Connect with us

শরীরস্বাস্থ্য

বিশ্ব রক্তদান দিবস ২০২০: জেনে নিন স্বেচ্ছা রক্তদানের সাত-সতের

blood donation camp

ওয়েবডেস্ক: ১৪ জুন, রবিবার ‘বিশ্ব রক্তদান দিবস ২০২০’ (World Blood Donor Day 2020)। রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কারী বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টিনারের জন্মদিনও এই বিশেষ দিনটি। নোবেলজয়ী কার্ল আবিষ্কার করেছিলেন রক্তের চারটি গ্রুপ-এ, বি, এবি এবং ও। জেনে নেওয়া যাক স্বেচ্ছা রক্তদান সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য-

রক্তদান করলে কি শরীর দুর্বল হয়ে যায়? রক্তদানের সময় সুচ ফোটালে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কোনো জটিল রোগে? মনের মধ্যে জমে থাকা এমন সব প্রশ্নের উত্তরে শুনে নিন চিকিৎসকেরা কী বলছেন?

চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রতিটা মানুষের শরীরেই থাকে বাড়তি কিছুটা রক্ত। যা আমাদের কোনো কাজেই লাগে না। ফলে রক্তদান শিবিরে রক্তদান করে ওই বাড়তি রক্তটুকুই আপনি তুলে দিতে পারেন কোনো আর্তের হাতে। আসলে রক্তদান করলে শরীর দুর্বল হওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আবার পুরনো রক্ত শরীর থেকে ঝেড়ে ফেলে নতুন রক্তকণিকার জন্ম দিতে সুযোগ করে দেওয়া যায় নিজের শরীরকে।

হ্যাঁ, রক্ত দিতে হলে গায়ে সুচ ফোটাতে হয়। তবে সেটা থেকে রোগসংক্রমণের কোনো সম্ভাবনায় নেই। একশো শতাংশ সুরক্ষিত পদ্ধতিতে গ্রহণ করা হয় রক্ত। প্রতিটি রক্তদাতার জন্যই থাকে সম্পূর্ণ জীবাণুমুক্ত আলাদা আলাদা সুচ।

রক্তদান করলে কি বিশেষ কোনো খাবার খেতে হয়?

মোটেই না। রক্তদানের পর কোনো ওষুধ খেতে হয় না। খেতে হয় না কোনো বিশেষ খাবারও। রক্ত দেওয়ার ২ দিনের মধ্যেই রক্তের জলীয় অংশ তৈরি হয়ে যায় আপনা হতেই। আর ২১ দিনের মধ্যেই রক্তকণিকার ঘাটতিও মিটিয়ে ফেলে শরীর। যে জন্য রক্তদানের কম করে আধঘণ্টা পরেই স্বাভাবিক ভাবেই কাজকর্ম করা যায়। অন্য দিকে রক্তদান করলে পরীক্ষাগারে তার পরীক্ষাও হয়। সেখানে জন্ডিস, হেপাটাইটিস বি,সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইডস-এর পরীক্ষা হয়।

কারও বয়স যদি হয় ১৮ থেকে ৬৫ বছরের মধ্যে তা হলে রক্তদান করতে তেমন কোনো অসুবিধা নেই। তেমনই মাত্র ৪৫ কেজি ওজন হলেই দেওয়া যায় রক্ত। সঙ্গে মনের সুস্থতা নিয়ে অনায়াসেই ভয়কে করা যায় জয়। নেওয়া হয় মাত্র সাড়ে তিনশো মিলিলিটার রক্ত।

রক্ত দেওয়ার সময় সুচ ফোটালে কি লাগে?

মোটেই না। ইঞ্জেকশনের সুচ ফোটালে ঠিক যেমনটা অনুভূতি হয়, এখানেও তাই। না আছে বাড়তি কোনো ব্যথা, না আছে কোনো যন্ত্রণা। উল্টে সেই রক্তে যখন সুস্থ হয়ে উঠবে একটা প্রাণ, সেই অনুভূতি হাতছাড়া করে কী লাভ!

মাথায় রাখা দরকার, রক্ত দেওয়ার পর চার ঘণ্টা পর্যন্ত বেশি করে জল খেতে হয়। স্বাভাবিক জীবনে যে কোনো ধরনের নেশা এড়িয়ে চলাই ভালো। তবুও নেশা ছাড়তে পারেন না অনেকেই। তবে রক্ত দেওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা এড়িয়ে চলা ভালো ধূমপান বা জর্দা পান খাওয়া। তবে হ্যাঁ, ছ’ঘণ্টা পর্যন্ত মদ্যপান থেকে বিরত থাকাই ভালো। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় হালকা কিছু খেয়ে নিতে হবে, ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হবে আর রক্ত দেওয়ার আগে দু’গ্লাস জল খেয়ে নিতে হবে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে বিশেষ সংযোজন

রক্তদাতা এবং ব্ল্যাডব্যাঙ্কের কর্মীদের ফেস মাস্ক, সার্জিক্যাল গ্লাভস পরতে হবে।

তাপমাত্রা মেপে দেখা বাধ্যতামূলক।

৬০ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে এমন স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।

সমস্ত উপকরণ এবং বেড জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৬ ফুটের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

কোনো কোভিড-১৯ উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিকে শিবিরে প্রবেশ করতে দেওয়া যাবে না।

আয়োজক এবং রক্ত সংগ্রহকারীদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য জারি করা সমস্ত স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি সম্বন্ধে অবহিত থাকতে হবে।

  • বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য

শরীরস্বাস্থ্য

ব্রকলি খাবেন কেন? তার ২২টি কারণ জেনে নিন

ব্রকলি

খবরঅনলাইন ডেস্ক: কপি জাতীয় সবজির মধ্যে অন্যতম হল ব্রকলি। বিদেশি সবজি হলেও আজকাল এ দেশেও উৎপাদন হচ্ছে। বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সবুজ রঙের সবজিটি। আগে কন্টিনেন্টাল জাতীয় খাবারেই এর ব্যবহার ছিল। এখন নিজের পছন্দের মশলায় আর সবজির মেলবন্ধনে অনেক রান্নাঘরেই নতুন নতুন স্বাদের সৃষ্টি করে এই সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবারটি।

রান্নার পদ্ধতি যা-ই হোক, খাবারটির পুষ্টিগুণ খাদ্যগুণই হল আসল। সে দিক থেকে ব্রকলির দর কিছু কম নয়। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, নানান ধরনের ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। সঙ্গে ক্যালোরির পরিমাণও খুবই কম। ফলে এটি নিয়মিত খেলে এর উপকারিতা শরীর ও স্বাস্থ্যকে সমৃদ্ধ করে।

এখন বরং দেখে নেওয়া যাক ব্রকলি নিয়মিত খেলে কী কী উপকার হয় –

১। ক্যানসার প্রতিরোধে –

ব্রকলির গুনাগুণ ক্যানসার রোধ করতে পারে। একই সঙ্গে এটি ইমিউন পাওয়ার অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ব্রকলি শরীরে ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাতে সহজে ক্যানসার বাসা বাঁধতে পারে না। ব্রকলি জরায়ু এবং স্তন ক্যানসার, মুখের ক্যানসার প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর।

দেখুন – ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে এ এক যুগান্তকারী আবিষ্কার

২। কোলেস্টেরল কমাতে –

শরীর থেকে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে ব্রকলি। কারণ, এর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা দ্রবণীয় অবস্থায় থাকে অর্থাৎ এই ফাইবার জলে দ্রাব্য। এই ধরনের ফাইবার শরীর থেকে ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল বের করে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রকলি শরীর থেকে ৬% হারে খারাপ কোলেস্টেরল দূর করতে পারে।

৩। মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় –

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করা, স্মৃতিশক্তিও রক্ষা করাতেও সক্ষম ব্রকলি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্রকলিতে সালফোর‍্যাফেইন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে, তাই প্রতি দিন খেলে তা বয়স বাড়ার ফলে স্মৃতিভ্রম রোধ করতে পারে। এর বায়োঅ্যাক্টিভ কম্পাউন্ড মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়।

৪। অ্যালার্জি কমায়

মানবদেহে বিভিন্ন কারণে অ্যালার্জি হয়। অ্যালার্জি এবং প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করতে পারে ব্রকলি। কারণ, ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি অ্যাসিড রয়েছে, এটি প্রদাহ জনিত সমস্যা দূর করে।

৫। বাতের ব্যথায় –

বাতের সমস্যায় খুব ভালো কাজ দেয়  ব্রকলি। কারণ এতে সালফোরাফেইন উপাদান থাকে। এই উপাদানটি হাড় ক্ষয়ে যাওয়ার রোধ করে।

৬। রক্তশূন্যতা দূর করে –

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক কাপ বা ১৫৬ গ্রাম রান্না করা ব্রকলিতে আছে ১ মিলিগ্রাম আয়রন। এই পরিমাণ আয়রন প্রতি দিনের প্রয়োজনের ৬% আয়রনের চাহিদা পূরণ করে। আয়রন রক্তশূন্যতা দূর করতে খুব প্রয়োজনীয়। এ ছাড়া ব্রকলিতে আছে প্রচুর ভাইটামিন । এই ভিটামিন সি আয়রন শুষে নিতে শরীরকে সাহায্য করে।

৭। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের সুফল –

থাকে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট  শরীরকে নানা দিক থেকে সুস্থ রাখে। ব্রকলির মধ্যে থাকা ভিটামিন সি, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়াও, ব্রকলির মধ্যে থাকে ফ্ল্যাবোনয়েড। এটি ভিটামিন সি-এর বিপাকে সাহায্য করে। এ ছাড়াও আছে ক্যারোটেনয়েড লুটেইন, জিয়াকজ্যান্থিন, বিটাক্যারোটিন এবং অন্যান্য অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট।

পড়তে পারেন – দ্রুত ছড়াচ্ছে গোটা বিশ্বে! কী এই করোনা ভাইরাস?

৮। হাড়ের জন্য –

ব্রকলির মধ্যে থাকে ভিটামিন কে এবং ক্যালসিয়াম। এই দুই উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি অস্টিওপোরোসিস হওয়ার আশঙ্কা কমায়। ব্রকলির মধ্যে ক্যালসিয়াম ছাড়াও থাকে ম্যাগনেশিয়াম, জিঙ্ক এবং ফসফরাস। উল্লেখ্য ব্রকলির মধ্যেকার এই সব পৌষ্টিক উপাদান শিশুদের জন্য এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য খুবই উপকারি।

উল্লেখ্য অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ যা সাধারণত ক্যালসিয়াম এবং  ভিটামিনের অভাবে হয়। এতে হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। হাড় ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।  এর সালফোর‍্যাফেইন অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোধ করতে পারে।

৯। গর্ভবতী মহিলা ও ভ্রূণের জন্য –

ব্রকলিতে আছে প্রচুর ভিটামিন বি। বিশেষ করে ভিটামিন বি৯ অর্থাৎ ফোলেট। ভ্রূণের মস্তিষ্ক গঠনের জন্য ফোলেট খুব দরকারি। গর্ভাবস্থায় প্রতি দিন ফোলেট যুক্ত খাদ্য খাওয়া ভালো। তাতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এ ছাড়া যে সকল মা শিশুকে স্তন্যপান করায়, তাদের জন্যও খুবই উপকারী।

১০। হার্ট ভাল রাখতে –

এর খাদ্যগুণ রক্তনালিকে নানান সমস্যায় পড়া থেকে রক্ষা করতে পারে। বিশেষ করে যাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি অর্থাৎ, ব্লাড সুগারের সমস্যা রয়েছে তাদের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। কিন্তু ব্রকলি এই জাতীয় সমস্যাকে প্রতিরোধ করতে পারে। ব্রকলির মধ্যে ফাইবার, ফ্যাটি অ্যাসিড এবং নানান ধরনের ভিটামিন থাকে। এর ফলে, রক্তচাপের সঠিক মাত্রা বজায় থাকে। তা ছাড়া ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল রোধ করতে পারে। এই সবই হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এতে থাকে ভিটামিন বি৬। এই উপাদানটি অথেরোস্ক্লেরোসিস, হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকেরও ঝুঁকি কমায়।

 ১১। ওজন কমাতে –

ওজন কমাতেও সাহায্য করে ব্রকলি। এর মধ্যের প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এই ক্ষেত্রে উপকারী। ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, যা দেহে প্রোটিনের ঘাটতি কমাতে সাহায্য করে।

পড়ুন – পেটের মেদ কমাতে ৫টি খুব সহজ ব্যায়াম

১২। ক্ষত নিরাময়ে –

এক কাপ ব্রকলিতে যে পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সক্ষম। সঙ্গে শরীরের কাটা অংশ এবং ক্ষত নিরাময়েও কার্যকর ভূমিকা নেয়। ইনডোল-৩-কার্বিনোল নামে একটি অতি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে ব্রকলিতে। এটি সার্ভিকল ক্যানসার ও অগ্র গ্রন্থির ক্যানসারের ক্ষেত্রে উপকারী। লিভার ফাংশনের উন্নতি করতেও সাহায্য করে।  

১৩। দূষিত পদার্থ দূর করে –

ব্রকলির একাধিক উপকারি উপাদান শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান বের করতে সাহায্য করে।

১৪। কোষ্ঠকাঠিন্য –  

এর মধ্যেকার ফাইবার পরিপাকে ক্রিয়া ভালো করে। ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। তা ছাড়া রক্তচাপের সঠিক মাত্রা বজায় রাখে। ব্রকলি হল একটি প্রাকৃতিক ডিটক্স, যা পেট এবং পাচনতন্ত্র পরিষ্কার রাখে। এতে প্রচুর ফাইবার ও অ্যন্টি অক্সডেন্ট থাকে বলে তা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। মলত্যাগের সমস্যা দূর হয়।

১৫। ত্বকের যত্নে –

ব্রকলি শুধু ত্বককে উজ্জ্বল রাখতে নয়, ত্বকের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, তার জন্য প্রতিরোধক্ষমতাও গড়ে তোলে। ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে পৌষ্টিক উপাদান ভিটামিন সি, খনিজ উপাদান যেমন জিঙ্ক এবং কপার, ভিটামিন কে, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং ফোলেট ইত্যাদি ত্বকের উপকার করে। রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। ফলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।

১৬। চোখের যত্নে –

ব্রকলির মধ্যে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে। এ ছাড়াও থাকে ভিটামিন এ, ফসফরাস এবং অন্যান্য ভিটামিন যেমন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন সি এবং ই। এই সব উপাদান চোখের ক্ষেত্রে দারুণ ভাবে উপকার করে। এ ছাড়াও, চোখের নানা রকম রোগ এবং সমস্যা দূর করে। এমনকি দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে।

১৭। দাঁত ও মুখের রোগে –

এতে থাকা ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম দাঁতের রোগের ঝুঁকি কমায়। ব্রকলির ক্যামফেরল নামক ফ্ল্যাভনয়েড পেরিওডেন্টাইটিস রোধ করে। ব্রকলির সালফোর‍্যাফেইন মুখের ক্যানসারেরও আশঙ্কা কমায়।

১৮। বয়স ধরে রাখতে –

ব্রকলির মধ্যে যে সকল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, তা শরীরকে বাইরে থেকে শুধু নয় ভিতর থেকেও সুস্থ রাখে। ভিটামিন সি বয়স ধরে রাখে, বিভিন্ন ফ্রি র‍্যাডিকাল প্রতিরোধ করে। এ ছাড়াও ব্রকলি খেলে ত্বকে বলিরেখা, মেচেতা, ব্রণ ইত্যাদি দূর হয়। ব্রকলিতে থাকা গ্লুকোরাফানিন ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকের টিসু মেরামত করে। তারুণ্য ধরে রাখে। বুড়িয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ বয়স বৃদ্ধির প্রধান কারণ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস মেটাবলিক ফাংশান কমে যাওয়া। এর বায়ো অ্যক্টিভ কম্পাউন্ড সালফোর‍্যাফেইন বয়সের বৃদ্ধির গতি কমাতে পারে।

১৯। স্নায়ু ও পেশির জন্য –

ব্রকলিতে রয়েছে অনেক পটাশিয়াম। এই পটাশিয়াম স্নায়ুতন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করে, সুস্থ এবং রোগমুক্ত রাখে। তা ছাড়া পেশির বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে। অপটিমাল ব্রেন ফাংশন রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রেও এর ভূমিকাও অপরিসীম।

২০। রক্তচাপ –

 এতে ম্যাগনেশিয়াম আর ক্যালশিয়ামও রয়েছে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

২১। মধুমেহ –

রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্রকলি উপকারী। এটি চিনির প্রভাব রোধ করে ও রক্তে শর্করার মাত্রা কম করে।

২২। মানসিক চাপ  –

নিয়মিত ব্রকলি খেলে তার খাদ্য ও পুষ্টিগুণে মানসিক চাপ কম হয়।

আরও পড়ুন – যৌবন ধরে রাখতে চান? এই ৯টি খাবার অবশ্যই খান

Continue Reading

খাওয়াদাওয়া

প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে রোজের খাদ্যতালিকায় অবশ্যই রাখুন এই খাবারগুলি

food

খবরঅনলাইন ডেস্ক :  করোনাকালে সব থেকে বেশি দরকার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানো। তা হলে এই ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দরকার উপযুক্ত খাবারেরও। কয়েকটি খাবার নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়বেই বাড়বে।

১। রসুন –

এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ধমনীতে দূষিত পদার্থ জমতে দেয় না। রক্ত সংবহনতন্ত্র সংকীর্ণকারী উৎসেচক নির্গত হওয়া কমায়।

২। চকোলেট –

শুনলে অবাক হবেন না, চকোলেটও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খুব সাহায্য করে। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের আশঙ্কা কমায়। হাভার্ডের একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, নিয়মিত বিশুদ্ধ কোকো খেলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে ও হাইপারটেনশন হয় না।

৩। আমন্ড –

এটি কগনেটিভ ফাংশনকে ভালো করে, হৃদরোগ হতে দেয় না। খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

৪। বেদানা –

রক্তনালি সাফ রাখতে সাহায্য করে বেদানা। প্রচুর অ্যান্টিওক্সিডেন্টে ভরপুর তাই অক্সিডেন্ট জমতে দেয় না। প্রস্টেট ক্যানসার, মধুমেহ, স্ট্রোক ইত্যাদির আশঙ্কা কমায়।

৫। বিট –

যদিও শীতকাল ছাড়া পাওয়া একটু সমস্যা। তবুও বিট স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজ রয়েছে এতে।

৬। হলুদ –

হলুদের তুলনা হয় না। হৃদযন্ত্র বড়ো হয়ে যাওয়া আটকায় হলুদ। উচ্চ রক্তচাপ কমায়, মোটা হয়ে যাওয়া আটকায়। খাদ্যগুণ অসীম।

৭। আপেল –

এতে আছে প্রচুর পরিমাণ মিনারেল, অ্যান্টিওক্সিডেন্ট, ভিটামিন। হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়, উচ্চ রক্তচাপ কমায়।

৮। বেগুন –

নাম বেগুন হলেও গুণ অপরিসীম। ফ্ল্যাবোনয়েড, খনিজ, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে প্রচুর। হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়।

৯। ব্রকলি –

রক্তনালির ক্ষমতা বাড়ায়, খারাপ কোলেস্টেরল কমায়। রয়েছে অ্যান্টিইনফ্লেমটারি উপাদান। ব্ল্যাড সুগার সংক্রান্ত সব রকম সমস্যা কমায়।

১০। গাজর –

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে অন্যতম খাদ্য গাজর। প্রচুর খনিজ ও ভিটামিন রয়েছে। ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। হাড় ও হৃদযন্ত্রের ক্ষমতা বাড়ায়।  

পড়ুন – করোনা কালে হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এই ১০টি খাবার অবশ্যই খান

Continue Reading

খাওয়াদাওয়া

করোনা কালে হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এই ১০টি খাবার অবশ্যই খান

food

খবরঅনলাইন ডেস্ক : শুধু করোনা প্রতিহত করতে নয়, সার্বিক ভাবেই হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করা দরকার। তাতে অনেক সমস্যার হাত থেকে রেহাই পাওয়া যায়। আর হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে হলে নিয়ম মেনে জীবনযাপনের পাশাপাশি দরকার কিছু এমন খাবার খাওয়া যা হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করতে বিশেষ ভূমিকা নেয়। এমন খাবার আমাদের চারপাশে অনেকই আছে। তার মধ্যে দশটি আজ দেখে নেওয়া যাক –

১। ছোলা বা চানামটর –

দেখতে ছোটো হলেও গুণ অনেক। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, নানান পুষ্টিগুণ, পটাশিয়াম, ভিটামিন ইত্যাদি। এর খাদ্যগুণে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমে, হৃদরোগের আশঙ্কা কমে।

২। কফি –

কফি কম না বেশি কতটা খাওয়া উচিত তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কফি কিন্তু হৃদযন্ত্রের জন্য খুবই ভালো। উপযুক্ত পরিমাণ কফি সেবন হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেল, করোনারি ডিজিজ ইত্যাদির আশঙ্কা কমায়।  

৩। ক্র্যানবেরি –

বেরি জাতীয় এই খাবারটি খেতেও সুস্বাদু, গুণেও ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও খনিজ। এটি বহু রকমের হৃদরোগ, ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন, দাঁতের সমস্যা, স্টম্যাক আলসার এবং ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়।

৪। ডুমুর –

তেমন কদর না দিলেও ডুমুরের উপকারিতা কিন্তু প্রচুর। হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে এর তুলনা নেই। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ফাইবার রয়েছে। কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষেত্রেও এর তুলনা নেই। 

৫। ফ্লেক্স সিড –

যারা মাছ ও বাদাম খান না তাদের জন্য ফ্লেক্স সিড আদর্শ। এই খাবারগুলির অভাব পূরণ করতে অর্থাৎ ওমেগা থ্রি পেতে হলে ফ্লেক্স সিড। হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যরক্ষায় এটি উপকারী। এতে আছে প্রচুর ইস্টোজেন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খনিজগুণ।  

৬। লাল ক্যাপসিকাম –

এটি হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। এটি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

৭। আদা –

যাঁরা নিয়মিত আদা খান তাঁদের জন্য সুখবর। আদা কার্ডিওভাসকুলার রোগের আশঙ্কা কমায়। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করে, করোনারি হার্ট ডিজিজের আশঙ্কা কমায়।

৮। গ্রিন টি –

শরীর ও হৃদযন্ত্র সতেজ করে। প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পানীয়। ট্রাইগ্লিসারয়েড, কোলেস্টেরল, এলডিএল কমায়। সুতরাং হৃদযন্ত্রকে স্বাস্থ্যবান করতে গ্রিন টি খুবই ভালো।  

৯। কিডনি বিনস –

অনেকে একে শিম বীজও বলে থাকেন। এতে ম্যাগনেশিয়াম, ফোলেট, প্রোটিন, ফাইবার রয়েছে প্রচুর পরিমাণে। খুব কম পরিমাণ ফ্যাট। সব রকম হৃদরোগ, ক্যানসারের আশঙ্কা কমায়।

১০। কমলা লেবু –

এতে প্রচুর ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, খনিজ পদার্থ, ফাইবার রয়েছে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

দেখতে পারেন – বাতের ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন? এই ৮টি খাবার খাদ্য তালিকায় অবশ্যই রাখুন

Continue Reading
Advertisement
রাজ্য36 mins ago

এ বার মাস্ক না পরলে শাস্তি‍! নতুন নির্দেশিকা রাজ্য়ের

ক্রিকেট42 mins ago

২০১১ বিশ্বকাপ কাণ্ড: ম্যাচ গড়াপেটার তদন্ত বন্ধ করল শ্রীলঙ্কা

দেশ1 hour ago

নাগাল্যান্ডে নিষিদ্ধ হল কুকুরের মাংস

দেশ1 hour ago

রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, রেল বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে ট্রেড ইউনিয়নগুলি

দেশ3 hours ago

‘বিস্তারবাদ’ অতীত, বিশ্বে এখন ‘বিকাশবাদ’ প্রাসঙ্গিক, লাদাখে বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

gst
শিল্প-বাণিজ্য3 hours ago

জিএসটি-তে বড়োসড়ো স্বস্তি, কমল জরিমানা

দেশ4 hours ago

এক মাসে ভারত-বাংলাদেশ পণ্যবাহী শতাধিক ট্রেন চলেছে

thunderstorm
রাজ্য4 hours ago

কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গে সন্ধ্যার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

নজরে