Connect with us

দোল উৎসব

শান্তিপুরে বিগ্রহবাড়ির দোলযাত্রার পাশাপাশি গোপালপুজো এক অন্য মাহাত্ম্য বহন করে

শান্তিপুরের দোল উৎসবে বিগ্রহবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো। এই পুজোগুলির বিশেষত্ব হল বিরাট আকৃতির গোপাল বিগ্রহের পুজো।

Published

on

বড়োগোস্বামী বাড়ির রাধারমণ এবং শ্রীমতী।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

সামনেই দোলযাত্রা। আপামর বাঙলির কাছে দোলযাত্রা এক অন্য রকম অনুভূতির উৎসব। সকলেই আবির মেখে বসন্তের উৎসব পালন করে, কেউ নিজের প্রিয়জনদের সঙ্গে, আবার কেউ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে। আর এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাড়ির ঠাকুরদালানও সেজে ওঠে আবিরে-রঙে-গুলালে। প্রাচীন পরিবারগুলিতে রাধাকৃষ্ণের দোলযাত্রা যেন এক মিলনক্ষেত্র রচনা করে যা এই বাংলার এক অন্যতম সংস্কৃতি।

Loading videos...

দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শান্তিপুরে এক বিরাট মহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন বাড়িতে রাধাকৃষ্ণের দোল হয় এবং পাশাপাশি বিরাট বিরাট গোপালের বিগ্রহপুজো – এ যেন এক অন্য রকম মুহূর্ত, যা শান্তিপুর প্রতি বছরই উপহার দেয় আমাদের। শান্তিপুরে পূর্ণিমায় দোলযাত্রা ছাড়াও পঞ্চমদোল, সপ্তমদোল, রামনবমীতে দোল ইত্যাদি পালিত হয়।

বিগ্রহবাড়ি, বারোয়ারি উৎসব ছাড়াও শান্তিপুরে শ্যামচাঁদ মন্দিরের দোল বিখ্যাত। তবে এই মন্দিরে দোল উৎসব পালিত হয় পূর্ণিমার পরের দিন, প্রতিপদে। দোলের দিন সন্ধ্যায় হয় চাঁচর পোড়ানো এবং পরের দিন ভোগ, নামসংকীর্তনের শেষে সন্ধ্যায় শ্যামচাঁদকে নিয়ে এক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে আসা অগণিত ভক্ত ভিড় করেন রাস্তার দু’ ধারে।

গোকুলচাঁদ বাড়ির দোল।

বড়োগোস্বামী বাড়ির দোলযাত্রাও বিখ্যাত শান্তিপুরে। এই বাড়িতে চার দিন দোল উৎসব পালিত হয়। দোলপূর্ণিমার দিন শ্রীশ্রীরাধারমণের দোল উৎসব পালিত হয়। আগের দিন রাসমঞ্চের সামনের প্রাঙ্গণে চাঁচড় পোড়ানো হয়। পরের দিন দোলমঞ্চে ওঠেন রাধারমণ এবং শ্রীমতী, বিশেষ পূজা হয়। দোল উপলক্ষ্যে বিশেষ সাজসজ্জা হয় তাঁদের। দুপুরে বিশেষ ভোগ নিবেদন হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, চাটনি, পায়েস ইত্যাদি। সন্ধ্যায় আবার শ্রীশ্রীরাধারমণকে দোলমঞ্চে এসে বসানো হয়, বিকাল থেকে শুরু হয় নামসংকীর্তন।

দোলপূর্ণিমার পঞ্চমী তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় পঞ্চমদোল। ওই দিন মদনমোহন-শ্রীমতীকে দোলমঞ্চে আনা হয় এবং রীতি মেনেই সেবাপূজা হয়ে থাকে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্য সুদীপ্ত গোস্বামী। দু’ দিন পরে সপ্তমদোল। এর একটি বিশেষত্ব আছে। তা হল এই দিনের দোলকে ‘সীতানাথের দোল’ও বলা হয়ে থাকে। কারণ ওই দিন শ্রীঅদ্বৈতাচার্যকে কেন্দ্র করে দোল উৎসব পালন করা হয়। বিশেষ পূজারও আয়োজন করা হয়ে থাকে।

বড়োগোস্বামী বাড়িতে রামনবমীর দিনও দোল উৎসব পালিত হয় রামচন্দ্রকে কেন্দ্র করে। তিন দিনব্যাপী রামনবমীর দোল ও মেলা বেশ সাড়ম্বরেই পালিত হয়। এ বছরও নিয়ম মেনেই পালিত হবে বড়োগোস্বামী বাড়ির দোল, এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

মুখোপাধ্যায় বাড়ির গোপাল।

শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের প্রপৌত্র ঘনশ্যাম গোস্বামী থেকেই মধ্যমগোস্বামী বাড়ির উৎপত্তি হলেও অধস্তন তৃতীয়পুরুষ রঘুনন্দন গোস্বামীই ছিলেন এই বংশের প্রাণপুরুষ। এই বাড়ির দোল উৎসবও খুবই প্রাচীন, বর্তমানে তা ‘গোকুলচাঁদের দোল’ বলেই পরিচিত। দোল উৎসবের আগের দিন চাঁচড় পোড়ানো হয় এবং পরের দিন সকালে দেবদোল অনুষ্ঠিত হয়।

গোকুলচাঁদ বাড়ির দোলমঞ্চের হাওদায় বিরাজ করেন শ্রীশ্রীরাধাগোকুলচাঁদ জিউ। পরিবারের সকলে তাঁদের আবির দেন এবং চলে দোলপূর্ণিমার বিশেষ পূজা। সেই সঙ্গে পালিত হয় মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেবের জন্মতিথি উৎসব। অতীতে এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে লাঠিখেলা, পুতুলনাচ, নাটক ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হত। তবে বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে শুধু দোল উৎসবটুকুই পালিত হয় মধ্যমগোস্বামী বাড়িতে।

শান্তিপুরের প্রাচীন পাগলাগোস্বামী ঠাকুরবাড়ির দোলযাত্রাও খুব বিখ্যাত। এই বাড়ির আদিপুরুষ অদ্বৈতাচার্যের চতুর্থ পুত্র বলরামের দশম পুত্র কুমুদানন্দ গোস্বামী ছিলেন পণ্ডিত ব্যক্তি। এক সময় তিনি কৃষ্ণনগর রাজবাড়ি কর্তৃক প্রদত্ত সম্পত্তি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এই পরিবারের দুই বিগ্রহ কৃষ্ণরায় জিউ এবং কেশবরায় জিউ-এর দোল উৎসব তাঁদের মন্দিরেই অনুষ্ঠিত হয়।

মদনগোপাল বাড়ি।

কথা হচ্ছিল পরিবারের সদস্য তন্ময় গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, দোলপূর্ণিমার আগের দিন চাঁচর পোড়ানো হয় এবং পরের দিন ভোরবেলা দেবদোল অনুষ্ঠিত হয়। দেববিগ্রহ মন্দিরের সামনে হাওদায় বিরাজ করেন এবং পরিবারের সকল সদস্য তাঁদের আবির দেন। দেবদোলের সময় ঠাকুরকে বাল্যভোগ নিবেদন করা হয় এবং তার পর পরিবারের কুলপুরোহিত এসে পূর্ণিমার বিশেষ পূজা শুরু করেন।

তন্ময়বাবুর কাছে আরও জানা গেল যে তাঁরা গরমকালের বিভিন্ন রান্নার পদ ঠাকুরকে নিবেদন করার আগে গ্রহণ করেন না। তাই এই দোলের দিন ভোগে সেই সমস্ত রান্নার পদ নিবেদন করা হয়। তার পর তাঁরা সবাই সেই পদগুলি খেতে পারেন।

শান্তিপুরের আর এক প্রাচীন বাড়ি মুখোপাধ্যায় বাড়ি ‘চাঁদুনীবাড়ি’ নামে পরিচিত। এই বাড়িতেও দোল উৎসব পালিত হয়। তবে এখানে হয় গোপালের দোল। কথা হচ্ছিল চাঁদুনীবাড়ির সদস্য সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই গোপালের বয়স প্রায় ২৫০ বছর। চাঁদুনীবাড়ির এক সদস্যা এই গোপালকে পান তাঁদেরই এক শাখার সদস্যদের কাছ থেকে। সেই বাড়িতে তিনি সিন্দুকে ছিলেন। মুখোপাধ্যায় বাড়ির সদস্যরা তাঁকে এনে পুজো শুরু করেন। এই গোপাল অষ্টধাতুর তৈরি। তাঁর নিত্য সেবাপূজা হয়। তবে পরিবারের কোনো সদস্য তাঁকে স্পর্শ করতে পারেন না যে হেতু তাঁর সঙ্গে পরিবারের প্রাচীন শ্রীশ্রীনারায়ণ জিউও থাকেন।

দোলের আগের দিন চাঁচর পোড়ানো হয়। রাজবেশে সুসজ্জিত হয়ে সেখানেও উপস্থিত থাকেন গোপাল। পরের দিন দেবদোলের পর বাড়ির সদস্যরা গোপালকে আবির দেন। দুপুরে স্নানের পর ভোগ নিবেদন হয়। ভোগে থাকে সাদাভাত, পোলাও, নানা রকমের ভাজা, তরকারি, মিষ্টি ইত্যাদি। তার পর সন্ধ্যায় আরতি ও শীতলভোগের পর গোপাল আবার নিজ গর্ভগৃহে ফিরে যান।

শান্তিপুরের বড়োগোপাল।

শান্তিপুরের দোল উৎসবে বিগ্রহবাড়ির পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজো। এই পুজোগুলির বিশেষত্ব হল বিরাট আকৃতির গোপাল বিগ্রহের পুজো। এই বিশেষ ধরনের নাড়ুগোপালের বিগ্রহ শান্তিপুরের মৃৎশিল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গোপালের বর্ণ হয় মূলত আকাশি বা গোলাপি। কৃষ্ণের বাল্যবয়সের এই অপূর্ব বিগ্রহই পুজো হয় শান্তিপুরের দোল উৎসবে। বিভিন্ন নামে বিভিন্ন অঞ্চলের গোপাল পরিচিত, যেমন – বড়োগোপাল, মেজোগোপাল, ছোটোগোপাল, থ্যাবড়াগোপাল, ধেড়েগোপাল, ননীচোরা ইত্যাদি।

বিরাট আকৃতির গোপাল ঠিকই কিন্তু এত সুন্দর শিশুসুলভ মুখশ্রী যা প্রতিটি দর্শনার্থীর মন কাড়ে। শিশুদের মঙ্গলকামনায় অথবা সন্তানলাভের জন্য বহু ভক্ত পুজো দিয়ে থাকেন গোপালের কাছে। দোলের দিন গোপালদের পরানো হয় সোনা-রুপোর গহনা যা শান্তিপুরের চিরাচরিত প্রথা বলেই পরিচিত। দোলের পর দিন শোভাযাত্রা সহকারে গোপালের বিসর্জন হয়। দোলযাত্রাকে কেন্দ্র করে শ্রীধাম শান্তিপুরের এই প্রাচীন রীতিনীতি বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিকে গৌরবান্বিত করে।

আরও পড়ুন: Dolyatra 2021: শ্রীশ্রীগোপীনাথকে কেন্দ্র করে দোলের দিন মেতে ওঠেন শোভাবাজার ছোটো রাজবাড়ির সদস্যরা

দোল উৎসব

কলকাতার নন্দনবাড়িতে তিনশো বছর ধরে চলেছে গোপীনাথের দোল

গোপীনাথ নন্দনবাড়ির কুলদেবতা নন। তিনি এসেছিলেন শম্ভুচরণ পাত্রের পরিবার থেকে।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

রাত পোহালেই দোল। এই উৎসব বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে অতি প্রাচীন কালে থেকেই পালিত হচ্ছে। তুলনায় নবীন শহর কলকাতাতেও তার প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই এই উৎসব পালিত হয়। কলকাতার বহু বনেদিবাড়িতে আজও তাদের কুলদেবতাদের নিয়ে দোলযাত্রা পালন করা হয়।

Loading videos...

ঠাকুরদালানে দশভূজার জাঁকজমক থাকলেও রাধাকৃষ্ণের দোল উৎসবও কোনো অংশে কম যায় না। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর অঞ্চলের নন্দন পরিবারের দোল উৎসবও খুবই প্রাচীন। প্রচলিত লোককথায় এই বাড়ির গোপীনাথ আনুমানিক তিনশো বছরের প্রাচীন। সেই গোপীনাথকে কেন্দ্র করেই পালিত হয় দোলযাত্রা।

এই পরিবারের দোল উৎসব পালিত হয় গোপীনাথ, শ্রীধর এবং শ্রীরাধারমণকে কেন্দ্র করে। পরিবারে দুর্গাপুজো হলেও দোল উৎসবও সাড়ম্বরেই পালিত হয় বলে জানালেন পরিবারের সদস্য সৌভিক নন্দন। তবে গোপীনাথ নন্দনবাড়ির কুলদেবতা নন। তিনি এসেছিলেন শম্ভুচরণ পাত্রের পরিবার থেকে। শম্ভুচরণ পাত্রের কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় তিনি তাঁর সেজো মেয়ে বন্দনা দেবীকে গোপীনাথের সেবার দায়িত্বভার দেন। বন্দনা দেবী বিবাহসূত্রে নন্দনবাড়ির কুলবধূ হওয়ায় গোপীনাথও চলে আসেন এই পরিবারে।

এই গোপীনাথ অষ্টধাতু দ্বারা নির্মিত বিগ্রহ। নিত্যপূজায় তাঁকে নানা রকমের মিষ্টান্ন, চিঁড়ে, খই, দই, তাম্বুল সহযোগে ভোগ দেওয়া হয়। দোলপূর্ণিমার আগের দিন হয় ন্যাড়াপোড়া, পরের দিন ভোরবেলায় হয় দেবদোল।

তবে গোপীনাথের পঞ্চমদোল উৎসবই ধুমধাম করে পালন করা হয়। সারা দিন দোল খেলার পর বিকেলে অভিষেক হয় দুধ, দই, ডাবের জল, মধু ইত্যাদি নানা উপাচারে। তার পর রাজবেশে সেজে ওঠেন তিনি। এ দিন কোনো অন্নভোগ হয় না। তাই নানা রকমের মিষ্টি, ফুটকড়াই ইত্যাদি দিয়েই ভোগ দেওয়া হয়। এ বছরও একই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে পুজো হবে বলেই জানালেন পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: দোলপূর্ণিমার সন্ধ্যায় নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে গঙ্গাবারি দিয়ে মহাপ্রভুর অভিষেক করতে পারেন সব ভক্তই

Continue Reading

দোল উৎসব

দোলপূর্ণিমার সন্ধ্যায় নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে গঙ্গাবারি দিয়ে মহাপ্রভুর অভিষেক করতে পারেন সব ভক্তই

এ বছর মহাপ্রভুর ৫৩৬তম আবির্ভাবতিথি।

Published

on

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দোলপূর্ণিমা বঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে এক অতি পুণ্য তিথি। তবে এই পূর্ণিমা আপামর বৈষ্ণবসমাজের কাছে গৌরপূর্ণিমা হিসাবেই বেশি পরিচিত। এই দিনই জগন্নাথ-পত্নী শচীর কোল আলো করে জন্মগ্রহণ করেছিলেন নিমাই, পরবর্তী কালে যিনি হয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য।

Loading videos...

পণ্ডিতেরা বলেন, ১৪৮৬ বঙ্গাব্দের দোলপূর্ণিমা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যদেব। তাই এই দিনটিতে নবদ্বীপের বিভিন্ন মন্দিরে যে পুজো হয়, তার মূলে থাকেন পরম প্রেমময় নিমাই। সারা বছর তিনি আপামর ভক্তের কাছে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু বা ‘রাধাকৃষ্ণের মিলিত তনু’ শ্রীচৈতন্য হলেও এই একটি দিনে তিনি কেবলই সদ্যোজাত শিশু নিমাই। প্রতি বছর নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে সাড়ম্বরে পালিত হয় নদিয়াবিহারীর আবির্ভাবতিথি। করোনা-আবহে এ বারেও তার অন্যথা হচ্ছে না।

মহাপ্রভুকে বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হত। শ্রীঅদ্বৈতাচার্যের পত্নী সীতাঠাকুরানি মহাপ্রভুকে নিমগাছের নীচে জন্মগ্রহণ করতে দেখে নিমাই বলে ডাকতেন। মহাপ্রভুর গৌরবর্ণ দেখে প্রতিবেশীরা গৌরহরি বলে ডাকতেন। আবার তিনি জগতের ধারণ ও পোষণ করবেন বলে জ্যোতিষ-শাস্ত্রবিদ্ চক্রবর্তী মহাশয় তাঁকে বিশ্বম্ভর নামে অভিহিত করেন। অন্য দিকে তিনি শ্রীকৃষ্ণাবতার এবং জীবকে চৈতন্য দান করবেন বলে এসেছেন, এমনটাই মনে করতেন কেশব আচার্য। তাই তিনি তাঁকে শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য আখ্যা দেন। যে নামেই তাঁকে অভিহিত করা হোক না কেন, দোলপূর্ণিমা তিথিতে তিনি আমাদের আদরের নিমাই।

সোনার গৌরাঙ্গ।

এ বছর মহাপ্রভুর ৫৩৬তম আবির্ভাবতিথি। এই দিনটি সকলের কাছে খুবই মাহাত্ম্যপূর্ণ। কথা হচ্ছিল প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামীর সঙ্গে। তিনি জানালেন, শ্রীনিত্যানন্দ মহাপ্রভুর দশমপুরুষ প্রভুপাদ শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র গোস্বামী বিদ্যারত্ন প্রথম নবদ্বীপে এসে শ্রীবাস অঙ্গনে সেবা পেয়েছিলেন এবং তার পর থেকেই গোস্বামী পরিবারের সদস্যরা এই শ্রীবাস অঙ্গনের সেবার দায়িত্বভার পান। তার আগেও এই শ্রীবাস অঙ্গনে মহাপ্রভুর বিগ্রহ থাকলেও সেবা খুব মলিন ছিল। তার পর প্রভুপাদ শ্রীনবদ্বীপচন্দ্র গোস্বামী এসে নিজের হাতে মহাপ্রভুকে সেবা করেন। নবদ্বীপচন্দ্রের পুত্র প্রভুপাদ শ্রীপ্রতাপচন্দ্র গোস্বামী নবদ্বীপে সোনার গৌরাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন।

প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামীর সঙ্গে কথায় কথায় জানা গেল, মহাপ্রভুর সময়কার শ্রীবাস অঙ্গনে সেই সময় মাটির মন্দির ছিল। পরবর্তী কালে নাটমন্দির সহ মূল মন্দির তৈরি করা হয়। প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামীর কথায় এই মন্দিরের বয়স প্রায় ১৫০ বছর।

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর জন্মের পাঁচশো বছরের বেশি পরেও চৈতন্যধামে দোলের দিন শুধু মহাপ্রভুর আবির্ভাব উৎসব পালিত হয়। এ বছর শ্রীবাস অঙ্গনে শনিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হবে মহোৎসব, চলবে ২ এপ্রিল অবধি। প্রথম দিন সন্ধ্যায় অধিবাস সম্পন্ন হবে। গৌরপূর্ণিমার দিন সকালে নগরকীর্তন নবদ্বীপের বিভিন্ন মন্দির পরিক্রমা করবে, এমনটাই জানালেন প্রভুপাদ শ্রীনিধি গোস্বামী। দোলপূর্ণিমার দিন সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ উঠলেই বেজে উঠবে শতেক শাঁখ, ঘণ্টা, মৃদঙ্গ ইত্যাদি। শুরু হয়ে যাবে মহাপ্রভুর মহাভিষেকপর্ব, পঞ্চামৃত এবং সুগন্ধি অভিষেকবারির মাধ্যমে। এই সময় সব ভক্তই মহাপ্রভুকে গঙ্গাবারির মাধ্যমে অভিষেক করাতে পারেন শ্রীবাস অঙ্গনে। অভিষেকের পর প্রভুকে রাজবেশ পরানো হয়।

ধামেশ্বর মহাপ্রভু।

পর দিন ধামেশ্বর মহাপ্রভুর মতনই শ্রীবাস অঙ্গনেও পালিত হয় প্রভুর অন্নপ্রাশন। লালচেলিতে শিশু সাজে। ধামেশ্বর মহাপ্রভুর দুর্লভ দর্শনে ভক্তেরা আসেন শিশুর খেলনা নিয়ে। খাদ্য তালিকায় তরকারি থেকে মিষ্টি, সবই থাকে ৫৬ রকম করে। সেই দিন শ্রীবাস অঙ্গনে সাধুসেবার পাশাপাশি বরানগর পাঠবাড়ির রামদাস বাবাজি মহাশয়ের অনুগত ভক্তবৃন্দের দ্বারা স্বপ্নবিলাস কীর্তন হবে। কীর্তনের রেশ ধরে উৎসবের সুর ছড়িয়ে পড়েছে মহাপ্রভুর পাড়ার ঘরে ঘরে –

“জয় শচীনন্দন জয় গৌরহরি/বিষ্ণুপ্রিয়া প্রাণনাথ নদীয়াবিহারী।”

উৎসবের তিন দিন ধরে অহোরাত্র নামসংকীর্তন এবং ভাগবতপাঠ হয়। শ্রীবাস অঙ্গনে পঞ্চমদোলই মূল অনুষ্ঠান হিসাবে পালিত হয়। আগের দিন চৌষট্টি মহন্তের ভোগ হয় এবং সেই দিন প্রতাপচন্দ্র প্রভুর ছোটো পুত্র চৈতন্যচন্দ্র গোস্বামীর তিরোভাব তিথি উপলক্ষ্যে সূচক-কীর্তনও হয়। পঞ্চমদোলের সকালে হোলি-কীর্তন এবং রাত্রে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভু এবং নিত্যানন্দ প্রভুর বিগ্রহ নিয়ে নগর সংকীর্তন বের হয়। এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর আবির্ভাবতিথি পালিত হয় নবদ্বীপের শ্রীবাস অঙ্গনে।

এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে শ্রীবাস অঙ্গনে নানান বিধিনিষেধ থাকছে। প্রভুপাদ শ্রীবাস গোস্বামী জানালেন, শ্রীবাস অঙ্গনে ভক্তদের জন্য মাস্ক, স্যনিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে। শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই ভক্তদের আসতে হবে এ বার। মহাপ্রভুর অভিষেকের দিনও মন্দিরে ভক্তের ভিড় এড়াতেই লাইনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে ইত্যাদি।

শুধুমাত্র শ্রীবাস অঙ্গনেই নয়, গৌরপূর্ণিমার দিন চৈতন্য বিগ্রহের প্রতীক হিসাবে জগন্নাথ মিশ্রের গৃহে পূজিত ‘রাজরাজেশ্বর’ শিলাকে ১০৮ ঘড়া জলে স্নান করানোর পর ষোড়শোপচারে হয় অভিষকপর্ব। গৌরাঙ্গদেবকে পরানো হয় শিশুর চেলি।

আরও পড়ুন: শ্রীপাট খড়দহে শ্যামসুন্দরের দোল এক অন্য ঐতিহ্য বহন করে

Continue Reading

কলকাতা

কলুটোলার মতিলাল শীলের বাড়িতে ধুমধাম করে পালিত হয় পঞ্চমদোল

মতিলাল শীল তাঁর কলুটোলার বাসভবনে শ্রীধর জিউ ও শ্রীলক্ষ্মীঠাকুরানিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

Published

on

কলুটোলায় মতিলাল শীলের বাড়ি।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

দোল হল মিলনের উৎসব। এক সঙ্গে সবাই মিলে আবিরে আবিরে রঙের উৎসব পালন করে। এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মন্দিরে, এমনকি বনেদিবাড়ির ঠাকুরদালানেও এখন সাজোসাজো রব। তবে  সব বাড়িতেই যে দোলপূর্ণিমাতেই উৎসব হয় তা নয়, কোনো কোনো বাড়িতে পঞ্চমদোল আবার কোনো কোনো বাড়িতে সপ্তমদোলও পালিত হয় মহাসমারোহে।

Loading videos...

উত্তর কলকাতার কলুটোলা অঞ্চলের মতিলাল শীলের বাড়িতে পঞ্চমদোল উৎসব পালিত হয়। শীলবাড়ির নাম করলেই যাঁর নাম প্রথমে মনে আসে, তিনি হলেন দানবীর মতিলাল শীল, যিনি আর্থিক অনটনের মধ্যে বড়ো হলেও পরবর্তী কালে নিজ ক্ষমতায় আর বুদ্ধিবলে প্রভূত উন্নতি করেন। ইতিহাসবিদের মতে, সেই সময় এমন কোনো ব্যবসা ছিল না, যেখানে মতিলাল শীল বিনিয়োগ করেননি।

তবে মতিলাল শীলের জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হল সমাজসংস্কার। বিধবাবিবাহ প্রচলন এবং সতীদাহ রদের আন্দোলন নিয়ে তখন উত্তাল বাংলা। চলছে রাধাকান্ত দেব ও রামমোহন রায়ের মধ্যে আদর্শগত বিরোধও। ঠিক সেই সময়ে ধর্মসভার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তিনি বিধবাবিবাহের উপযোগিতা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মতিলাল।

কথা হচ্ছিল শীলবাড়ির সদস্য ইন্দ্রপ্রসাদ মল্লিকের সঙ্গে। তিনি জানালেন, মতিলাল শীল তাঁর কলুটোলার বাসভবনে শ্রীধর জিউ ও শ্রীলক্ষ্মীঠাকুরানিকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এঁদেরই পঞ্চমদোল পালিত হয় শীলবাড়িতে।

চাঁচড়ের পাশে শ্রীধর জিউ।

কৃষ্ণাচতুর্থীর দিন সন্ধ্যায় শ্রীধর জিউ ঠাকুরঘর থেকে দালানে আসেন এবং সেখানে হোম হয়। তার পর উঠোনে যেখানে চাঁচড় বাঁধা থাকে সেখানে যান। সেখানে পুজো, ভোগ ইত্যাদি নানা নিয়ম পালনের পর বাড়ির সকল সদস্য শ্রীধর জিউ সমেত চাঁচড় প্রদক্ষিণ করেন এবং তার পর চাঁচড় পোড়ানো হয়। ন্যাড়াপোড়ার পর ঠাকুর আবার দোলমঞ্চে আসেন এবং সেখানেই সারা রাত থাকেন।

এই দোল উৎসবকে কেন্দ্র করে শীলবাড়িতে ঠাকুরের ভোগের জন্য তৈরি হয় নাড়ু, পানতুয়া, গুড়ের মালপোয়া, ক্ষীরের মালপোয়া, খাস্তা কচুরি, নিমকি, লুচি-সহ আরও নানা পদ।

পঞ্চমীর দিন ভোরবেলা দেবদোল অনুষ্ঠিত হয় এবং তার পর পরিবারের সদস্যরা ঠাকুরকে আবির দেন। দেবদোলের পর শ্রীধর আবার ঠাকুরঘরে চলে যান এবং তার পর আবার আসেন দোলমঞ্চে, সেখানেই দোলের ভোগ নিবেদন আরতি ইত্যাদি হয়।

দালানে শ্রীধর জিউ।

তবে শ্রীধর দালানে উপস্থিত থাকলেও লক্ষ্মীঠাকুরানি ঠাকুরঘরেই থাকেন। তিনি কেবলমাত্র দুর্গাপুজোর সময় দালানে আসেন। দোলের দিন সন্ধ্যায় আরতির আগে প্রাচীন প্রথা মেনে ব্রাহ্মণ-বিদায় হয়। বংশপরম্পরায় তাঁরা এখনও বিদায় নিতে আসেন। এই ভাবে ঐতিহ্যের সঙ্গে দোল উৎসব পালিত হয় কলুটোলার শীলবাড়িতে।

আরও পড়ুন: শ্যামরায় ও রাধাকান্তের দোল নিয়ে মেতে থাকেন সাবর্ণ চৌধুরীরা

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
ক্রিকেট5 mins ago

ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে হার কেন? অদ্ভুত যুক্তি দিলেন টিম পেইন

মুর্শিদাবাদ17 mins ago

অনাস্থার আগেই মুর্শিদাবাদের জেলা সভাধিপতির পদ থেকে পদত্যাগ শুভেন্দু-ঘনিষ্ঠর

রাজ্য30 mins ago

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত মরণোত্তর দেহ ও অঙ্গদান আন্দোলনের পথিকৃৎ ব্রজ রায়

Coronavirus Delhi
দেশ51 mins ago

Coronavirus Second Wave: সংক্রমণের হার ১৪ শতাংশে, সংক্রমণ নামল ১০ হাজারে, অভাবী রাজ্যগুলিকে অক্সিজেন দিয়ে সাহায্য করতে চায় দিল্লি

delhi pollution
পরিবেশ1 hour ago

পরিবেশগত ভাবে সব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্বের ২০ শহরের মধ্যে ১৩টি ভারতে

ধর্মকর্ম2 hours ago

Religious Places in Bengal: কালীক্ষেত্র কালীঘাট

দেশ2 hours ago

Corona Lockdown: বিহারে লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে ২৫ মে, ঘোষণা নীতীশ কুমারের

শিল্প-বাণিজ্য3 hours ago

জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক অবিলম্বে ডাকা হোক, নির্মলা সীতারমনকে চিঠি অমিত মিত্রের

Madhyamik examination west bengal
শিক্ষা ও কেরিয়ার2 days ago

Madhyamik 2021: আপাতত সম্ভব নয় মাধ্যমিক পরীক্ষা, সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পর্ষদ

বিজ্ঞান2 days ago

জানেন কি, কোভিড থেকে সুস্থ হওয়ার পর অ্যান্টিবডিগুলি কত দিন পর্যন্ত রক্তে থেকে যায়

দেশ2 days ago

Covid Crisis: সংক্রমণের ধার কমাতে একটি বিশেষ ওষুধে ছাড়পত্র দিল গোয়া, খেতে হবে সবাইকে

বিজ্ঞান2 days ago

রক্তের গ্রুপের উপর কি কোভিড আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, গবেষণায় জানাল সিএসআইআর

প্রযুক্তি2 days ago

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোভিড অ্যাপ, সহজে জানা যাবে যাবতীয় তথ্য

শরীরস্বাস্থ্য1 day ago

করোনার এই দুঃসহ সময়ে অক্সিজেন বিপর্যয়ের সহজ সমাধান দিলেন বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল

দেশ2 days ago

Corona Update: দৈনিক সংক্রমণকে ছাপিয়ে গেল সুস্থতা, দু’মাস ধরে টানা বৃদ্ধির পর অবশেষে কমল সক্রিয় রোগী

দেশ2 days ago

Covid Crisis: অক্সিজেনের অভাবে ১১ কোভিডরোগীর মৃত্যু অন্ধ্রপ্রদেশের হাসপাতালে

ভিডিও

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 months ago

বাজেট কম? তা হলে ৮ হাজার টাকার নীচে এই ৫টি স্মার্টফোন দেখতে পারেন

আট হাজার টাকার মধ্যেই দেখে নিতে পারেন দুর্দান্ত কিছু ফিচারের স্মার্টফোনগুলি।

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 months ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা4 months ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা4 months ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা4 months ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা4 months ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা4 months ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা4 months ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

নজরে