British ruling India
ছবি: ইন্টারনেট থেকে

ওয়েবডেস্ক: আরও একটা স্বাধীনতা দিবসের আবহে স্বাভাবিক ভাবেই চলে আসে স্মৃতিচারণার সহজাত ইচ্ছে। ২০১৮ সালের ভারতে যখন অর্থনীতিই উন্নয়নের এক মাত্র মাপকাঠি তখন এ কথাও জানতে ইচ্ছে করে ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে এ দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশ কেমন ছিল?

ভারতবর্ষ নদীমাতৃক দেশ। স্বাভাবিক ভাবেই এ দেশের অর্থনীতি কৃষিনির্ভর। কৃষি এবং কৃষিজাত পণ্যের উপর নির্ভরশীল শিল্পই ছিল এ দেশের অর্থনীতির মূলচালিকা শক্তি। কিন্তু ব্রিটিশদের পূর্বসূরি ভারত শাসকরা সে অর্থে উন্নত কারিগরি বিদ্যার উপর ততটা জোর দেয়নি।

১৬০০ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতে একচেটিয়া বাণিজ্য সনদ লাভ করে। অবশ্য কয়েক বছরের মধ্যেই ওই বাণিজ্যিক সংস্থা এ দেশে আধিপত্য বিস্তারের কাজ শুরু করে।  দিল্লির শাসক  ঔরঙ্গজেবের মৃত্যুর পর (১৭০৭) মুঘল শাসনের দুর্বলতাও প্রকটতর হতে শুরু করে। যার সুদূরপ্রসারী ফলশ্রুতিতে ১৭৫৭ সালে পলাশির প্রান্তরে সিরাজদ্দৌল্লার সঙ্গে যুদ্ধ এবং ইংরেজ সেনাপতি ক্লাইভের হাতে ভারত বিজয়ের সূত্রপাত।

ইতিহাসবিদদের মতে, সে সময় ব্রিটিশ শাসকেরা ভারতের একটি অনুন্নত অর্থনীতির সম্মুখীন হয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: ভারতের প্রথম ছাত্রী সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলায়, করেছিলেন বিপ্লবী লীলা নাগ

প্রথমত রাজনৈতিক ঐক্য না থাকায় অষ্টাদশ শতাব্দীর ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং পুঁজির সঞ্চয় ছিল অত্যন্ত নিম্ন মানের। যদিও পাশ্চাত্য লেখকদের এই যুক্তি জাতীয়তবাদী যুক্তির বিপরীতমুখী। তাঁরা মনে করেন, ভারতীয় অর্থনীতি ব্রিটিশদের কাছে ছিল অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং লাভদায়ক।

দ্বিতীয়ত, পাশ্চাত্য লেখকরা মনে করেন, ১৮০০ সাল পর্যন্ত এ দেশের বহু জমি অনাবাদী হয়ে পড়েছিল। তামাক, আলু, বাদাম ইত্যাদির চাষ ব্রিটিশরাই ভারতে প্রবর্তন করে বলে তাঁদের দাবি।

তৃতীয়ত, শিল্পে উন্নতি করার মতো কারিগরি দক্ষতা সে সময় ভারতে ছিল না বলে এই শিল্পোন্নয়নের ব্যাপারটাও ছিল অধরা। বস্ত্র শিল্প উন্নত থাকলেও এর নেপথ্যে বিশেষ কোনো কারিগরি ছিল না। 

আরও পড়ুন: বিস্মৃতপ্রায় বিভি দল, যে দলের সদস্য ছিলেন রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানের নায়ক

চতুর্থত, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল না পর্যাপ্ত। যে কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য বা শিল্পায়নের প্রশ্নও ওঠেনি। পরে রেলপথ বা সড়কপথ নির্মাণ হলে সেই সমস্যা কেটে যায়। নতুন দিশার আবির্ভাব হয়।

তবে ভারতের অর্থনীতির এই দুর্বলতাগুলি ব্রিটিশদের চোখ দিয়ে দেখা। মূলত ডব্লিউ এইচ মোরল্যান্ড বা মরিস ডি. মরিসের মন্তব্য থেকেই তথ্যগুলি প্রচারিত হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন জাতীয়তাবাদী নেতৃত্বের সঙ্গে যা সাজুয্যপূর্ণ নয়।

সূত্র: ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ক্রমপর্যায় এবং বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তক থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা প্রতিবেদন। কোনো তথ্যই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন