holi
smita-das
স্মিতা দাস

দোল বা হোলির সঙ্গে রাধাকৃষ্ণের দোল যাত্রার একটা সংযোগ যে আছে সে কথা মোটামুটি সকলেই জানি। আবার ভগবান বিষ্ণু আর তাঁর শ্রেষ্ঠ ভক্ত প্রহ্লাদকে স্মরণ করেও রঙের উৎসব পালন হয়। তেমনই দেশের বিভিন্ন অংশে এই হোলি নানা ভাবে নানা নামে পালন করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে যেমন দোল বা বসন্ত উৎসব তেমনই গোয়া, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড-সহ অনেক রাজ্যেই এই উৎসব পালিত হয় কিন্তু অন্য নামে আর অন্য পদ্ধতিতে।

কুমায়ুনের খাড়ি হোলি – উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুনে হোলি উৎসবের নাম খাড়ি হোলি। তা ছাড়া বৈঠকি হোলি বা মহিলা হোলি নামেও পরিচিত। এর বিশেষত্ব হল ছেলেমেয়েরা ট্র্যাডিশনাল পোষাক পরে খাড়ি গান গায় আর দোল বেঁধে নাচ করে। বৈঠকি হোলিতে বসে এক জায়গায় বসে আসর করে গান গাওয়া হয়। আবার মহিলা হোলি বিশেষত মহিলাদের।

পঞ্জাবের হোলা মোহল্লা  – যোদ্ধাদের দোল খেলা দেখতে হলে দেখতে হবে পঞ্জাবের হোলা মোহল্লা। মানে এ-ও হোলিরই অন্য  একরূপ। নিহাং শিখরা মূলত এই ভাবে দোল উৎসব পালন করেন। দোলের পরের দিন এরা দলবেঁধে মার্শল আর্ট প্রদর্শন করে, গান গায়। গুরু গোবিং সিং এই ভাবে হোলি খেলার প্রচলন করেছিলেন।

লাঠ মার হোলি – উত্তরপ্রদেশে হোলিতে রঙের সঙ্গে সঙ্গে থাকে লাঠিও। ভাবছেন তো দোল খেলতে লাঠি আবার কী হয়? আসলে এখানের একটা প্রথা অনুযায়ী মহিলারা লাঠি নিয়ে পুরুষদের তাড়া করে। তা বলে এমন ভাববেন না যে লাঠি পেটা করা হয়। এটা একটা প্রথা মাত্র। মহিলারা শ্রীকৃষ্ণের পৌরানিক গোপিনীদের মতো সাজেন আর পুরুষরাও সেই মতোই বেশভূষা পড়েন। এখানকার রাধারাণি মন্দির থেকে খেলা শুরু হয়। উত্তরপ্রদেশের বরসনা, বৃন্দাবন, মথুরা, নন্দগ্রামে এই রীতিমেনেই হোলি খেলা হয়ে আসছে এখনও।

udaipur

রাজস্থানের রাজকীয় হোলি – রাজস্থানের উদয়পুরের রাজ পরিবারে রাজকীয় ভাবে হোলি পালিত হয়। বিশাল বড়ো শোভাযাত্রা করা হয়। শোভাযাত্রা শেষ হলে তার পর হোলিকা দহন করা হয়। তার পর রঙের খেলা।

ইয়াওসাং – মণিপুরের হোলির নাম ইয়াওসাং। এই উপলক্ষ্যে বাঁশের ছোটো কুঁড়ে ঘর বানানো হয়। তাতে শ্রীচৈত্যের জন্মদিন পালন করা হয়। পুজো করা হয়। তার পর থাবাল চোংবা মানে একটা আঞ্চলিক নাচ করা হয়। তারপর শুরু হয় রঙের খলা। পালিত হয় দোল পূর্ণিমা থেকে শুরু করে পরবর্তী ছয় দিন ধরে। ‘দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন’ এর প্রতীক হিসেবে এখানে এই ইয়াওসাং হোলি পালিত হয়ে আসছে।

assam

ফাকুওয়া – আসমে হোলির নাম ফাকুওয়া। এখানের হোলি পশ্চিমবঙ্গের হোলির মতোই পালন করা হয়। আগের দিন হোলিকা পোড়ানো হয়। পরের দিন রঙের উৎসব।

bihar

ফাগুয়া – বিহারের ফাগুরার কথা অনেকেই জানি। এখানেও ব্রজধামে রাধাকৃষ্ণের প্রেম ভালোবাসার কথা মনে করেই হোলি খেলা হয়। রং খেলার পর গাওয়া হয় আঞ্চলিক গান। ফাল্গুন মাসে হয় বলে ফাগুয়া নামে পরিচিত। ফাগুয়া একটা ভোজপুরি শব্দ।

man pyramid

রং পঞ্চমী – মহারাষ্ট্র আর মধ্যপ্রদেশে দোল উৎসব রং পঞ্চমী নামে বিখ্যাত। সিনেমার পর্দায় এই রং পঞ্চমীর অনেক দৃশ্যই অনেকে দেখেছে। মানুষের পিরামিড তৈরি করে। অনেক ছেলে মিলে গোল করে দাঁড়ায়। তাদের পিঠের ওপর কিছু, তারও ওপর কিছু এই ভাবে মানুষের মই বানিয়ে অবশেষে এক জন সব থেকে ওপরে উঠে উঁচুতে বাঁধা দই-এর হাঁড়ি ভাঙে। হোলিকা দহনের পাঁচ দিন পরে হোলি খেলা হয়।

সিগমো – ছোট্টো রাজ্য গোয়ার হোলি উৎসবের নাম সিগমো। এটি শিশিরোৎসব নামেও পরিচিত। ফাল্গুন মাসের পূর্ণিমার দিন মানে দোলের দিন একগানকার কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষরা তাদের ঐতিহ্যবাহী পোষাক করে নাচ গান করে। এই প্রথা চলে আসছে বহু যুগ যুগান্তর ধরেই। এই উৎসবে শামিল হন বহু পর্যটকও।

মাঞ্জাল কুলি – উত্তর ভারতে হোলির যতটা চল আছে দক্ষিণ ভারতে ততটা নয়। তবুও কিছু কিছু এলাকায় হোলি পালন করা হয়। কেরালার এই উৎসব মাঞ্জালা কুলি নামে পরিচিত। গোসরপুরম তিরুমালার কঙ্কনি মন্দিরে এই উৎসবের সূচনা হয়।

বসন্ত উৎসব – সবশেষে আসি পশ্চিমবঙ্গে। এখানে হোলি দোল বা বসন্ত উৎসব নামেও পরিচিত। শান্তিনিকেতনে নাচ গানের মধ্যে দিয়ে দোল উৎসব পালিত হয়। আবিরের সঙ্গে ব্যবহার করা হয় নানা রঙের ফুল।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন