Leafy Vegetables
বর্ষার শাক।
Biswajit Pathak
বিশ্বজিৎ পাঠক

বর্ষাকালে হরেক শাকের আবির্ভাব। কলমি হোক বা পুঁই-নটে-পাট, বর্ষার বাজারে সহজেই মিলে যায়। কিন্তু এই সুস্বাদু এবং সহজলভ্য শাক থেকেই দূরে থাকতে হবে যতটা সম্ভব। নইলে পড়তে হতে পারে অসুখের কবলে। তা সে জ্বর, সর্দিকাশি বা পেটের গোলমাল, যাই হোক না কেন। মূলত বর্ষাকালে জলকাদা বাহিত রোগের হাত থেকে বা আরও স্পষ্ট করে বললে রোগের জীবাণুগুলির হাত থেকে বাঁচতেই শাক থেকে দূরত্ব তৈরি করতে বলা। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কী কারণে শাক বর্ষাকালে রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়-

১. এইসময় জল থেকে বাঁচতে বিভিন্ন পোকামাকড় আশ্রয় নেয় গাছের উপর। মূলত মাটিতে থাকা পোকামাকড়ের দল বড়োসড়ো গাছের থেকে বেশি পছন্দ করে শাকের মতো ছোটো গাছকে। কারণ এতে তারা আশ্রয় ও পায় খাবার দুটোই সহজে পেয়ে থাকে। অন্য দিকে এদের খাওয়ার জন্য মাংসাশী (বিষাক্ত) পোকারাও আশ্রয় করে ওই শাকে।

২. বর্ষাকালে আমাদের শরীরে পিত্ত জনিত সমস্যা দেখা দেয়। ফলে হজমের গোলমাল হতে পারে। স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়ার কারণে শরীরের প্রতিরোধ প্রক্রিয়া দুর্বল থাকায় শরীর সহজেই অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে।

৩. বর্ষায় নদী-নালা, খাল-বিল-পুকুর বা নর্দমা এক হয়ে যায়। ফলে অণুজীব, কৃমি সহজেই অপেক্ষাকৃত কম উচ্চতার শাকপাতায় পৌঁছে যায়। যার ফলে আমাশয়, জিয়ার্ডিয়া, জন্ডিস ও কৃমি রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।

৪. মাটিতে জল বেশি থাকায় গাছ তার প্রয়োজন মতো খনিজ কম পায় তাই তাতে ওষধি গুণ ও খাদ্য গুণ কম থাকে। ফলে স্বাদ মেটানোর বাইরে যে উপকারিতার জন্য আমরা শাক খাই, তার হ্রাস পায় এই বর্ষাকালে।

ভয় এড়াতে শাক খাওয়ার কয়েকটি নিয়ম:

Basellaceae
পুঁইশাক

১. শা্কপাতার উভয় পৃষ্ঠ ভালো করে ধুয়ে নিতে হবে।

২. শাককে তাজা রাখতে রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। এ ক্ষেত্রে রাসায়নিক দূর করতে আধ ঘণ্টা লেবু জলে চুবিয়ে রাখতে হবে। অন্যথায় বর্ষাকালে নুন জলে চুবিয়ে রাখলেও বেশকিছু জীবাণুমুক্ত হয়।

৩. শাকের বুড়ো (অপেক্ষাকৃত পুরনো) পাতা কেটে বাদ দেওয়া ভালো। এতেই পোকামাকড়ের থাকার সম্ভাবনা বেশি।

৪. কাঁচা শাক মোটেই খাওয়া যাবে না বর্ষায়। আবার রান্না করা শাক পরে খেলে সেটাকে খাওয়ার আগে গরম করে নিন।

(লেখক ভেষজ উদ্ভিদ বিশেষজ্ঞ)