ডাঃ শঙ্কর নাথ, অঙ্কোলজিস্ট

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা একটি সমীক্ষায় জানিয়েছিল ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ ক্যানসারের প্রতিরোধ সম্ভব। আর তার মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্যানসারের প্রতিরোধ সম্ভব শুধু মাত্র খাদ্যাভ্যাস বদলে। আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবারের মধ্যে অনেক কিছুকে বাড়তি বলে ফেলে দিই, ভাবি না হারাচ্ছি অমূল্য রতন। যেমন ধরে নেওয়া যাক শশার খোসা। শশা মোটামুটি ভাবে আমাদের খাদ্যাভাসে নিয়মিত ভাবে ঢুকে পড়েছে, কিন্তু বাদ যায় খোসা। শশার খোসায় রয়েছে স্টেরসল, যা কোলেস্টরল কমায়। তার ফলে রক্ত তথা শরীরের চর্বি কমে। ইনটেসটাইন, ব্রেস্ট আর ইউটেরাস-এর ক্যানসারের ঝুঁকি কমে। ১৯৮১ সালে আর ডল এবং আর পেটো জানালেন ক্যানসারের এক তৃতীয়াংশই খাবারের সঙ্গে সম্পর্কিত। ১৯৬০ সালে জর্জ ওয়েটেল দেখেন আঁশ ও ছিবড়ে যুক্ত খাবার কোলন ক্যানসারের প্রবণতা কমায়। আঁশ খেলে কী লাভ হয়? আমাদের খাদ্যে চর্বি জাতীয় পদার্থের কারণে পৌষ্টিক নালিতে থাকা জীবানুগুলি প্রচুর পরিমাণে ক্যানসার উৎপাদক কারসিনোজেন তৈরি করে। এই কারসিনোজেন আর পিত্তরস ইনটেসটাইনে ক্যানসার সৃষ্টিতে সহায়ক হয়। আঁশ জাতীয় খাবার খেলে ক্ষতিকারক পদার্থ গুলি দ্রুত মলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। সাধারণত ভিটামিন এ,সি,ই, বিটা ক্যারোটিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

  • ভিটামিন সি এর ভাণ্ডার হল মুসুম্বি লেবু বা পাতি লেবু। এছাড়াও লেবু জাতীয় যে কোনও ফল। পেয়ারা আমলকি প্যাংক্রিয়াসে ক্যানসারের প্রবণতা কমিয়ে দেয়
  • ভিটামিন এ রয়েছে টমেটো, ডিম, দুধ, আম, লাল গাজর, মুলো, নটে শাকে। এই ভিটামিন এ ও বিভিন্ন ধরণের ক্যানসার কে গেটআউট বলে সহজেই।
  • ভিটামিন ই রয়েছে মূলত উদ্ভিজ্জ তেলে, এছাড়াও বাদাম, বিভিন্ন শাকপাতাতেও ভিটামিন ই রয়েছে ভিটামিন ই ও বিভিন্ন ক্যানসার রোধে সহায়ক।
  • বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকোলি স্তন ক্যানসার থেকে রক্ষা করে।
  • সিমের মধ্যে রয়েছে আইসোফ্ল্যাভসন যা ক্যানসারের জিন কে ধ্বংস করে।
  • সোয়াবিন প্রোস্টেট, ইনটেসটাইন, স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
  • মাছের মধ্যে থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, মুখ গহ্বর, স্টম্যাক, ভোকাল কর্ড, রেকটাম, লাংস, প্যাংক্রিয়াস, প্রোস্টেট, ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।
  • পিঁয়াজ আর রসুন স্টম্যাক ও পরিপাক তন্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়
  • হলুদে রয়েছে কারকিউমিন যা ইনটেনসটাইন, ব্রেস্ট, লিভার, ত্বক, মুখগহ্বর, স্টম্যাকের ক্যানসারের প্রবণতা কমায়
  • আঙুরের মধ্যে থাকা রেসভেরাট্রল লিমফ্যাটিক গ্ল্যান্ড, স্টম্যাক, ব্রেস্ট ক্যানসারে বাধা দেয়
  • গাজর, কুমড়োতে থাকা বিটা ক্যারোমিন ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

মোটামুটি ক্যানসারের ঝুঁকি কমার বিষয়টি তো জানা গেল। এবার একটু আলোচনা করে নেওয়া যাক কোন ধরণের খাবার ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।

  • ঝোলে ঝালে অম্বলে, কিংবা ব্র্যান্ডেড আচারে প্রিজারভেটিভ হিসেবে ব্যবহার করা হয় নাইট্রেড। এই যৌগটি ক্যানসারের গুরুঠাকুর
  • পান্তুয়া থেকে বিরিয়ানি। রঙ দেওয়া হয় না এমন খাবার কমই আছে। আর এই রঙে থাকে লেড ব্রোমেড, যা ক্যানসারে সহায়ক
  • পায়েস, পিঠে ছেড়ে যে মুহুর্তে চাইনিজ ফুডের দিকে ঢুকলাম সেই মুহুর্তে আমাদের জীবনে ঢুকে পড়ল আজিনামোট যা আদতে সোনোসোডিয়াম গ্লুটামেট। এটি কারসিজেন
  • রেডমিট ইনটেসটাইন বা রেকটামে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় ২৪ শতাংশ
  • ফার্স্ট ফুডে যে তেল ব্যবহার করা হয় তা অত্যন্ত চর্বি জাতীয়। আর ফার্স্ট ফুডে ব্যবহৃত নুন। এখানে সাধারণত দুই প্রকারের নুন ব্যবহৃত হয়। সোডিয়াম লবন ও ক্যালসিয়াম লবন। অতিরিক্ত এই লবন স্টম্যাকের দেওয়ালকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  • সবজিকে রক্ষা করার জন্য অবৈজ্ঞানিক ভাবে ব্যবহৃত কীটনাশক ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়
  • আগুনে ঝলসানো মাংস বা কাবাবের ওপরের বাদামী স্তরে জমা হয় পালিসাইক্লিক অ্যারোমেটিক, হাইড্রোকার্বন। যা নিসন্দেহে কারসিনোজেন
  • কফির অতিরিক্ত অভ্যাস ইউরিনারি ব্লাডারে ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ায়
  • মদ্যপান নিয়ে আলাদা করে নিশ্চই কিছু বলতে হবে না।
  • ফ্যাট বা চর্বিযুক্ত খাবার থেকে প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here