পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ মোকাবিলায় ‘সৃষ্টি’র হেলথ্‌ ক্লাব

0

খবর অনলাইন: পিসিও তথা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান ডিজিজ নিয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে উদ্যোগী হল কলকাতার সৃষ্টি ক্লিনিক। এর জন্য তারা চালু করছে ‘পিসিও হেলথ্‌ ক্লাব’। শনিবার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা ঘোষণা করেন ডাঃ সুদীপ বসু।

ডাঃ বসু জানান, নামে রোগ হলেও ‘পিসিও’ কোনও রোগ নয়, এটা মহিলাদের একটা শারীরিক অবস্থা, যা থেকে নানা রকম শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। প্রজননের বয়সে (১৫ থেকে ৪৫) এই অবস্থা শতকরা ১০ জন মেয়ের মধ্যে দেখা যায়। বয়ঃসন্ধি শুরু হওয়ার পরেই মেয়েদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ প্রদীপ মিত্র, ডাঃ সুজয় ঘোষ, ডাঃ শ্রাবণী ঘোষ, লাইফস্টাইল ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ অরুন্ধতী গুপ্ত প্রমুখ। বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা জানান, ‘পিসিও’ নামের মধ্যে ‘সিস্ট’ থাকলেও, আদতে এগুলি হল ডিম্বাশয়ের বহু গ্রন্থিকোষ (ফলিকল্‌) যেগুলি বাড়তে পারে না এবং ডিম্বাণু উৎপাদন করতে পারে না। মহিলাদের ঋতুচক্রের সময় এই ফলিকল্‌গুলির যা কাজ, ‘পিসিও’ অবস্থা থাকলে সেই স্বাভাবিক কাজ তারা করে না, ‘অলস’ হয়ে বসে থাকে। ফলে মেয়েদের ঋতুস্রাব অনিয়মিত হয়ে পড়ে। কেন ‘পিসিও’ অবস্থার সৃষ্টি হয়, তা আজও আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। বলা হয়ে থাকে, একটি মেয়ের ‘পিসিও’ হবে কি না, তা তখনই নির্ধারিত হয়ে যায়, যখন ভ্রূণ আসে। কিন্তু সম্প্রতি মেয়েদের মধ্যে এই অবস্থার বাড়াবাড়ি হওয়ায় এটা বোঝা যাচ্ছে যে এর পিছনে আরও অনেক কারণ আছে। যেমন, মেদবাহুল্য, পরিশ্রম-বিমুখ জীবনশৈলী, খাদ্যাভাস এবং দূষণ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘পিসিও’ অবস্থা থাকলে শরীরে মেদের বাহুল্য হতে পারে, অবাঞ্ছিত চুল গজাতে পারে, চামড়ায় রং ধরতে পারে। এ ছাড়াও লিপিড বৃদ্ধি, ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে। যে হেতু এই ‘পিসিও’ অবস্থা ঠেকানো যায় না, তাই ভবিষ্যতের শারীরিক জটিলতা ঠেকানোর একমাত্র উপায় হল খুব তাড়াতাড়ি এই ‘পিসিও’ অবস্থা নির্ণয় করা এবং সেই মতো শরীর সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া।

ডাঃ বসু বলেন, ‘পিসিও’ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। এই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য চাই সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি। এই অবস্থা নিরাময় কোনও একটা বিশেষ বিষয়বস্তুর বা কোনও একজন স্পেশ্যালিস্টের এক্তিয়ারে পড়ে না। মেয়েরা অনেক সময়েই বিপথে চালিত হয়ে চিকিৎসা করান, কাজের কাজ কিছু হয় না।

এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্যই সৃষ্টি ক্লিনিক ‘পিসিও হেলথ্‌ ক্লাব’ গড়েছে বলে ডাঃ বসু জানান। তিনি বলেন, এই ক্লাবের সদস্য হলে নামমাত্র খরচে এক ছাদের তলায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মিলবে। এই যুদ্ধ লড়ার মূল চাবিকাঠি হল, সঠিক খাদ্যাভাস এবং সঠিক জীবনশৈলী। আমাদের লক্ষ্য হল, ‘পিসিও থেকে মুক্তি’।

সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন টলিউডের নায়িকা ঋতাভরী চক্রবর্তী। ‘পিসিও থেকে মুক্তি’ পাওয়ার জন্য কেন সচেতনতা প্রয়োজন সে কথাই বলেন তিনি।

ছবি: মানস মণ্ডল

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here