queen Victoria's proclamation

ওয়েবডেস্ক: ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের পরই ভারতবর্ষে কোম্পানির শাসনে যবনিকা পড়ে। ‘অ্যান অ্যাক্ট ফর দ্য বেটার গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া’ নামের একটি আইন পাশ করে তদানীন্তন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। সেই আইনেই কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে চালু হয় ইংল্যান্ডের মহারানি ভিক্টোরিয়ার শাসন। ভিক্টোরিয়ার হাতে ভারতের শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত হওয়ার পর সেই ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা এলাহাবাদের দরবারে পাঠ করে সমগ্র ভারতবাসীকে অবহিত করা হয়। সেটাই ছিল ভিক্টোরিয়ার ঘোষণা পত্র। কী ছিল তাতে?

এলাহাবাদের দরবারে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধি হিসাবে যুক্ত ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং ওই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। বলা হয় অনেক কিছুই। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য এবং দেশীয় রাজ্যগুলির শাসকদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলি নিয়েই ভারতের তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তমুল আলোড়নের সৃষ্টি হয়। যেমন-

দেশীয় রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে যাবতীয় দায়িত্ব ব্রিটিশ সরকার বহন করবে। বদলে দেশীয় রাজাদের সঙ্গে আগেকার সন্ধি অথবা শর্তগুলি ব্রিটিশরা মেনে চলবে। আবার অন্য দিকে এটাও বলা হয়, দেশীয় রাজাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকার নাক গলাবে না। কিন্তু ওই রাজ্যগুলিতে সিংহাসনের উত্তরাধিকার সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হলে ব্রিটিশ সরকারই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। পাশাপাশি ভারতবাসীর সামাজিক অধিকারেও ব্রিটিশ সরকার কোনো রকম হস্তক্ষেপ করবে না।

আরও পড়ুন টানা ১৭ বছর ২৬ জানুয়ারিতে পালিত হয়েছে ভারতের স্বাধীনতা দিবস

ফলে মহারানির ঘোষণাপত্রের আগাপাশতলা যেমন ছিল দেশীয় রাজ্যগুলির ক্ষমতা খর্ব করার প্রয়াস, তেমনই ছিল নিজেদের প্রভাব বিস্তারের কৌশল। দেশীয় রাজা-প্রজা উভয়কেই আশ্বস্ত করার অদম্য ইচ্ছা নিয়েই প্রকাশিত হয়েছিল ওই ঘোষণাপত্র। যার ব্রিটিশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপগুলিতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ইতিহাস বলে, পরবর্তীকালে ওই প্রতিশ্রুতিগুলির কোনওটিই বাস্তবায়িত হয়নি। সবটাই ছিল প্রতিশ্রুতিভঙ্গের খেলা মাত্র!

(বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাবলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য)

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন