ডাক্তারের চেম্বার থেকে: বর্ষার খাবারদাবার

0
905

অরিত্র খান, পুষ্টিবিশারদ

হঠাৎ বৃষ্টি।  খরতাপ কিছুটা হলেও বিদায় নিয়েছে। বেড়েছে আর্দ্রতা। গরম কমায় স্বস্তি ফিরেছে। এমন আবহাওয়ায় অনেকের খাওয়ায় রুচি বাড়ে। চা-শিঙাড়া, মুড়ি-চানাচুর নিয়ে আড্ডা জমে বেশ। ঘরে খিচুড়ি-মাংস কিংবা কয়েক পদের মুচমুচে খাবার মুখের স্বাদ বাড়িয়ে দেয় আরও। বৃষ্টির এ আবহাওয়ায় যা খেতে পারেন:

বাড়তি সবজি খান:

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিভিন্ন রঙের সবজি ও ফল শরীর ও ত্বকের ওপর প্রভাব ফেলে। এমন আবহাওয়ায় শরীর ঠিক রাখতে সবুজ শাকসবজি খাওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রান্নার আগে শাকসবজি অবশ্যই ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে। কারণ, এ সময় ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু বেশি থাকে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গে বর্ষায় এক ডজন গন্তব্য: খবর অনলাইনের বাছাই

মৌসুমি ফল:

এ সময় বাজারে নানা ফল পাবেন। পেয়ারা, বেদানা, আম, স্ট্রবেরি খেতে পারেন। শরীর ও ত্বকের যত্নে মৌসুমি ফল কাজে লাগবে। এ ছাড়া সবজি হিসেবে গাজর ও মুলো আপনার খাদ্যতালিকায় যুক্ত করতে পারেন।

শরীর আর্দ্র রাখুন:

জল আমাদের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শরীরের ৭০ শতাংশ জল। সতেজ থাকতে শরীরের আর্দ্রতা ঠিক রাখা জরুরি। তাই এ সময় বেশি করে জল খান। এ ছাড়া বিভিন্ন ফলের জুস, হারবাল পানীয় কিংবা চা খেতে পারেন। এ সময় গ্রিন টি দারুণ উপকারী। সর্দি থেকেও রক্ষা করতে পারে।

বেশি করে স্যুপ ও ডাল:

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ডাল খুব উপকারী। অনেক ধরনের সবজি একসঙ্গে করে স্যুপ বা ঝোল করে খেতে পারেন। এতে শরীর সতেজ থাকবে।

আরও পড়ুন:বর্ষায় ভারতে এক ডজন গন্তব্য: খবর অনলাইনের বাছাই

যা খাবেন না:

এ সময়ে শরীরে বদহজমের সমস্যা বেশি দেখা যায় বলে পেট খারাপ হতে পারে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে জীবাণুর আক্রমণ বেশি হয় বলে এ সময় পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপির মতো খাবার না খাওয়াই ভালো। এ সময় মাত্রাতিরিক্ত চা খাবেন না। এ ছাড়া ক্যাফেইন পানীয় এড়াতে হবে। বৃষ্টি-বাদলের এমন দিনে রাস্তার পাশের দোকানে সাজিয়ে রাখা খাবারে জিভে জল আসে। তবে মনে রাখবেন, এসব খাবার এড়িয়ে চলাই উচিৎ। এ ছাড়া বাইরের খাবার খেলে ত্বকের সমস্যা, চুলকানি, অ্যালার্জি হতে পারে। পেট গড়বড়ের আশঙ্কাও থাকে। এমনকি বাড়িতে তৈরি করা জুস বা কাটা ফলও এ সময় দীর্ঘক্ষণ রেখে খাবেন না। মাছ খান, তবে যতটা পারেন সামুদ্রিক মাছ এড়িয়ে যাবেন। এ সময় সামুদ্রিক মাছে জীবাণু বেশি থাকে। যদি খেতেই হয়, তবে তা ভালোমতো রান্না করে তারপর খাওয়া ভালো। এ ধরনের আবহাওয়ায় যতটা সম্ভব ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে চলুন। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় মানুষের হজমের গতি কমে যায়। তাই এই ধরনের খাবারে বদহজম ও পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঠান্ডা কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। এ ছাড়া দুগ্ধজাত নানা খাবার এ সময় না খাওয়াই ভালো।  এ সময় পরিপাকতন্ত্র বেশি স্পর্শকাতর থাকে বলে পেটে নানা সমস্যা সৃষ্টি করে এসব খাবার। তবে টক দই খাওয়া যেতে পারে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here