অরিত্র খান, পুষ্টিবিশারদ

হঠাৎ বৃষ্টি।  খরতাপ কিছুটা হলেও বিদায় নিয়েছে। বেড়েছে আর্দ্রতা। গরম কমায় স্বস্তি ফিরেছে। এমন আবহাওয়ায় অনেকের খাওয়ায় রুচি বাড়ে। চা-শিঙাড়া, মুড়ি-চানাচুর নিয়ে আড্ডা জমে বেশ। ঘরে খিচুড়ি-মাংস কিংবা কয়েক পদের মুচমুচে খাবার মুখের স্বাদ বাড়িয়ে দেয় আরও। বৃষ্টির এ আবহাওয়ায় যা খেতে পারেন:

বাড়তি সবজি খান:

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন রঙের সবজি ও ফল শরীর ও ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। এমন আবহাওয়ায় শরীর ঠিক রাখতে সবুজ শাকসবজি খাওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রান্নার আগে শাকসবজি অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। কারণ, এ সময় ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু বেশি থাকে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে বর্ষায় এক ডজন গন্তব্য: খবর অনলাইনের বাছাই

মৌসুমি ফল:

এ সময় বাজারে নানা ফল পাবেন। পেয়ারা, বেদানা, আম, স্ট্রবেরি খেতে পারেন। শরীর ও ত্বকের যত্নে মৌসুমি ফল কাজে লাগবে। এ ছাড়া সবজি হিসেবে গাজর ও মুলো আপনার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে পারেন।

শরীর আর্দ্র রাখুন:

জল আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরীরের ৭০ শতাংশ জল। সতেজ থাকতে শরীরের আর্দ্রতা ঠিক রাখা জরুরি। তাই এ সময় বেশি করে জল খান। এ ছাড়া বিভিন্ন ফলের জুস, হারবাল পানীয় কিংবা চা খেতে পারেন। এ সময় গ্রিন টি দারুণ উপকারী। সর্দি থেকেও রক্ষা করতে পারে।

বেশি করে স্যুপ ও ডাল:

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ডাল খুব উপকারী। অনেক ধরনের সবজি একসঙ্গে করে স্যুপ বা ঝোল করে খেতে পারেন। এতে শরীর সতেজ থাকবে।

আরও পড়ুন:বর্ষায় ভারতে এক ডজন গন্তব্য: খবর অনলাইনের বাছাই

যা খাবেন না:

এ সময়ে শরীরে বদহজমের সমস্যা বেশি দেখা যায় বলে পেট খারাপ হতে পারে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে জীবাণুর আক্রমণ বেশি হয় বলে এ সময় পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপির মতো খাবার না খাওয়াই ভালো। এ সময় মাত্রাতিরিক্ত চা খাবেন না। এ ছাড়া ক্যাফেইন পানীয় এড়াতে হবে। বৃষ্টি-বাদলের এমন দিনে রাস্তার পাশের দোকানে সাজিয়ে রাখা খাবারে জিভে জল আসে। তবে মনে রাখবেন, এসব খাবার এড়িয়ে চলাই উচিৎ। এ ছাড়া বাইরের খাবার খেলে ত্বকের সমস্যা, চুলকানি, অ্যালার্জি হতে পারে। পেট গড়বড়ের আশঙ্কাও থাকে। এমনকি বাড়িতে তৈরি করা জুস বা কাটা ফলও এ সময় দীর্ঘক্ষণ রেখে খাবেন না। মাছ খান, তবে যতটা পারেন সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে যাবেন। এ সময় সামুদ্রিক মাছে জীবাণু বেশি থাকে। যদি খেতেই হয়, তবে তা ভালোমতো রান্না করে তারপর খাওয়া ভালো। এ ধরনের আবহাওয়ায় যতটা সম্ভব ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় মানুষের হজমের গতি কমে যায়। তাই এই ধরনের খাবারে বদহজম ও পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঠান্ডা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। এ ছাড়া দুগ্ধজাত নানা খাবার এ সময় না খাওয়াই ভালো।  এ সময় পরিপাকতন্ত্র বেশি স্পর্শকাতর থাকে বলে পেটে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে এসব খাবার। তবে টক দই খাওয়া যেতে পারে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন