অরিত্র খাঁ ,পুষ্টিবিদ

হঠাৎ করে সমীরের চেহারাটা আমির খান থেকে আমজাদ খানের মতন হয়ে যাচ্ছে।  আগের মতো গরমটা আর সহ্য হচ্ছেনা বা ঠান্ডাটা অসহ্যের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। প্রচুর ঘামে ভিজে যাচ্ছে শরীর।  ক্লান্তিবোধ কাবু করে ফেলছে। এরকম হাজারো সমস্যা হতে পারে, যদি আপনার শরীরে থাইরয়েড নামক অতি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থিটা অসুস্থ হয়ে যায়।

থাইরয়েড কী?

থাইরয়েড প্রজাপতির মত দেখতে একটি গ্রন্থি, যেটা গলায় থাকে, গলার কলার বোন বা বিউটি বোন নামক হাড়ের উপরে। এটি হরমোন তৈরি করে। আর থাইরয়েড হরমোন আমাদের শরীরে জৈব বিপাক ক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এর গুরুত্ব অনেক।

কী কী সমস্যা হতে পারে?

থাইরয়েডে অনেক রকম রোগ হতে পারে।

হাইপোথাইরয়ডিজম:

যখন শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে কম থাইরয়েড হরমোন নিঃসৃত হয়।

কী করে বুঝবেন?

  • কাজ করতে এনার্জি না পাওয়া বা ক্লান্তবোধ করা।
  • খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া।
  • পর্যাপ্ত খাবার না খাওয়ার পরেও শরীরের ওজন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া।
  • ঠান্ডা একদমই সহ্য করতে না পারা।
  • চুল ও ত্বক শুকনো হয়ে যাওয়া
  • মেয়েদের মাসিকের সময় প্রচুর রক্ত যাওয়া ও অনিয়মিত মাসিক হওয়া।
  • পায়খানা কষা হয়ে যাওয়া।
  • বন্ধ্যাত্ব।
  • মানসিক অবসাদে ভোগা।
  • যৌন চাহিদা কমে যাওয়া।

হাইপারথাইরয়েডিজম:

শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাইরয়েড হরমোন ক্ষরিত হলে এই রোগ হয়।

কী করে বুঝবেন?

  • খাবারের রুচি বেশ ভালো থাকার পরেও শরীরের ওজন কোন কারণ ছাড়াই কমে যাওয়া।
  • প্রচুর ঘামা, গরম একেবারে সহ্য না করতে পারা।
  • হাতের তালু ঘেমে যাওয়া।
  • মাংস পেশীতে শক্তি না পাওয়া।
  • হাত পা কাঁপা।
  • অনিয়মিত মাসিক হওয়া।
  • ঘুমে সমস্যা হওয়া।
  • ডিস্টার্বড ও নার্ভাস থাকা।
  • চোখে ঝাপসা দেখা।
  • পাতলা পায়খানা ঘন ঘন হওয়া।
  • উচ্চ রক্তচাপ হওয়া।
  • চুল পাতলা হয়ে যাওয়া।

এছাড়াও থাইরয়েডে গলগন্ড হয়।

থাইরয়েড গ্রন্থি যে কোনো কারণে বড়ো হয়ে গেলে, তাকে গলগন্ড বলে।

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য সাবধান: হার্ট অ্যাটাক, কী করে বুঝবেন ? কী করবেন ?

থাইরয়েডের সমস্যায় কী খাবেন কী খাবেন না

কী কী খাবেন:

  • বেশি করে ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করতে হবে। এর জন্য প্রচুর গাজর, হলুদ ও গাঢ় সবুজ শাকসবজি ও ডিম খেতে হবে।
  • নারকেল তেলে যে ফ্যাটি অ্যাসিড আছে তা থাইরয়েডের কাজকে ত্বরান্বিত করে, এছাড়াও বিপাকে সহায়তা করে ও এনার্জি দেয়। এটা শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে যা হাইপোথাইরয়েডিজম-এর রোগীদের জন্য ভালো।
  • থাইরয়েড-এর সমস্যায় আপেল সিডার ভিনেগার খুব কার্যকর। এটা অ্যাসিড ও ক্ষারের ভারসাম্য রক্ষা করে, শরীরকে বিষ মুক্ত করে, ওজন কমাতে সাহায্য করে এবং হরমোনের নিঃসরণে সহায়তা করে।
  • ভিটামিন-ডি থাকার কারণে দই থাইরয়েড-স্বাস্থ্যের জন্য আরেকটি ভালো খাবার। ভিটামিন-ডি-এর ঘাটতিতে হাসহিমোটোস রোগ হয়। এটি হাইপোথাইরয়েডিজমের একটি বড়ো কারণ।
  • স্যামন মাছ থাইরয়েড-স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে বেশ ভালো খাবার। এর মধ্যে আছে প্রদাহরোধী উপাদান। আর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার কারণে স্যামন মাছ উপকারী।
  • ডিম তিনটি পুষ্টির খুব ভালো উৎস—টাইরোসিন, আয়োডিন ও সেলেনিয়াম। এগুলোর অভাবে থাইরয়েডে সমস্যা হয়। ডিম খেলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্রম ভালোভাবে হয়।

 কী কী খাবেন না:

  • অতিরিক্ত লবণ, রেড মিট।
  • ফুলকপি, বাঁধাকপি, ব্রকলি, পাতাকপি, ওলকপি, মূলো, শালগম, মিষ্টি আলু, সজনা ডাটা (যদি খেতেই হয় গরম জলে ধুয়ে জল ফেলে দিয়ে রান্না করুন)।
  • সরষে, বাদাম,শুকনো ফল,পাকা কলা
  • মিষ্টি ও মিষ্টিজাত দ্রব্য, মধু, সাদা চিনি
  • কোমল পানীয়, চা, কফি, সয়া দুধ, ক্যাফেইন আছে এমন কোন পানীয়, সয়া সস
  • প্যাকেটজাত বা প্রসেসড ফুড ধরনের যে কোনো খাবার বাদ দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here