গায়ের রং কালো হলেও প্রস্টেট ক্যানসারের সম্ভাবনা থাকতে পারে: বিশেষজ্ঞ

0
prostetcancer
প্রতীকী ছবি

ওয়েবডেস্ক: বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রস্টেট ক্যানসারের কোনো রকম চিহ্ন বা সংকেত আক্রান্তরা উপলব্ধি করতে পারেন না। কিন্তু পরে দেখা যায় প্রসেস্ট ক্যানসার হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা হাড়েও ছড়িয়ে গিয়েছে। তবে তা সত্বেও এমন কিছু আভাস থাকেই যা গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করানো উচিত। এইগুলি থাকলেই পরবর্তী কালে প্রসেস্ট ক্যানসার ধরা পড়ে। সে ক্ষেত্রে এই চিহ্ন বা উপসর্গগুলিকে ডাক্তারি ভাষায় ‘প্রস্টেট ক্যানসার রিস্ক ফ্যাকটর’ বলে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩৪ জনের মধ্যে এক জন মানুষ প্রস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তাই

১। যদি বয়স ৫০ বছর বা তার বেশি হয়,

২। যদি পরিবারের কারোর প্রস্টেট ক্যানসার হয়ে থাকে,

৩। যদি গায়ের রং কালো হয়।

তা হলে অবশ্যই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে প্রস্টেট ক্যানসারের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।

প্রস্টেট ক্যানসারের উপসর্গ হয় কি?

বেশির ভাগ পুরুষই কোনো সমস্যা উপলব্ধি করতে পারেন না। এই জন্যই তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে যাঁদের মুত্রনালী অর্থাৎ ইউরেথ্রার মধ্যে টিউবটিতে যেখান দিয়ে মূত্র বের হয় সেখানে ক্যানসার আক্রান্ত হয়, তাঁরা কিছুটা সমস্যা অনুভব করেন। অংশটি আকারে পরিবর্তন হয়। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তা হয় না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আকার পরিবর্তনের বিষয়টি অনেকাংশেই ‘এনলার্জমেন্ট অব প্রস্টেট’ রোগের উপসর্গের সঙ্গে একই রকম। তাই কোনো অসুখই যেহেতু সুখের কথা নয় তা ফেলে না রেখে সামগ্রিক ভাবে দেখিয়ে নেওয়া ভালো।

সাধারণ ভাবে যে সমস্যাগুলি ভবিষ্যতের প্রস্টেট ক্যানসারের আভাস দেয় –

১। প্রস্রাব শুরু হতে সমস্যা হওয়া

২। সম্পূর্ণ ভাবে প্রস্রাব করতে সমস্যা হওয়া

৩। ইউরিন ফ্লো অর্থাৎ প্রস্রাবের গতি খুব কমে যাওয়া

৪। পুরোটা হল না, কিছুটা রয়ে গেল এমন উপলব্ধি হওয়া 

৫। শেষ করার পরও একটু একটু করে ইউরিন হতে থাকা

৬। বেশিবার প্রস্রাব পাওয়া। বিশেষ করে রাতে

৭। টয়লেটে পৌঁছনোর আগেই প্রস্রাব করে ফেলা। অর্থাৎ মূত্র ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যাওয়া

এই কারণগুলি ‘লোকালই অ্যাডভান্সড প্রস্টেট ক্যানসারে’র উপসর্গ। যদি তা অন্যত্র ছড়িয়ে যায়, তাকে বলা হয় ‘অ্যাডভান্সড প্রস্টেট ক্যানসার’।

‘অ্যাডভান্সড প্রস্টেট ক্যানসার’-এর উপসর্গ সম্পূর্ণ আলাদা। সেগুলি হল –

পড়ুন – ক্যানসারের প্রাথমিক ৫টি লক্ষণ, এগুলির একটিও থাকলে সচেতন হন/ পর্ব-২

১। পিঠে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, পাছায় ব্যথা

২। যৌনক্রিয়ার সময়ে সমস্যার সম্মুখীন হওয়া

৩। প্রস্রাবে রক্ত পড়া

৪। অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া

অনেকেই বলবেন, এই উপসর্গ অন্য রোগেও থাকে। অবশ্যই তাই। তাই জন্যই তো উপসর্গ দেখতে পেলেই খুঁটিয়ে তা নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত। এর কারণ কী তা জানতে প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য পরীক্ষাগুলিও করে নেওয়া যেতে পারে।

পড়তে পারেন – পেটের ক্যানসারের জন্য দায়ী এই বিশেষ ধরনের ব্যাকটেরিয়া: গবেষণা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.