ডাঃ সত্যম চক্রবর্তী, ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ

ডায়াবেটিস মানেই আপনার জীবনের রূপ রস গন্ধ সব শেষ। একথা চিকিৎসা বিজ্ঞান না মনে করলেও, অধিকাংশ ডায়াবেটিস রোগীরই তাই ধারণা। খাওয়া দাওয়া বাদ দিয়ে গোটা দিন শুধু তিতো আর তিতো। তার সঙ্গে সকাল বিকেল হাঁটার ধুম। এতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এলেও হতে পারে আপনার হাঁটুর দফা রফা। কিন্তু নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনই আপনাকে একটি সুস্থ জীবন দিতে পারে। দিনে তিনঘণ্টা ছাড়া খাবার খান, তবে হিসেব করে।

ক) ডায়াবেটিসের ভালো খাওয়াদাওয়া

  • দৈনিক তিন বেলা ভারী খাওয়াদাওয়া বাধ্যতামূলক। এতে খিদে মেটার সঙ্গে সঙ্গে আপনার রক্তে গ্লুকোজের মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • প্রতিবেলা খাবারেই স্টার্চযুক্ত কার্বোহাইড্রেড রাখবেন। এই ধরনের খাবারের মধ্যে পাউরুটি, রুটি, আলু, নুডলস, ভাত রয়েছে।
  • খাবারের মধ্যে বিন এবং ডাল অন্তর্ভূক্ত করবেন। যেমন বিন, কাবলিচানা, মুসুর ডাল। এগুলি রক্তে চর্বি নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।
  • সামুদ্রিক মাছ ডায়াবেটিস রোগীর পক্ষে উপযোগী। এই মাছের মধ্যে রয়েছে ম্যাকরেল, সার্ডিন, স্যালমন। এই মাছে ওমেগা ৩ নামে এক ধরনের পলিস্যাটুরেটেড ফ্যাট থাকে যা হার্টের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • ডায়েবেটিস মানে আপনাকে সম্পূর্ণ চিনিমুক্ত খাবার খেতে হবে এমনটা মোটেই নয়। চিনি কমানোর একটি সহজ উপায় হল নো এ্যাডেড সুগার ব্যবহার করা।
  • দৈনিক ৬ গ্রামের মধ্যে নুন ব্যবহার করুন। অতিরিক্ত নুন উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা বাড়ায়।
  • চর্বিযুক্ত খাবার কম খাবেন বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট। চর্বিযুক্ত খাবার কম খেলে ওজন কমার সম্ভাবনা বাড়ে।
  • ঘি, মাখন, পনির কম খান।
  • চর্বি যুক্ত মাছ নৈব নৈব চ।
  • পাঠার মাংস বা অন্যান্য রেড মিট খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিন।
  • ডাবল টোনড দুধ খান।
  • ভাজাভুজি বাদ দিয়ে সিদ্ধ করে নিন।
  • ক্রিম যুক্ত সস খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দিন
  • আপনার সুষম খাবারে প্রয়োজনীয় পরিমানের ভিটামিন, খনিজ এবং ফাইবার থাকা প্রয়োজন। নিয়ম করে দিনে অন্তত দুইবার ফল খাবেন। ফলের মধ্যে আপেল, পেয়ারা, অঙ্কুর যুক্ত ছোলা, নাশপাতি, জাম, পেঁপেভালো।
  • বাজারচলতি ডায়াবেটিক খাবার বা পানীয় ডায়াবেটিক রোগীদের কোনও উপকার করে বলে পরীক্ষিত নয়। এগুলি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

খ) ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিন। প্রয়োজনে ইনসুলিন নিন। একবার ইনসুলিন নিলে তা ছাড়া যায় না, ইনসুলিন অনেক খরচসাপেক্ষ, ইনসুলিন যন্ত্রণাময়- এই ধরনের ভুল ধারনাগুলিকে জীবন থেকে ঝেড়ে ফেলুন।

গ) দিনে নিয়ম মেনে ৫ থেকে ৬ হাজার পা হাঁটুন। তার মানে সকালে দেদার হাঁটতে হবে এমনটা কিন্তু মোটেও নয়। দিনে যে কোনো সময়ে হাঁটতে পারেন। সকালে হাঁটতে হলে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেস হয়ে চারটি বিস্কুট এবং জল খেয়ে অন্তত ৪০ মিনিট পর হাঁটতে বেরোবেন। কারণ সকালে আপনার শরীরের গ্লুকোজের মাত্রা কম থাকে ফলে ও সময়ে হঠাৎ করে ভারী ব্যায়াম আপনার শরীর নাও নিতে পারে।

ঘ)  চিন্তা করলেই আপনার সকল কাজের সুষ্ঠু সমাধান হবে তা অবশ্যই নয়। তাই চিন্তা ঝেড়ে ফেলার উপায় খুঁজে বার করে নিন। অহেতুক অফিসের টেনশন বাড়িতে বয়ে আনবেন না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here