BharatMata
ভারতমাতা। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ওয়েবডেস্ক: পরাধীন ভারতে যখন স্বাধীনতাই এক মাত্র কাম্য, সেখানে স্থান ছিল না কোনোও সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদী মানসিকতার প্রশ্রয় দেওয়ার। তবে হ্যাঁ, স্বাধীনতা যখন প্রত্যেকেই চাইছে, তখন চাইবার ধরন যে একই প্রকৃতির হবে, সেটাও আশা করা যায় না। সে বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে বিশদ। কিন্তু চিত্র সমালোচক থেকে বহুবিধ মতের রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের কাছে সর্বজনগ্রাহ্য হয়ে ওঠা ভারতমাতা ছবিটি সঞ্চার করেছিল অন্য এক আবেগ।

১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের বছরে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এঁকেছিলেন এই ভারতমাতা। যেখানে মায়ের মাথা কাশ্মীরে আর পায়ের পাতা কন্যাকুমারীতে। মাথার উপর পাহাড়ের চূড়ার মতো সোনার মুকুট অন্য দিকে পায়ের পাতা ধুয়ে দিচ্ছে নীল সাগরের জল। মুখে সর্বজয়ী অথচ স্নেহময়ী বহির্প্রকাশ অনবদ্য ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন চিত্রকর অবনীন্দ্রনাথ। দেশ কী ভাবে মায়ের রূপ নেয়, সেটাই অবনীন্দ্রনাথ রং-তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছিলেন।

BharatMata
ভারতমাতা। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

পরাধীন দেশের অত্যাচারিত-নিপীড়িত যুব সম্প্রদায়কে উজ্জীবিত করতে তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদ বিস্তার করতে এই ছবি হয়ে উঠেছিল অব্যর্থ। যে মা শিশুকে প্রতিপালন করে, খিদে মেটায় সেই মায়ের শরীরে যখন শৃঙ্খল- তা মোচনের দায়িত্ব তো সন্তানেরই। ওই ছবিতে মা এবং দেশ মিলেমিশে একাকার হয়ে যাওয়াই, ছবিটির সর্বজনপ্রিয় হয়ে ওঠার মূল কারণ হিসাবে মনে করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতার পথ কেন বেছে নিয়েছিলেন বামপন্থীরা?

তবে কোনো কোনো মহল থেকে ওই ছবি সমালোচিত যে হয়নি, তা নয়। হিন্দুধর্মের দেবীর আগলে সৃষ্টিকে একটা মহল থেকে অবশ্য ততটা ভালো চোখে দেখা হয়নি। যদিও তা শিল্পীস্বত্বায় আঘাত হানতে ব্যর্থ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন