depression
dr. dipankar ghosh
দীপঙ্কর ঘোষ

রোগী তো মানসিক অসুখ শুনলেই প্রতিবাদে ফেটে পড়ে, “আমি কি পাগল?” মানসিক রোগের বহু ভাগ আছে। কেউ মানসিক ভাবে বেসামাল হয়ে ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা পালন করে, কেউ নিজেকে কন্ডাক্টার ভাবে। কেউ বা ঈশ্বরের বাণী হট লাইনে শুনে ফেলছে। এই সব রোগগুলো শরীরের বিশেষত স্নায়ুতন্ত্রের বিশেষ বিশেষ রাসায়নিক ক্রিয়ার ত্রুটির জন্য ঘটে।

মানুষ মরতে বড়ো ভয় পায়। তাই যদি কারও হার্ট অ্যাটাক হয় বা বড়ো কোনো অসুখ হয়, সেটা যে বয়সেই হোক না কেন, তার মাথায় প্রথম যে কথাটা ঘুরতে থাকবে সেটা হল তা হলে আমার শেষের দিন ঘনিয়ে এসেছে। এবং তার পর তার মনে যে চিন্তাটা আসবে সেটা হল আমার‌ই কেন এই অসুখটা হল? এবং সে প্রতিটি মুহূর্তে ভয়ে কুঁকড়ে থাকবে এই বুঝি আবার ওই অসুখটা হচ্ছে! এ ভাবেই সে ক্রমশ দুশ্চিন্তা আর মানসিক অবসাদে ডুবে যাবে। এর ফলে মানসিক অসুখের থেকে কিছু শারীরিক অসুবিধা দেখা দেবে। যথা ঘুম না হ‌ওয়া বমি হ‌ওয়া, বুকে বা পেটে ব‍্যথা হ‌ওয়া।

আজ্ঞে হ‍্যাঁ মানসিক অবস্থা থেকে শারীরিক কষ্ট হতেই পারে। যেমন ধরা যাকে কেউ কষা মাংস আর রুটি খেতে ভালোবাসে, তার বেশ ভালো খিদে পেয়েছে এবং তাকে রুটি আর কষা মাংস দে‌ওয়া হয়েছে। সেই মুহূর্তে তার কোনো একজন প্রিয়জন নিরুদ্দেশ। তার সন্ধানে এসে সে এমন একটা জায়গায় বসে আছে যেখানে মল-মূত্র পচা গলা মৃতদেহ ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে। সে ওই সুস্বাদু খাবার মুখে তুললে খিদে সত্ত্বেও সব বমি হয়ে যাবে – অথচ তার পেটে কোনো গণ্ডগোল নেই। ভয়ানক মানসিক চাপে অথবা একাকিত্বের কারণে নানান রকমের শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান: বয়ঃসন্ধিকালের যৌনসমস্যা

বহু মানসিক অসুখ আছে যেগুলোতে শারীরিক অসুবিধা ছাড়াই বারবার বমি হয় – প্রায়ই বুকে ব‍্যথা অথবা মাথা ব‍্যথা হয় – দুর্বল লাগে বা শ্বাসকষ্ট হয়। অনেক সময়েই এগুলোকে কখনও হাইপোকন্ড্রিয়াসিস কখনও বা সোমাটাইজেশান বলে অভিহিত করা হয়।

এর পর আসে কর্মজগতের চাপ, শব্দ আর আলোকদূষণ। রাতে ঘুমোতে গেলেও কাচের জানলা দিয়ে হ‍্যালোজেনের তীব্র আলো মস্তিষ্কের ধূসর কোষেদের শান্তিতে বিশ্রাম নিতে দেয় না। সবার ওপরে রয়েছে মোবাইল খেলা। যার জন্য মানুষের আহার-নিদ্রা সব উড়ে গিয়েছে। এই সব কিছুর ফল হল শরীরে অ্যাড্রিনালিনের অতিরিক্ত ক্ষরণ। এটা প্রেসার বাড়ায় এবং সেরেটোনিন ক্ষরণ কমিয়ে দেয়। সেরেটোনিন আমাদের আনন্দে ভরিয়ে রাখে। সুতরাং সেরেটোনিন কমে গেলে মানুষ ক্রমশ বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। সব কিছু মিলিয়ে গভীর অবসাদ, জীবন-বিতৃষ্ণা এবং নেশায় জড়িয়ে পড়া।

আরও পড়ুন স্বাস্থ্য সাবধান: কী হতে পারে অ্যান্টিবায়োটিকের অপব‍্যবহারে

এর সমাধানের জন্য আমাদের স্নায়ু-বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন। অন্য কোনো রকমের মানসিক বা স্নায়ু-রোগ হলেও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন। সেই সব রোগে আক্রান্ত মানুষজনেরা কখনও নিজের পরিচয় ভুলে যান কখনও মনটা দু’ভাগে ভাগ হয়ে যায়। মানসিক রোগ এবং রোগী কাউকেই অবহেলা করবেন না। সময়ে চিকিৎসা করলে বেশির ভাগ রোগী‌ই স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারেন। কখনোই নিজেকে অন‍্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না।

কোনও সময়ে বার বার করে মৃত্যু চিন্তা এলে তখখুনি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, এটা আত্মহত্যা প্রবণতা হতে পারে। সময়ে চিকিৎসা করান – সাবধানে থাকুন।

(লেখক একজন সাধারণ চিকিৎসক)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here