প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর হার কমাতে পারে টিকাকরণ

0
Vaccination
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: শেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৭ সালে ২৬ লক্ষ মানুষ শুধু নিউমোনিয়ায় মারা গিয়েছেন। এই হিসেব ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিজ’- এর।

শুধু শিশুরাই নয়, বহু দেশেই প্রাপ্ত বয়স্করাও এই রোগের কোপে মারা যাচ্ছে। সেই একই ঘটনা ঘটছে ভারতেও। সংক্রমক রোগের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়াতে মৃতের সংখ্যা সর্বাধিক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সি শিশুদের নিউমোনিয়া প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে একাধিক পদক্ষেপ করা হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ কমানোর ব্যাপারে তেমন বিশেষ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ভারতের ক্ষেত্রেও প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে নিউমোনিয়া একটি বিশাল সমস্যা বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিউমোনিয়ার ফলে ফুসফুসে বায়ুথলিতে সংক্রমণ হয়। এই সংক্রমণ হয় মূলত ভাইরাস, ফাঙ্গাস ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে। এর থেকে ফুসফুসের বায়ুথলি পুঁজ, জলীয় পদার্থে পূর্ণ হয়ে যায়। ছোটো-বড়ো, সবাই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু বড়োরাই প্রায়ই নিউমোনিয়ার উপসর্গগুলোকে ফ্লু-র উপসর্গ বলে ভুল করেন।

নিউমোনিয়ার লক্ষণগুলি কখনও কখনও এত কম থাকে যে সহজে বোঝা যায় না। আবার কখনও কখনও এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়।

জেনে নেওয়া যাক বড়োদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার উপসর্গগুলো কী কী

১। কাশি, সঙ্গে সবজেটে, হলদেটে বা রক্তাক্ত কফ, ২। জ্বর, ৩। ঘাম দেওয়া, ৪। কাঁপুনি, ৫। ছোটো ছোটো শ্বাস প্রশ্বাস, ৬। বুকে ব্যথা, ৭।  খিদের অনিচ্ছা, ৮। মাঝে মাঝে ভুলে যাওয়া।

ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সব থেকে বেশি মাত্রায় এই সমস্যা রয়েছে। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সের মানুষরা ইনভেসিভ নিউমোকোকাল ডিজিজে (আইএনডি) বেশি ভোগেন। তাতে মারাও যান। ফলে এর উপসর্গগুলির বিষয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের সচেতন হওয়া উচিত। উপসর্গগুলির ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত এবং তেমন কিছু বুঝলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের দারস্থ হয়ে উপযুক্ত চিকিৎসা করানো উচিত।

রোগ ধরা পড়লে ঠিক কী কী করণীয়?

১। রোগ ধরা পড়া মাত্রই চিকিৎসকরা যে পরামর্শ দেবেন তা পুরোপুরি মেনে চলতে হবে।

২। সঙ্গে অবশ্যই এটা মনে রাখতে হয় যে, নিউমোনিয়া কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। এর থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব।

৩। নিউমোনিয়ার হাত থেকে বাঁচার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিউমোককাল ভ্যাকসিন।

নিউমোককাল ভ্যাকসিন কী?

১। এটি এমন একটি ভ্যাকসিন যা কিনা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক গুণ কমাতে পারে। নিউমোনিয়ার জন্য দায়ী যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া তাদের হাত থেকে রক্ষা করে এই ভ্যাকসিন।

২। এই ভ্যাকসিনে শ্বাসপ্রশ্বাসের কষ্ট বা অন্যান্য কষ্টদায়ক উপসর্গ থেকে রোগীর মৃত্যুর আশঙ্কা অনেক কমে যায়।  

৩। এই ভ্যাকসিন শুধু ইনভেসিভ নিউমোকোকাল ডিজিজ প্রতিরোধ করে তা-ই নয়, অন্যান্য নিউমোকোকাল রোগ যথা, প্রিজাম্পটিভ নিউমোকোকাল ডিজিজও প্রতিরোধ করে।  

এই সমস্যা শুধু যে পাঁচ বছর বা তার কম বয়সি শিশু এবং ৫০ বা তার বেশি বয়সি মানুষেরই হয় তাই নয়। এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন অনেকেই।

কারা রয়েছেন এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনার তালিকায়?

১। যাঁরা ক্রনিক ডায়াবেটিসে ভুগছেন।

২। যাঁরা সিওপিডি অর্থাৎ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজে ভুগছেন,

৩। যাঁরা ধূমপান করেন,

৪। যাঁরা প্রাপ্ত বয়স্ক কিন্তু অপুষ্টিতে ভোগেন তাঁরাও হতে পারেন এই রোগের শিকার।

এই সমস্ত ধরনের মানুষের মধ্যে এই বিশেষ টিকাকরণ খুবই জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতির ক্ষেত্রে বড়ো বাধা হল এই নিউমোনিয়া। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্ত বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করতে এই টিকাকরণ ব্যবস্থা আবশ্যক হওয়া দরকার। এতে করে প্রাপ্ত বয়স্কদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, রোগাক্রান্ত হওয়ার পরিমাণ কমানো, মৃত্যুর হার কমানো, জীবনযাত্রার গুণমান বৃদ্ধি ইত্যাদির ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী সুফল পাওয়া যাবে।

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

পড়তে পারেন – স্বাস্থ্য সাবধান: স্তন ক্যানসার, কিছু প্রশ্ন, কিছু উত্তর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.