ডাঃ মল্লিনাথ মুখোপাধ্যায়

তবে কি দশ মাস দশ দিনের গর্ভ যন্ত্রণা শেষ হল?  গর্ভধারণ না করেও মা হওয়া সম্ভব হচ্ছে আজ। প্রশ্ন জাগছে প্রায় একবছর নিজের ভিতর আরএকটা প্রাণ লালন করলে যে নাড়ির টান জন্মায় অপরের গর্ভ ভাড়া নিলেও কি সেই মাতৃত্ব বজায় থাকে?  কেউ কেউ আবার এথিকস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেমন করে এল সারোগেসি? মা হওয়া মুখের কথা নয়। এক এক সময় দেখা যায় মা হওয়ার আকুল কাকুতি নিয়ে কোল পেতে বসে থাকা সত্ত্বেও কোল ভরে না। তখন নিয়তিকে না মেনে এগিয়ে এল বিজ্ঞান। ল্যাবোরেটরিতে বসেই প্রাণ সঞ্চার করার সাহস দেখালেন কেউ কেউ। সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের মতন কেউ কেউ এই দুঃসাহসিক কাজ করতে গিয়ে আত্মহননের পথও বেছে নিলেন। তবুও কালো মেঘের ফাঁক দিয়ে আলো আসতে শুরু করল আস্তে আস্তে। প্রকাশ পেল আই.ভি.এফ বা ইনভিট্রা ফার্টিলাইজেশেন। যেখানে মায়ের ডিম্বানু আর বাবার শুক্রাণুকে কৃত্রিমভাবে নিষিক্ত করে মানব ভ্রুণ এর জন্ম দেওয়া সম্ভব হল।

কিন্তু মুসকিল হল অন্যত্র। টেস্ট টিউব বেবির কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কৃত্রিম ভাবে নিষিক্ত করিয়ে সেই ভ্রূণ মাতৃগর্ভে প্রতিস্থাপন করার ক্ষেত্রে দেখা দিল সমস্যা। কারণ অনেক ক্ষেত্রেই সেই গর্ভ ভ্রূণ ধারণের ক্ষেত্রে অপারগ হওয়ার জন্য বারে বারে গর্ভপাত ঘটতে থাকে।সুতরাং খোঁজা শুরু হল অন্যপথ। আর রাস্তা মিলল ঘুরপথেই।

এলো সারোগেসি।

যেখানে মায়ের ডিম্বানু আর বাবার শুক্রাণু নিষিক্ত করিয়ে অন্য গর্ভে প্রতিস্থাপন করা হল। তারপর সেই অজানা মায়ের গর্ভে হাত পা ছুঁড়ে বড় হতে লাগল প্রাণ। এই পদ্ধতিটাকেই বলা হয় সারোগেসি। সেই অন্য মা-কে বলা হল সারোগেট মাদার।

সারোগেসির প্রকারভেদ

বাবার শুক্রাণু আর সারোগেট মায়ের ডিম্বানু নিষিক্ত করে সেই মায়ের গর্ভ ভাড়া করে সন্তান জন্ম দেওয়ার সারোগেসি প্রচলন ছিল বহুদিন। জনপ্রিয় হিন্দি ছবিতেও যা উঠে এসেছে। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা দিল সমস্যা। কারণ সন্তান জৈবিক ভাবে বাবার হলেও মায়ের নয়। ব্যাপারটা মেনে নেওয়া কঠিন হল।

বাবার শুক্রানু ও মায়ের ডিম্বানু নিষিক্ত করে সারোগেট মায়ের গর্ভে বেড়ে উঠল ভ্রূণ। যদি এক্ষেত্রে মায়ের ডিম্বানু অনুর্বর হয় তাহলে অজ্ঞাত কোনও মহিলার ডিম্বানু নিয়ে তা নিষিক্ত করে সেই ভ্রূণ বেড়ে উঠল সারোগেট মায়ের গর্ভে।

সারোগেসিতে সাফল্য কতটা এটা নির্ভর করে কতগুলি বিষয়ের উপর।

  • যিনি সারোগেট মা হবেন তার সন্তান ধারণের ক্ষমতা কেমন?
  • যে মহিলার ডিম্বানু ব্যবহার করা হয় তার বয়স কত।

ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকি

সাধারণত আই ভি এফ পদ্ধতিতে যেটুকু ঝুঁকি থাকে এক্ষেত্রেও কম বেশি তাই। এই পদ্ধতিতে আগে এইচ আই ভি আর হেপাটাইটিস এর পরীক্ষা করে নেওয়া উচিৎ।

ব্যয়সাধ্য?

এমনিতে ব্রিটেনের মতন দেশে সারোগেট মায়ের সঙ্গে কোনও রকম আর্থিক লেনদেন আইনস্বীকৃত নয়। তবে অন্য পথে তাঁকে বিভিন্ন খরচ দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ ব্রিটেনে কমার্সিয়াল সারোগেসি আইনস্বীকৃত নয়। এ দেশে আইন খুব সুস্পষ্ট নয়। তাই  অফ দ্য রেকর্ড বলা যেতে পারে সোজা বা ঘুরপথে বেশ কয়েক লাখ টাকা খরচ করতে হয় সারোগেসির জন্য।

তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে বিনা যন্ত্রণায় মাতৃত্ব, আশীর্বাদী ফুলের মতন ঝড়ে পড়ছে অসহায় মায়েদের কোলে। তাই এগিয়ে চলেছে সারোগেসি মাতৃত্ব। ঠিক মা নয় অনেকটা মায়ের মতো।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন