ডাঃ মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়(স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ)

ওভারির সারফেস যদি তরল পদার্থ দিয়ে পূর্ণ থাকে তবে তাকে বলা হয় ওভারিয়ান সিস্ট, যা কিনা মেয়েদের হয়ে থাকে। মেয়েদের দুটি ওভারি থাকে ইউটেরাসের দুই পাশে। গর্ভধারণের জন্য মেয়েদের যেটি প্রয়োজন সেটি হল ডিম্বানু আর এই ডিম্বানু বড় হয় এবং পরিপূর্ণ হয় এই ওভারিতে। গর্ভধারনের আগের মুহূর্ত পর্যন্ত এই ডিম্বানূ মেয়েদের মাসিকের সময় বের হয়ে যায়। অনেক  মেয়েদেরই ওভারিতে সিস্ট হতে শোনা যায়। বেশির ভাগ ওভারিয়ান সিস্ট ছোটো, যখন এটি প্রথমে হয় তখন কোনো অসুবিধা হয় না এবং ক্ষতিকর হয় না। বেশিরভাগ ওভারিয়ান সিস্ট ভালো হয়ে যায় কিছু মাসের মধ্যে কোনো চিকিৎসা ছাড়া। কিন্তু যেসব ওভারিয়ান সিস্ট ছিঁড়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা দেখা দেয়।

অনেক সময় অজ্ঞতার কারণে ওভারিয়ান সিস্ট বুঝতে পারা যায় না।

কতগুলি বিষয় মাথায় রাখতে হবে।

১) মেরুদন্ডের সবথেকে নীচের অংশে এবং উরুতে  ব্যথা ওভারিয়ান সিস্টের লক্ষণ।

২) মাসিক হওয়ার সময় এবং এটি শেষ হওয়ার পরে কিছু দিন তলপেটে এবং মেরুদন্ডের পিছনে ব্যথা হয়।

৩) যৌন সঙ্গমের সময় ব্যথা হয়।

৪) বমি বমি ভাব হয়।

৫) স্তনে ব্যথা দেখা দেয়।

৬) সবসময় পেট ভরা ভরা মনে হয় এবং মনে হয় যে পেট অনেক ভার হয়ে গেছে।

৭) মূত্রথলিতে প্রেশার দেখা দেয় যার কারণে বার বার প্রস্রাব হয় কিন্তু মূত্রথলি তাও ঠিকমত খালি হয়না বলে মনে হয়।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন:

১) হঠাৎ করে যদি  তলপেটে ভীষন ব্যথা হয়।

২) ব্যথার সঙ্গে যদি জ্বর এবং বমি হয়।

৩) হাত যদি ঠান্ডা হয়ে যায়।

৪) জোরে জোরে শ্বাস নিতে হলে।

৫) আলোতে মাথা ব্যথা যদি হয়।

চিকিৎসা:

১) জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে ওভারিয়ান ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।

২) সার্জারি।

৩) ওভারিয়ান সিস্টেকটোমি।

৪) উফোরেকটোমি(Oophorectomy)।

৫) যদি ক্যান্সার হয়ে যায় তাহলে হিস্টেরেকটোমি করতে হবে এবং দুটি ওভারিই বাদ দিয়ে ফেলতে হবে আর সেই সঙ্গে ফেলোপিয়ান টিউবও বাদ দিতে হবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন