ডাক্তারের চেম্বার থেকে: মারণ-রোগে শুশ্রূষা

0
297

ডাঃ রাকেশ রায়

উপশমকারী শুশ্রূষা বা প্যালিয়েটিভ কেয়ার কী?

বিজ্ঞানসম্মত এই স্বাস্থ্য পরিষেবা সাধারণত দুরারোগ্য মারণ রোগে আক্রান্ত রোগীদের এবং তাঁর পরিবারকে দেওয়া হয়ে থাকে। ক্যানসার যেমন একটি মারণ রোগ এবং দুরারোগ্য ব্যাধি। ঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু না হলে তা তিলে তিলে রোগীকে মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। শারীরিক সমস্যা ছাড়াও ক্যানসার রোগীদের মানসিক, সামাজিক ইত্যাদি নানান অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়। এই সমস্ত সমস্যার সার্বিক সমাধান প্যলিয়েটিভ কেয়ার।

ক্যানসারের ভয়াবহ এক উপসর্গ ব্যথা বা যন্ত্রণা। তা ছাড়াও দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, খাবার গিলতে অসুবিধা, ঘা, খিদে না পাওয়া, ঘুম না হওয়া, কোষ্টকাঠিন্য, ইত্যাদি নানান সমস্যা রোগীর জীবনকে ওষ্ঠাগত করে তোলে। চিকিৎসকরা কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, সার্জারি অর্থাৎ চিকিৎসার দিকটি নিয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন। কিন্তু রোগীর জায়গায় বসে যদি ভাবা যায়, তা হলে দেখা যাবে ক্যানসার আক্রান্ত মানুষটির সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যরা কী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটান। এই সমস্ত সমস্যার সমাধান একই ছাদের নিচে দিয়ে থাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ার।

কাদের জন্য ?

মারণ রোগ বা বিভিন্ন ক্রনিক রোগ, যার নিরাময় প্রায় অসম্ভব, সেই সমস্ত রোগীদের প্রয়োজন এই পরিষেবার। শুধুমাত্র ক্যানসার নয়, এইডস, ফুসফুস, হার্ট, নার্ভ সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্রনিক রোগে আক্রান্ত রোগীরা এই পরিষেবা নিতে পারেন।

কী ভাবে দেওয়া হয়?

এই বিভাগের অধীনে আছে আউটডোর, ইনডোর ও সমিসিলিয়ারি কেয়ার বা হোম কেয়ার। রোগী হাসপাতাল থেকে ছুটির পর বাড়ি ফিরে যায়। এই অসুস্থ মানুষটির বাড়ি একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে থাকলে হোমকেয়ার টিম তার বাড়িতে হাজির হয়। উদ্দেশ্য হল রোগী বাড়িতে কী অবস্থায় আছে, নতুন করে তার কোনও উপসর্গ দেখা দিল কিনা, নাকি যে উপসর্গগুলো ছিল তা আবার নতুন করে মাথা চাড়া দিল তা দেখা এবং প্রয়োজনে যথাযথ ওষুধ দেওয়া। ব্যাপারটা অকল্পনীয় হলেও কিছু কিছু সংস্থা এটা বাস্তবায়িত করছে।

কারা দিয়ে থাকে ?

এটা টিম অ্যাপ্রোচ। ডাক্তার, নার্স, সেবিকা, ফিজিওথেরাপিস্ট, মনস্তত্ত্ববিদ, সমাজকর্মী একটি টিমে থাকেন। এদের সমবেত প্রচেষ্টায় রোগীরা শারীরিক, সামাজিক, মানসিক সমস্যার মোকাবিলা করে থাকেন। শুধু ওষুধ নয় কাউন্সেলিং-ও প্যলিয়েটিভ কেয়ারের এক বিশেষ অঙ্গ।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার মানেই কি লড়াই শেষ?

না। বরং মুমূর্ষু ও মৃত্যুপথযাত্রী রোগীদের কষ্ট ও যন্ত্রণার উপশমের শুরু। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এই রকম রোগীদের হাসপাতাল ভর্তি নেয় না, ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু তাদের সেবা ও চিকিৎসার যে আরও বেশি প্রয়োজন তা জানা সত্ত্বেও এই সব রোগীদের উপেক্ষা করা হয়। এই সব রোগীদের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব প্যালিয়েটিভ কেয়ারের।

এই চিকিৎসা কী ব্যয়সাপেক্ষ ?

একেবারেই নয়। এই পরিষেবা নিখরচায় দেওয়া হয়ে থাকে। ডাক্তারি পরামর্শ বিনামূল্যে। এমনকি যে সব ওষুধ দিয়ে রোগীদের চিকিৎসা করা হয় তাও অত্যন্ত কম দামের।

প্যালিয়েটিভ কেয়ার কি সরকার অনুমোদিত ?

সে ভাবে দেখলে আমাদের রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত বেশ খানিকটা উদাসীন। ভারতে এই পরিষেবার জন্য আলাদা করে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করা হলেও, এর প্রসার বা প্রচার সে-ভাবে ঘটেনি। কতগুলো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এবং স্বতস্ফূর্ত ভাবে এ বিষয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক কিছু কর্মীর হাত ধরে প্যালিয়েটিভ কেয়ারের প্রসার ঘটছে আমাদের দেশে

ভারতে এবং আমাদের রাজ্যে প্যালিয়েটিভ কেয়ার কোথায় দেওয়া হয়?

কেরালা ছাড়া ভারতের অন্য কোনও রাজ্যে সে-ভাবে এর প্রসার ঘটেনি। সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা, সরকারের উদাসীনতা, আর্থিক সঙ্কট, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব এর মূল কারণ। পশ্চিমবঙ্গে কিছু এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এই বিষয়ে কাজ করে থাকে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, ঠাকুরপুকুর ক্যানসার হাসপাতাল, চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতাল ও টাটা হাসপাতালে এই পরিষেবা দেওয়া হয়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here