিস্থিতি শিশুর ওপর প্রভাব ফেলে। তাই যতটা সম্ভব দুশ্চিন্তা দূরে রাখতে হবে। যদিও মুখে বলে দুশ্চিন্তা দূর করা সম্ভব নয়। তবুও মাকে হাসি খুশি, প্রাণবন্ত থাকতে হবে। এই গোটা সময়টাতেই ইতিবাচক চিন্তাভাবনা রাখতে হবে। এই ইতিবাচক চিন্তাই লেবার রুমে নর্মাল ডেলিভারির সময় মনের জোর বাড়াবে।

৩) শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম – শারীরিক ব্যায়াম ছাড়াও দরকার শ্বাস প্রশ্বাসের ব্যায়াম। এতে মনের দৃঢ়তা বাড়ায়। গোটা শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ ভালো হয়। ফলে মন ও শরীর সতেজ থাকে। এই ব্যায়াম করা থাকলে নর্মাল ডেলিভারির সময় অনেক উপকার হয়।

৪) খবারদাবার – কথায় আছে গর্ভবতী মা তেল ঘি খেলে তা শিশুকে চটপট গর্ভ থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করে। মোটেই তা নয়। কারণ শরীরের খাদ্য নালীর সঙ্গে শিশুর গর্ভ থেকে বের হওয়ার পথের কোনো সংযোগ নেই। তবে তেল ঘি না খেলেও গর্ভবতী মাকে স্বাস্থ্যকর আর পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। যাতে তা শিশুর শরীর গঠনে ও সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। তাই খবার খেতে হবে অবশ্যই টাটকা আর পরিষ্কার। আর তার থেকেও বড়ো কথা মায়ের স্বাস্থ্য ভালো থাকলে তবেই নর্মাল ডেলিভারি করা সম্ভব হয়। নচেৎ নয়। তাই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্য তালিকা মেনে চলুন। নিয়মিত ওজন করান।

৫) বিষয়টি সম্পর্কে জানা – গোটা গর্ভাবস্থা, প্রসব আর তার পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানুন, পড়ুন। এই অভিজ্ঞতা কোনো রকম পরিস্থিতিতে অসুবিধেতে ফেলবে না। বরং সচেতন রাখবে। সঙ্গে বুদ্ধিও জোগাবে।

৬) পরিবারের সহযোগিতা – এক জন মেয়ের মা হয়ে ওঠার পেছনে সব সময় তাঁর পরিবারের সহযোগিতা থাকা দরকার। কারণ গোটা সময়টাই যথেষ্ট সতর্কতা আর সচেতনতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়। এই ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় ও তার পরে পরিবারবর্গের সাহায্য খুবই দরকার।

তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, নর্মাল ডেলিভারির জন্য মানসিক আর শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকাটা দরকার। প্রত্যেক মহিলারই তাই ছোটো থেকেই ভালো খাবার আর শারীরিক সক্রিয়তা দরকার। অর্থাৎ ব্যায়াম বা যে কোনো কাজ যেটাতে শরীরকে শক্তপোক্ত করে গড়ে তোলা যায়। বিশেষ করে কোমর আর পায়ের পেশি শক্তিশালী হয় এমন কিছু অভ্যাস করা প্রয়োজন।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন