ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রোনাস-এর চিফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার ভি সতীশ কুমারের (ডান দিকে) সঙ্গে করমর্দন করছেন ইনস্টিটিউটের সেক্রেটারি অঞ্জন গুপ্ত।

পাপিয়া মিত্র:

নানা ভাষা, নানা মত আর নানা পরিধানের মতো নানা রোগ এসে পড়ছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। সব কিছুর সঙ্গে আমরা রোগের কথা শুনলে প্রথমেই ভয়ে দশ হাত পিছিয়ে যাই। রোগ যেমন আছে তার পাশাপাশি উপশমের প্রক্রিয়াও চালু করার আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন চিকিৎসকেরা।

মার্চ পয়লায় সরোজ গুপ্ত ক্যানসার সেন্টার অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এ সংযোজিত হল অত্যাধুনিক ল্যাপারোস্কোপিক ইনস্ট্রুমেন্ট। এখানে যাবতীয় সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরীক্ষার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা আরও এক ধাপ এগিয়ে জেতে পারবেন চিকিৎসার জগতে। এটিতে লোয়ার ট্র্যাক ইউরোলজি রিসেক্টোস্কোপ, ল্যাপারোস্কোপিক ইনস্ট্রুমেন্ট ও ভ্যালিল্যাব মেক ভেসেল সেলার সিস্টেম আছে। সাদা কথায় এটি একটি উন্নতমানের যন্ত্রপাতি-সমেত ক্যামেরা। সৌজন্যে দ্য ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রোনাস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা মুল্যের এই আধুনিক যন্ত্রে ক্যানসার রোগীদের আরও ভালো চিকিৎসা করা যাবে বলে আশাবাদী চিকিৎসকদল।

লোকমুখে প্রচলিত নাম ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল। সেখানকার অস্ত্রোপচার বিভাগে মেশিনের ফিতে কাটেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি দ্য ইন্ডিয়ান অয়েল পেট্রোনাস-এর চিফ এক্সজিকিউটিভ অফিসার ভি সতীশ কুমার।

hhল্যাপারোস্কোপিক ইনস্ট্রুমেন্টের কাজের পরিধি বহুমুখী। অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ টেস্টে ক্যানসার-আক্রান্ত রোগীর শরীরের গভীরে লুকিয়ে থাকা রোগের ‘ঠিকানা’ পাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে ল্যাপারোস্কোপিক ইনস্ট্রুমেন্টের সাহায্যে তার হদিস পাওয়া যায়। শরীরে বড় অংশ না কেটে চারটি ফুটোর মাধ্যমে ক্যামেরা ঢুকিয়ে চিকিৎসা করা হয়। এতে ব্যথা কম থাকে ও রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে। ইউরোলজি রিসেক্টোস্কোপ-এ প্রস্রাবের পথ দিয়ে ক্যামেরা ঢূকিয়ে মূত্রথলিতে টিউমার আছে কিনা, কিডনি ব্লক কিনা তা নিরীক্ষা করে সেখানে টিউমার ছেঁচে দেওয়া বা কিডনির ক্ষেত্রে স্টেন্ট বসানো হয়। অনেক সময় ক্যানসার-আক্রান্ত ব্যক্তির মূত্রাশয়ে রেডিয়েশনের ফলে কোনো অংশ পুড়ে যেতে পারে, সেখানের খবর এই ক্যামেরা দেয়। প্রস্টেটের ক্যানসার এই চ্যানেলের দ্বারা নিপুণ ভাবে দূর করা যায়।

ভ্যালিল্যাব মেক ভেসেল সেলার সিস্টেম বা লাইগাসার ভেসেল সেলিং সিস্টেম-এ দেখা গিয়েছে কোনো অপারেশনের ক্ষেত্রে কাটাকুটির সময় অনেক শিরা-উপশিরা কেটে প্রচুর রক্তপাত হয়। সেখানে যন্ত্রের সাহায্যে সেগুলিকে আটকে বা সরিয়ে অপারেশন করলে কাজের সুবিধা হয় সময় বেশি লাগে না। অহেতুক রক্তপাত থেকে রোগী রেহাই পান।

এগিয়ে চলা চিকিৎসা জগতের সঙ্গে পাল্লা দিতেই হবে শহর কলকাতাকে। তাই এমন একটি উন্নতমানের মেশিন ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারে বসানোর ফলে স্বভাবতই খুশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মেডিক্যাল ডাইরেক্টর ও ক্যানসার বিশেষজ্ঞ শল্য চিকিৎসক অর্ণব গুপ্ত বললেন, ‘যতটা কম কেটে, শরীরকে কম যন্ত্রণা দিয়ে যদি অস্ত্রোপচার করতে হয় তা হলে মাইক্রোসারজারির প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে এই মেশিন হাসপাতালের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ। বিদেশে ওপেন ও মাইক্রো নিয়ে নিরন্তর গবেষণা চলছে। মানুষ চাইছেন কম দিন শুয়ে থাকতে। সেখানে এই মেশিন পাওয়া আমাদের কাছে আশীর্বাদ। আশা করি আমরা আরও ভালো চিকিৎসা দিতে পারব’।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন