underwear

ওয়েবডেস্ক:  এক বছর ব্যবহারের পর ছুড়ে ফেলে দিন ওই অন্তর্বাস। তা সে গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া, প্যান্টি হোক বা ব্রা। যতই হোক সে নামী ব্র্যান্ডের দামি প্রডাক্ট।

এত দিনের অভ্যেস বদলাতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের পরামর্শ যে নিছক অনুমানের উপর নির্ভর করে নয়, তারও প্রমাণ দিয়েছেন হাতেনাতে।

লন্ডনের গুড হাউজকিপিং ইনস্টিটিউট একটি বৃহৎ সমীক্ষা রিপোর্ট সামনে এনেছে। যেটির বিষয় মানুষের পরিহিত অন্তর্বাস এবং তাতে রোগজীবাণুর অবস্থান। দেখা গিয়েছে, প্রতি দিন ভালো ভাবে কাচার পরেও এক রাত পরিহিত অন্তর্বাসে গড়ে ব্যাকটিরিয়া বাসা বাঁধে প্রায় ১০ হাজার। এবং তারা বহাল তবিয়তে জীবিতও থেকে যায় আবার না কাচা পর্যন্ত। তা হলে উপায়?

উপায় বাতলাতে গিয়ে ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা নির্দেশ দিয়েছেন ওই একটি পথেরই। আর তা না মেনে চললে পড়তে হতে পারে সমূহ বিপদের মুখে। এ ক্ষেত্রে অন্তর্বাসের রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বাঁধা ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া থাবা বসাতে পারে ব্যবহারকারীর শরীরে। মূলত মূত্রনালীর রোগ ঘটালেও আরও বিবিধ যৌনরোগের শিকার হওয়াটাও অস্বাভাবিক নয়। অধিকাংশ সময়েই ই-কোলি নামক ব্যাকটেরিয়ার আধিক্য দেখা গিয়েছে ব্যবহৃত অন্তর্বাসে।

ইনস্টিটিউট আরও জানিয়েছে, এক রাত ব্যবহারের পরেই অন্তর্বাস কাচতে হবে। তিন রাত ব্যবহারের পর রাতের পোশাক এবং এক সপ্তাহের পর বিছানার চাদর কাচতে বলছে তারা। এই কাচাকুচির ব্যাপারটা হতে হবে গরম জলে। বাদ পড়বে না বালিশও। তিন থেকে ছ’মাস পরে বালিশের ওয়াড় অবশ্যই কাচতে হবে। তোষক বা অন্যান্য শয্যাসামগ্রী এক বছরে এক বার ভালো করে পরিষ্কার করতে হবে।

এত সতর্কতা অবলম্বনের কারণ হিসাবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমরা প্রতি দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় আট ঘণ্টা কাটিয়ে দিই বিছানায়। ফলে ওই জায়গাটির পরিচ্ছন্নতার উপর নির্ভর করছে আমাদের শারীরিক সুস্থতা। আর অন্তর্বাসের সংযোগ যে হেতু আমাদের ত্বকের সঙ্গে সরাসরি ঘটে থাকে তাই সেটির বিষয়ে অত্যধিক সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা। তাঁদের পরামর্শ, সিল্কের অন্তর্বাস খুব সহজেই ময়েশ্চারাইজার ধরে নেয়। ফলে ব্যাকটেরিয়া জমাট বাঁধে। এ ভাবে ইনফেকশন সৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়ে যায়। তাই সুতির তৈরি অন্তর্বাসে জোর দিতে হবে। খুব টাইট নয়, একটু ঢিলেঢালা অন্তর্বাস ব্যবহারে ইনফেকশনের সম্ভাবনা অপেক্ষাকৃত কম।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here