ভারতের জাতীয় পতাকা।

ওয়েবডেস্ক ৭২তম স্বাধীনতা দিবস পালনের তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে সারা দেশ জুড়ে। আর মাত্র চার দিন। তার পরেই আসবে সেই ক্ষণ, ভারতবাসী পালন করবে স্বাধীনতা দিবস। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, এমনকি গৃহস্থের বাড়িতে তোলা হবে জাতীয় পতাকা। কিন্তু যে জাতীয় পতাকা উত্তোলন নিয়ে এত আয়োজন, সেই পতাকার বিবর্তনের ইতিহাসটি কি আপনারা জানেন?

যে চেহারায় আমরা আজকের জাতীয় পতাকা দেখি, সেই চূড়ান্ত চেহারায় আসার পথে ছ’ বার বদল ঘটেছে পতাকার। এবং এই পরিবর্তন হয়েছে ৪০ বছর ধরে। সেই পরিবর্তনের রূপ দেখার জন্য এক বার পিছনে ফিরে তাকানো যাক।

১৯০৬

জাতীয় পতাকা ১৯০৬

ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় ১৯০৬ সালের ৭ আগস্ট, কলকাতার পার্সি বাগান স্কোয়ারে (এখনকার গ্রিন পার্ক)।

১৯০৭

জাতীয় পতাকা ১৯০৭।

পরের বছরই প্যারিসের  ভিকাজি কামায় ফের জাতীয় পতাকা তোলা হয় এবং সে বছরেই বার্লিনে সোশ্যালিস্ট কনফারেন্সেও তোলা হয় সেই পতাকা। আগের পতাকার সঙ্গে খুব একটা তফাত ছিল না সেই পতাকার। ওপরের স্ট্রিপে পদ্মফুলের বদলে ছিল তারা। আর ওপরের সবুজ স্ট্রিপের বদলে গেরুয়া স্ট্রিপ আর নীচে লাল স্ট্রিপের বদলে ছিল সবুজ স্ট্রিপ।

১৯১৭

জাতীয় পতাকা ১৯১৭

দশ বছর পর আবার পরিবর্তন। এই নিয়ে তিন বার। এ বারের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় হোম রুল মুভমেন্টের সময়। পতাকা তোলেন ড. অ্যানি বেসান্ত এবং লোকমান্য তিলক। এই পতাকায় ছিল পাঁচটি লাল এবং চারটি সবুজ স্ট্রিপ, সমান্তরাল ভাবে। এর ওপর সপ্তঋষির প্রতীক হিসাবে সাতটি তারা সুপারইমপোজ করা এবং বাঁ দিকের কোনায় ইউনিয়ন জ্যাকের প্রতিচ্ছবি।

১৯২১

জাতীয় পতাকা ১৯২১।

১৯২১ সালে বিজয়ওয়াড়ায় সারা ভারত কংগ্রেস কমিটির সভায় নতুন জাতীয় পতাকা তোলা হয়। গান্ধীজিকে এই পতাকা উপহার দেন অন্ধ্রের এক যুবক। গান্ধীজির পরামর্শেই এই পতাকায় সাদা স্ট্রিপ ও চরকা ঢোকানো হয়। পতাকায় দু’টি রঙ লাল ও সবুজ, দু’টি সম্প্রদায়ের প্রতীক হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছে, হিন্দু ও মুসলমান।

১৯৩১

জাতীয় পতাকা ১৯৩১

ত্রিবর্ণরঞ্জিত পতাকা আমাদের জাতীয় পতাকা হিসাবে গ্রহণ করার জন্য ১৯৩১-এ একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। জাতীয় কংগ্রেস আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পতাকাকে স্বীকৃতি দেয় এবং ওই বছরের ৩১ আগস্ট পতাকা উত্তোলন করা হয়।

১৯৪৭

জাতীয় পতাকা ১৯৪৭

শেষ পর্যন্ত দেশের জাতীয় পতাকা চূড়ান্ত রূপ পায় ১৯৪৭ সালের ২২ জুলাই। ওই বছরেরই ১৫ আগস্ট দেশের প্রথম স্বাধীনতা দিবসে কাউন্সিল হাউসে ওই পতাকা উত্তোলন করা হয়।

১৬ বছর আগে কংগ্রেসের গৃহীত পতাকার সঙ্গে চূড়ান্ত পতাকাটির একটাই তফাত – মাঝে সাদা স্ট্রিপে চরকার বদলে অশোক চক্র। গেরুয়া, সাদা ও সবুজ স্ট্রিপ সমান চওড়া। মাঝে অশোক চক্রটি নীল রঙের। গেরুয়া, সাদা ও সবুজ কীসের প্রতীক তা আমরা সবাই জানি। তবু আর একবার উল্লেখ করলে মহাভারত অশুদ্ধ হবে না। গেরুয়া – ত্যাগ ও সেবার প্রতীক, সাদা – শান্তি ও পবিত্রতার প্রতীক এবং সবুজ – তারুণ্য, নির্ভীকতা ও কর্মশক্তির প্রতীক।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন