Connect with us

শরীরস্বাস্থ্য

ক্যানসারের চিকিৎসার সময় রোগীরা কী খাবেন আর কী খাবেন না?

Published

on

ক্যানসার

ওয়েবডেস্ক : যে সব রোগীর ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে তাদের চিকিৎসককে না জানিয়ে কোনো রকম ভেষজ বড়ি বা ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। যদি খান বা খেতে হয়ও সে ক্ষেত্রে ক্যানসার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত, তাকে বিস্তারিত জানানো উচিত।  এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ তা না হলে চিকিৎসার ভুল ফল হতে পারে, বা ফল ঘুরে যেতে পারে, বা ক্ষতি হতে পারে, বা চিকিৎসা সফল নাও হতে পারে।

“ক্যানসারের চিকিৎসার সময় তারা অন্য কোনো আলাদা ওষুধ খাচ্ছেন কি না, তা চিকিৎসকদের উচিত নিজে থেকেই দায়িত্ব নিয়ে রোগীদের জিজ্ঞাসা করা”, এ কথা বলছিলেন অধ্যাপক কার্দোসো

অধ্যাপক কার্দোসো বলেন, ক্যানসার চিকিৎসার জন্য রোগীরা যদি কোনো অন্য থেরাপি বা চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তা হলে সে বিষয়ে তাঁদের চিকিৎসককে অবশ্যই জানানো উচিত। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে তাঁদের ক্ষেত্রে যাঁদের ক্যানসার চামড়ায় ছড়িয়েছে।

তার কারণ হিসাবে তিনি বলেছেন, এমন অনেক পণ্য আছে যেগুলোর কারণে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোন থেরাপি এবং কেমোথেরাপির ওপর বাধা সৃষ্টি করতে পারে বা রক্ত জমাট বাঁধতেও দেরি করাতে পারে।

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ মিস কার্দোসো বলেন, রোজকার জীবনেও এমন বেশ কিছু ভেষজ দ্রব্য আছে যেগুলো রক্ত জমাট বাঁধার ক্ষেত্রে সমস্যা সৃষ্টি করে, রক্ত তঞ্জন হতে দেরি করায়।  এমন কিছু খাবারের মধ্যে রয়েছে – রসুন, জিনসেং এবং হলুদ।

বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন, এই রোগের ক্ষেত্রে রোগীর তাই খাবারদাবার বা চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপারে মূল চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নেওয়া উচিত। কারণ তা না হলে চিকিৎসায় অযাচিত ভাবে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

কমলালেবু স্বাভাবিক ভাবে খুবই ভালো একটি খাবার হলেও, ক্যানসার রিসার্চ বলছে, ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীন মাল্টা এবং কমলালেবুর মতো খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, ক্যানসারের ঔষধ শরীরের ভেতরে যে ভাবে ভেঙে কাজ করে, এই খাবারগুলি সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এ ছাড়াও কামরাঙা, বাঁধাকপি এবং হলুদও এই তালিকায় রেখেছে ব্রিটেনের ক্যানসার রিসার্চ সংস্থা।

ব্রিটেনের এই প্রতিষ্ঠানটির মতে, “ক্যানসারের প্রথাগত চিকিৎসার বাইরে যে কোনো ধরনের ওষুধ খাবার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। বিশেষ করে যদি ক্যানসার চিকিৎসার মাঝামাঝিতে অবস্থান করেন তা হলে তো অবশ্যই।”

তা হলে প্রশ্ন আসতেই পারে ক্যানসার রোগীরা খাবেন কী?

তার জন্য অবশ্যই চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। তা ছাড়া বিভিন্ন গবেষণা থেকে উঠে আসা কয়েকটি খাবারের কথা বলে যেতে পারে, যেগুলি ক্যানসার রোগীদের জন্য উপকারী হতে পারে।

পড়ুন – স্বাস্থ্য সাবধান: স্তন ক্যানসার, কিছু প্রশ্ন, কিছু উত্তর

১) রাঙাআলু – মিষ্টি আলু অর্থাৎ রাঙাআলু বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ একটি সবজি। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যদি উচ্চমাত্রায় বিটা ক্যারোটিন শরীরে থাকে তা হলে তা কোলন ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, পেট ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে দেয়। আরও প্রমাণিত হয়েছে যে, মহিলারা যদি মিষ্টি আলু বা রাঙাআলুর মতো বিটা ক্যারোটিন সমৃদ্ধ খাবার তাঁদের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিন রাখেন তা হলে তাঁদের স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়।

২) সাওয়ারসপ – সাওয়ারসপ ফল হল ক্যানসার প্রতিরোধক। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, সাওয়ারসপ ফল কেমোথেরাপির চেয়েও দশ হাজার গুণ শক্তিশালী। তাই অতিরিক্ত না খেলে এর  কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। উল্লেখ্য, এই ফলের গাছের নাম গ্র্যাভিওলা। তবে ফলটি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। যেমন – সাওয়ারসপ, করোসল গুয়ানাবা, গুয়ানাভানা ইত্যাদি। এই গাছের ফল, পাতা, ডাল, ছাল-বাকল এবং শিকড় ক্যানসার-সহ বহু রোগের নিরাময়ে ব্যবহৃত হয়।

৩) সবুজ শাকসবজি – পালং শাক, লেটুস, হেলেঞ্চা শাকের মতো বহু দেশীয় সবুজ শাকপাতা ক্যানসার-সহ বহু রোগের ক্ষেত্রে উপকারী। এগুলিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও মিনারেল। তা ছাড়াও এতে আছে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং এনজাইম। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যে ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে এ কথা অনেকেই জানে। এ ছাড়াও রয়েছে  গ্লুকোসাইনোলেটস, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান এবং সঙ্গে আছে নিষ্ক্রিয় কার্সিনোজেনস। এই নিষ্ক্রিয় কার্সিনোজেনস টিউমার সৃষ্টি রোধ করে, ক্যানসারের কোষ ধ্বংস করে এবং ক্যানসার স্থানান্তরণে বাধা দান করে। কাজেই প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় সবুজ শাক-পাতা থাকা অবশ্যই দরকার।

৪) কপি জাতীয় সবজি – ফুলকপি, ব্রকোলি, ওলকপি, শালগম, ব্রাসেলস স্প্রাউট ইত্যাদিতে আইসোথায়োসায়ানেটস নামক একটি ফাইটো কেমিক্যাল থাকে। এই ফাইটো কেমিক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে সক্ষম। এ ছাড়াও এতে আছে ক্যানসার রোধে সাহায্যকারী উপাদান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

আরও পড়ুন – ক্যানসারের প্রাথমিক ৫টি লক্ষণ, এগুলি দীর্ঘদিন থাকলেই সচেতন হন! পর্ব ১

৫) বেরি জাতীয় ফল – ব্ল্যাক বেরি, ব্লু বেরি, স্ট্রবেরি, গোজিবেরি, রাস্পবেরি, চেরি, মালবেরি ও কামুকামু-সহ বেরি জাতীয় সকল ফলই এই রোগের ক্ষেত্রে ভালো। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই সব উপাদান ক্যানসার নিরাময়ের পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে।

৬) কমলা রঙের ফল –  লেবু, জাম্বুরা, মিষ্টিকুমড়ো, পাকা পেঁপে, গাজর ও স্কোয়াশ ইত্যাদি উজ্জ্বল বর্ণের যে কোনো ফল ও সবজিতে থাকে ক্যারোটিনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। বিটা-ক্যারোটিনও। এটি অতি প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্যানসার রোধ করে।

৭) হলুদ – হলুদে রয়েছে ‘কারকিউমিন’। এটি প্রদাহজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মানবদেহের কোষের মধ্যে প্রবেশ করে ভেতর থেকে দেহকে ক্যানসার প্রতিরোধী করে তোলে। তাই কাঁচা বা গুঁড়ো হলুদ খাওয়া যেতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়াই ভালো

৮) অর্গানিক মাংস – কোনো রকম স্টেরয়েড, হরমোন ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ না করে বড়ো করা মুরগির মাংস বা তার স্যুপ ক্যানসার রোগীর ক্ষেত্রে বেশ ভালো। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি গুণ। রয়েছে ভিটামিন বি ১২, সেলেনিয়াম, জিংক ও ভিটামিন বি, এগুলি রক্ত পরিশোধন করে, হজম ক্ষমতা বৃদ্ধি করে ও হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।

৯) দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য – গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, ক্যালসিয়াম রেকটাল ক্যানসার-সহ নানা রকমের ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়াও ব্রেস্ট ক্যানসার ও ওভারিয়ান ক্যানসারের ঝুঁকিও কমায়। এ দিকে দুগ্ধজাত খাবার যেমন টক দই, ছানা ইত্যাদি হল প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়ামের উৎস ও প্রোবায়োটিক। অর্থাৎ এতে প্রচুর পরিমাণ ভালো ব্যাক্টেরিয়ার রয়েছে। প্রোবায়োটিক টিউমার বৃদ্ধি প্রতিরোধ করে। তা ছাড়া গরু ও ছাগলের দুধ, পনির ইত্যাদিতে রয়েছে সালফার প্রোটিন ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট। তাই এগুলি ক্যানসার রোগীর খাদ্য তালিকায় রাখা জরুরি। তা ছাড়া সাধারণ ভাবে দুগ্ধজাত খাবারে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি থাকে। এই ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষমতা প্রচুর পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়।

১০) মাছ – গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মাছে আছে ওমেগা থ্রি, ফ্যাটি অ্যাসিড, অ্যান্টিইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিটিউমার ও অ্যান্টিক্যানসার উপাদান। কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষাক্ততা কমাতে ওমেগা থ্রি এবং ফ্যাটি অ্যাসিড খুবই ফলপ্রসূ।

১১) গ্রিন টি – গ্রিনটির খাদ্য গুণ প্রচুর। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ক্যানসার রোগীর মৃত্যুর প্রধান কারণ মেটাস্ট্যাসিস। অর্থাৎ ক্যানসার শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়া। গ্রিনটিতে আছে পলিফেনোলিক কম্পাউন্ড, ক্যাটেচিন, গ্যালোক্যাটেচিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই সব উপাদান  ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়, টিউমার বৃদ্ধি রোধ করে ও ক্যানসার মেটাস্ট্যাসিস রুখতে সাহায্য করে।  

১২) মাশরুম – মাশরুম হল উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন দারুণ একটি খাদ্য উপাদান। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

আরও – ক্যানসারের প্রাথমিক ৫টি লক্ষণ, এগুলির একটিও থাকলে সচেতন হন/ পর্ব-২

১৩) স্বাস্থ্যকর ভোজ্য তেল –  নারকেল তেল, তিসির তেল এবং এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল – এগুলি  পুষ্টি জোগায়। এইগুলি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। তা ছাড়া জলপাই তেলে আছে ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস। ফাইটো নিউট্রিয়েন্টস প্রদাহ কমায়, সঙ্গে সঙ্গে ব্রেস্ট ক্যানসার ও কলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

১৪) বাদাম জাতীয় – চিনাবাদাম ভিটামিন-ই এর খুব ভালো উৎস। ভিটামিন-ই কোলন, ফুসফুস, যকৃত এবং অন্যান্য অনেক ক্যানসারেরই ঝুঁকি কমায়।

১৫) রঙিন সবজি  – ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন রঙিন শাক, সবজিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন – পেঁয়াজ, জুকিনি, এস্পারাগাস, আর্টিচোকস, মরিচ, গাজর এবং বীট ইত্যাদি।

তবে সব ক্ষেত্রে সবটা সব সময় প্রযোজ্য ও প্রয়োজনীয় নাও হতে পারে। তাই যে কোনো কিছুই খাবার খাওয়ার আগে বা ব্যবহার করার আগে অবশ্যই চিকিৎসাকারীর পরামর্শ ও অনুমতি নিয়ে নেওয়া ভালো। কারণ এক ধরনের ক্যানসারের ক্ষেত্রে  যেটি জরুরি অন্যটির ক্ষেত্রে সেটি জরুরি নাও হতে পারে, উলটে খারাপও হতে পারে। কারণ রোগের ধরন, পারিপার্শ্বিক সমস্যা, চিকিৎসা পদ্ধতি ইত্যাদি সব কিছুর জন্যই খাদ্যা তালিকা বদল হয়। তাই সে ব্যাপারে চিকিৎসকের মতামত নিয়েই পুরো খাদ্য তালিকা বানানো ও তা মেনে চলা ভালো।

পড়ুন – শীতে শরীর গরম রাখতে খান এই ৬টি খাবার

শরীরস্বাস্থ্য

জলে বাড়বে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা! চমকপ্রদ তথ্য বিশেষজ্ঞের

এক জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্পূর্ণ ওজনের ৬০ শতাংশই জলীয়।

Published

on

জলে মজবুত হবে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। সমস্ত ছবি প্রতীকী

খবর অনলাইন ডেস্ক: কথায় রয়েছে জলের অপর নাম জীবন। জীবজগতে অস্তিত্বরক্ষার জন্য অক্সিজেনের পরেই অপরিবহার্য হিসেবে উঠে আসে জলের নাম। বিশুদ্ধ পানীয় জল শরীরের অনাক্রম্যতা বা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতেও সহায়ক বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তাঁদের মতে, এক জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সম্পূর্ণ ওজনের ৬০ শতাংশই জলীয়। মস্তিষ্ক এবং হৃদপিণ্ডের ৭৩ শতাংশ জল নিয়ে গঠিত এবং ফুসফুস প্রায় ৮৩ শতাংশ, ত্বকে ৬৪ শতাংশ, পেশী এবং কিডনিতে ৭৯ শতাংশ জলের উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে আশ্চর্যজনক ভাবে হাড়গুলিতেও রয়েছে ৩১ শতাংশ জল।

দীর্ঘস্থায়ী অসুখের প্রতিরোধে জল

এনডিভিটি-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্বনামধন্য বিশেষজ্ঞ গণেশ আইয়ার দাবি করেছেন, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার বিরুদ্ধে জল-ই প্রথম প্রতিরক্ষা।

বাত অথবা জয়েন্টের সমস্যায়, এমনকী অস্টিওপোরোসিস রোধ করতে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ জলের ভূমিকা অপরিসীম। আবার পর্যাপ্ত জলের অভাবে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন উৎপাদন হ্রাস পায়। ফলে জলের অভাবে অনিদ্রা বা অবসাদজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

লসিকা উৎপাদনেও জলের ভূমিকা

দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে শ্বেত রক্ত কণিকা কোষগুলিতে লসিকা সরবরাহ করে থাকে। এই লসিকা তৈরির জন্য জলের প্রয়োজন। শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অন্যান্য অনাক্রম্য কোষগুলি গুরুতর অসুস্থতা এবং রোগের সঙ্গে লড়াই করে।

হজমের জন্য জল

পুষ্টির মাত্রা সঠিক হলেও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মজবুত হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা অথবা হজমের সমস্যা মেটাতে জল সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।

(আরও পড়তে পারেন: বর্ষায় রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে ডাবের জল)

দূষিত পদার্থ দূরীকরণে জল

শরীর থেকে দূষিত পদার্থ দূরীকরণ এবং অক্সিজেনেটস করতে জলের ভূমিকা অপরিসীম। মানুষের শরীরের প্রত্যেকটি কোষে অক্সিজেন বহন করে জল। কোষগুলির সঠিক কার্যপদ্ধতি বজায় রাখতে এই অক্সিজেনের প্রয়োজন। অন্য দিকে কিডনি পর্যাপ্ত জল পেলে শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বাইরে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু উল্টো হলে সেগুলি ভিতরে জমতে থাকে, রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

*তবে ক্ষেত্র বিশেষে রোগীর জন্য জলপানের মাত্রা বেঁধে দেন চিকিৎসক। সেই নিয়ম অবশ্যই মেনে চলতে হবে। উপরোক্ত মতামত বিশেষজ্ঞের নিজস্ব। ঋণস্বীকার: এনডিটিভি

Continue Reading

শরীরস্বাস্থ্য

কোভিড-১৯: স্কুল খোলার আগে নিজের সন্তানকে এই ৫টি তথ্য অবশ্যই জানাবেন

স্কুল খোলার আগে সন্তানকে জানানোর জন্য ৫টি প্রয়োজনীয় তথ্য।

Published

on

নয়াদিল্লি: কোভিড-১৯ মহামারির (Covid-19 pandemic) বিরুদ্ধে লড়াই করছে গোটা বিশ্ব। সংক্রমণের নিরিখে ভারত এখন দ্বিতীয় স্থানে।

অর্থনীতি, কর্মসংস্থান বা অন্যান্য ক্ষেত্রের মতোই শিক্ষাক্ষেত্রও বড়োসড়ো সংকটের মুখে। অনলাইন ক্লাস (Online class) চললেও সেটা নির্দিষ্ট একটা গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। যে কারণে ধাপে ধাপে স্কুল চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।

কিন্তু অভিভাবকদের মনে সন্তানের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিয়ে সংশয় কাটছে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি। ফলে নিতান্তই যদি বাচ্চাকে স্কুলে পাঠাতে হয়, তা হলে ভাইরাসটি সম্পর্কে সংক্ষেপে হলেও তাকে সচেতন করতে হবে।

সন্তানকে জানানোর জন্য ৫টি প্রয়োজনীয় তথ্য

১. আমরা কতটা জানি?

ভাইরাসটি সম্পর্কে আমরা কতটা জানি, সেটাই সব থেকে বড়ো প্রশ্ন। চিকিৎসক, গবেষক, বিজ্ঞানীরা ভাইরাস সম্পর্কে জানার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

কিন্তু আমরা এই করোনাভাইরাসের (Coronavirus) প্রকৃতি সম্পর্কে অনেক কিছুই জানি না। তবে বাচ্চাকে অবশ্যই বলতে হবে- ভাইরাসটি বায়ুবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণগুলি বুঝতে পারলেই আগাম সতর্কতা অবলম্বনে তারাও সচেতন হতে পারবে। তাদের পক্ষে যতটা সম্ভব, ততটা নিজের যত্ন নিতে পারবে।

২. করোনাভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক

করোনাভাইরাস অত্যন্ত সংক্রামক। এ ধরনের দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। তারা যদি ভাইরাসের প্রকৃতি বুঝতে পারে, তা হলে তারাও সাবধানতা অবলম্বন করতে এবং নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে আরও উৎসাহিত হবে।

৩. ভাইরাসটি একাধিক উপায়ে ছড়াতে পারে

প্রাথমিকভাবে জানা যায়, কোনো সংক্রামিত ব্যক্তির থেকে হাঁচি এবং কাশি, থুতুর ফোঁটার সংস্পর্শে কোনো সুস্থ ব্যক্তি এলে ভাইরাসটি ছড়িয়ে সংক্রামিত করতে পারে। তবে, গবেষকরা তবে গবেষকরা এমনও দাবি করেন, আরও অনেকগুলি উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এমনকি দীর্ঘ সময় ধরে তলের উপরেও সক্রিয় থাকতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বাতাসে আসার পর কিছুক্ষণের জন্য এটি সক্রিয় থাকতে পারে।

৪. করোনায় যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে

কেউ নিজের পর্যান্ত যত্ন নিচ্ছে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলার জন্য স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছে, তার মানে এই নয় যে তার ভাইরাসে ভয় নেই। বাচ্চাকে জানাতে হবে, সংক্রমণের ঝুঁকি রয়েছে প্রত্যেকের। এমনকী এই রোগের এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকরী ভ্যাকসিন অথবা নির্দিষ্ট প্রতিকার আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি।

৫. কোভিডের উপসর্গ নাও থাকতে পারে

শিশুরা প্রায়শই জ্বর, কাশি, সর্দি ইত্যাদির মতো নির্দিষ্ট উপসর্গগুলির সঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু কোভিড-১৯ আক্রান্তের মধ্যে যে সবসময় উপসর্গ দেখা দেবে, তেমনটাও নয়। কোনো বন্ধুকে হয়তো কেউ দেখছে কোনো উপসর্গ নেই, কিন্তু সে-ও করোনায় আক্রান্ত হতে পারে অথবা সম্ভাব্য রোগের বাহক হতে পারে। তারা তাদের বন্ধুরা সুস্থ দেখতে পাচ্ছে এবং তাদের চারপাশে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারে না তবে তারা সংক্রামিত হতে পারে এবং এই রোগের সম্ভাব্য বাহকও হতে পারে। এ ধরনের সম্ভাবনাগুলি নিয়েও বাচ্চাকে সচেতন করতে হবে।

আরও পড়তে পারেন: কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে স্কুল খুললে আপনি কি নিজের সন্তানকে পাঠাবেন?

সংক্রমণের হার, সক্রিয় রোগীর সংখ্যা, সুস্থতার হার ইত্যাদি কতটা বাড়ল অথবা কমল, সে সব জটিল পরিসংখ্যান শিশুদের বোঝানো কোনো মতেই সম্ভব নয়। কিন্তু ভয়াবহ এই সমস্যা সম্পর্কে তাদের ন্যূনতম শিক্ষিত করে তোলার মাধ্যমেই সুরক্ষিত রাখার কৌশল নিতে হবে।

দেখে নিন এখানে: ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নবম-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য আংশিক স্কুল খুলতে পূর্ণাঙ্গ নির্দেশিকা জারি কেন্দ্রের

Continue Reading

বিজ্ঞান

নভেম্বরে বাজারে আসতে পারে কোভিড-টিকা, দাবি করল চিন

টিকা উৎপাদনের কার্যত প্রতিযোগিতা চলছে বিভিন্ন দেশে।

Published

on

coronavirus vaccine

খবরঅনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাসের (Coronavirus) প্রতিশোধক টিকা তৈরির জন্য বিশ্ব জুড়ে প্রতিযোগিতা লেগেছে। যে টিকার ওপরে বিশ্বের আশা সব থেকে বেশি, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই টিকা কবে বাজারে আসবে, সে ব্যাপারে কিছু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অন্য দিকে কোভিড-টিকা বাজারে এনে ফেলেছে রাশিয়া।

এ বার চিন (China) দাবি করল যে তাদের দেশে তৈরি কোভিড-টিকা নভেম্বরেই বাজারে চলে আসতে পারে। কিছু দিন আগে এমন দাবি করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও।

সোমবার চিনের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর প্রধান গুইঝেন য়ু জানিয়েছেন, তাদের চারটি টিকা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সব ক’টির পরীক্ষানিরীক্ষাই মসৃণ ভাবে এগোচ্ছে। এর মধ্যে গত জুলাইয়ে তিনটির প্রয়োগ করা হয়েছে দেশের জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ওপর।

সেই প্রয়োগের ফলাফল নিয়ে সবিস্তার জানা না গেলেও চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী নভেম্বর বা ডিসেম্বরের মধ্যেই বাজারে আসতে পারে তাদের কোভিড-প্রতিষেধক।

গত এপ্রিলে তিনি নিজে কোভিড-টিকা নিয়েছেন বলে দাবি করেছে য়ু। তার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চিনের ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা সিনোফার্ম এবং সিনোভ্যাক বায়োটেক তিনটি ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে। চতুর্থ ভ্যাকসিনটি তৈরি করছে ক্যানসিনো বায়োলজিক্স। গত জুনে ক্যানসিনোর তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারযোগ্য বলে জানিয়ে দেন চিনের সেনা কর্তৃপক্ষ। তবে তা এই মুহূর্তে চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।

এ দিকে মার্কিন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থা ফাইজার ইনকর্পোরেশন জানিয়েছে, তাদের কোভিড-টিকার পরীক্ষানিরীক্ষাও চূড়ান্ত পর্যায়ে। চলতি বছর শেষ হওয়ার আগেই তা বাজারে চলে আসবে বলে দাবি তাদের।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

“দেশকে ভালোবাসেন, তাই প্রশ্ন করুন,” আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে বার্তা দিলেন অভিনেত্রী তাপসী পান্নু

Continue Reading
Advertisement
bangladesh foreign minister
বাংলাদেশ2 hours ago

সৌদিতে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিতে বাংলাদেশকে চাপ

ক্রিকেট2 hours ago

বুমরাহ-বোল্টের দাপটে বিধ্বস্ত কেকেআর, লজ্জার হার দিয়ে আইপিএল যাত্রা শুরু

দেশ3 hours ago

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক মজবুত গাঁথুনির উপরে দাঁড়িয়ে, বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান

রাজ্য6 hours ago

দৈনিক সংক্রমণ, মৃতের সংখ্যা প্রায় অপরিবর্তিত, সার্বিক ভাবে আশাপ্রদ রাজ্যের করোনা-পরিস্থিতি

কলকাতা6 hours ago

কলকাতার সিংহভাগ অভিভাবক চাইছেন না এখনই স্কুল খুলুক: অনলাইন সমীক্ষা

Currency
রাজ্য7 hours ago

রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটাতে ফের সময়সীমা বেঁধে দিল স্যাট

LPG
দেশ8 hours ago

বিনামূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার খুঁজছেন? মাত্র এক সপ্তাহ বাকি! প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আওতায় কী ভাবে পাবেন, জেনে নিন

দঃ ২৪ পরগনা8 hours ago

সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ রোপণে এ বার পরিবেশ-বান্ধব ‘জিও-জুট’ পদ্ধতি

কেনাকাটা

কেনাকাটা1 day ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা4 days ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা1 week ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

কেনাকাটা2 weeks ago

রান্নাঘরের জনপ্রিয় কয়েকটি জরুরি সামগ্রী, আপনার কাছেও আছে তো?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরের এমন কিছু সামগ্রী আছে যেগুলি থাকলে কাজ করাও যেমন সহজ হয়ে যায়, তেমন সময়ও অনেক কম খরচ...

কেনাকাটা2 weeks ago

ওজন কমাতে ও রোগ প্রতিরোধশক্তি বাড়াতে গ্রিন টি

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ওজন কমাতে, ত্বকের জেল্লা বাড়াতে ও করোনা আবহে যেটি সব থেকে বেশি দরকার সেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা...

কেনাকাটা2 weeks ago

ইউটিউব চ্যানেল করবেন? এই ৮টি সামগ্রী খুবই কাজের

বহু মানুষকে স্বাবলম্বী করতে ইউটিউব খুব বড়ো একটি প্ল্যাটফর্ম।

কেনাকাটা4 weeks ago

ঘর সাজানোর ও ব্যবহারের জন্য সেরামিকের ১৯টি দারুণ আইটেম, দাম সাধ্যের মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু তার জন্য বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এ দোকান সে দোকান ঘুরে উপযুক্ত...

কেনাকাটা1 month ago

শোওয়ার ঘরকে আরও আরামদায়ক করবে এই ৮টি সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : সারা দিনের কাজের পরে ঘুমের জায়গাটা পরিপাটি হলে সকল ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সুন্দর মনোরম পরিবেশে...

kitchen kitchen
কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই ৮টি জিনিস কাজ অনেক সহজ করে দেবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজকাল রান্নাঘরের প্রত্যেকটি কাজ সহজ করার জন্য অনেক উন্নত ব্যবস্থা এসে গিয়েছে। তা হলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কষ্ট...

care care
কেনাকাটা1 month ago

চুল ও ত্বকের বিশেষ যত্নের জন্য ১০০০ টাকার মধ্যে এই জিনিসগুলি ঘরে রাখা খুবই ভালো

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পার্লার গিয়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সময় অনেকেরই নেই। সেই ক্ষেত্রে বাড়িতে ঘরোয়া পদ্ধতি অনেকেই অবলম্বন করেন। বাড়িতে...

নজরে