biswajit-parhak
বিশ্বজিৎ পাঠক

আধুনিক পৃথিবীতে নিত্যনতুন মারণরোগের আবির্ভাব ঘটেই চলেছে। তবে সচরাচর যে সব মারণরোগের নাম আমরা প্রায়শই শুনে থাকি তার মধ্যে অন্যতম জন্ডিস/হেপাটাইটিস। এর আবার অনেক ধরনের প্রকারভেদ-হেপাটাইটিস এ, বি, সি ইত্যাদি। রোগের লক্ষণ দেখে কিছুটা আন্দাজ করা গেলেও আক্রান্তের অসুস্থতা থেকে বোঝা যায় ঠিক কোন ধরনের হেপাটাইটিসে কবলে পড়েছে।

প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে এই রোগের সস্তা চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, খুবই ব্যয়বহুল। ফলে বেশিরভাগই ওষুধের থেকে নির্ভর করেন পথ্যের উপর। যে কারণে তেমন পরিস্থিতির শিকার হলে প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটতে পারে। কিন্তু সম্ভব হলে প্রায় বিনা ব্যয়ে ভেষজ থেকে নিষ্কৃতি মিলতে পারে হেপাটাইটাইটিসের। গাছটির নাম ভূমি আমলা। সংক্রমণ ধরা পড়ার প্রাথমিক পর্বেই যদি ভূমি আমলার পাতা বাটা রস দিনে মাত্র এক বার ব্যবহার করা যায়, তা হলে হেপাটাইটিসের হাত থেকে রেহাই মিলতে পারে। কী এমন গুণ রয়েছে, এই গাছের পাতায়?

bhumi amala1

ভূমি আমলার পাতার রস লিভারকে ডি-টক্সিফাই করে দ্রুতগতিতে। ফলে রক্ত পরিশ্রুত হয় তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। রক্তের মধ্যে থাকা সমস্ত টক্সিন গিয়ে জমা হয় কিডনিতে। সে সময় আর অন্য কিছু নয়, কিডনির টক্সিন সহজে বের করতে প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে জল পান। জন্ডিসের হাত থেকে রেহাই পেতে প্রাথমিক ভাবে এই ভূমি আমলার ব্যবহার যে কারণে দীর্ঘ দিন ধরেই হয়ে আসছে গ্রামে-গঞ্জে। তবে শহরের ইট-পাথরের সঙ্গে লড়াই করে এই গাছ এখনও নিজের অস্তিস্ত টিকিয়ে রেখেছে নর্দমার ধারে। খোলা মাঠের চারপাশেও মিলে যেতে পারে এই গাছ।

আরও পড়ুন: মনপসন্দ আম খাচ্ছেন তো? জঞ্জালে ফেলে দেওয়ার আগে জেনে নিন আঁটির কার্যকারিতা

এই গাছের ব্যবহার আরও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে কার্যকর। যেমন আতপ চাল ধোয়া জলের সঙ্গে ভূমি আমলার পাতার রস মিশিয়ে খেলে ত্বকের সমস্যা, হাত-পা ফোলা, ক্ষত নিরাময় করতে সক্ষম। আবার সামান্য পরিমাণ ঘিয়ের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে মূত্রথলি পরিষ্কার হয় তথা প্রস্বাবের জ্বালা কমে যায়। যাঁরা সুগারের রোগী, তাঁরা যদি নিয়মিত নামমাত্র গোলমরিচ গুঁড়োর সঙ্গে এই পাতার রস মিশিয়ে খান, তাঁদের ক্ষেত্রেও উপকার হতে পারে। এ ছাড়া বার্ধক্যজনিত সমস্যার ক্ষেত্রেও ব্যবহার যোগ্য ভূমি আমলা।

তবে মাথায় রাখবেন, এই পাতার রস খেলে প্রচুর পরিমাণে জল পান করা আবশ্যিক। আবার গর্ভাবস্থায়, শিশুকে স্তন্যপান করান এমন মহিলা বা কোনো রকমের অস্ত্রোপচারের পরে এই পাতা ব্যবহার করা উচিত নয়। গ্রহমের পরিমাণ সম্পর্কে বিশদে জেনে নেওয়া ভালো।

লেখক: ভেষজ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here